২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী

“বনায়ন পশুপাখি, বিভিন্ন প্রাণী কীটপতঙ্গের জন্য নিরাপদ বাসস্থান কিংবা প্রয়োজনীয় আহারের যোগান দিতে পারে কি না, এটিও কিন্তু আমাদের চিন্তার মধ্যে থাকা প্রয়োজন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 03:02 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলতে সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, “বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যত গ্রিন দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এটার সাথে নিশ্চয়ই আপনারা এই ঘরে উপস্থিত কেউ আমার সাথে ডিফার করবেন না, সবাই নিশ্চয়ই আপনারা একমত হবেন।  

“একটা সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে আমি কিছুদিন আগেও বলেছিলাম যে, এখানে একজন বলেছেন…একটা সন্তান আমাদের পরিবারে—আমাদের নিজেদের হোক, আত্মীয়স্বজন হোক— একটা পরিবারের নতুন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমরা যদি সবাই মিলে তার জন্য তাকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি।

“তাহলে প্রতিটা প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণ রাখি; তাহলে একটা নবজাতকের পাশাপাশি একটা গাছ যেমন বেড়ে উঠবে, সেই ছোট্ট শিশুটি আস্তে আস্তে বেড়ে উঠবে এবং এভাবেই সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন সফলতা লাভ করবে।”

বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান এবং বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালের একটি ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমি লন্ডনে যেই পাড়াটায় থাকতাম, আমার তিন-চারটি বাসা পরে একটা বাসা ছিল। তিনতলা বাসা। সেই বাসায় সামনে দুটি গোলাপ গাছ ছিল দরজাটার দুপাশে। 

“গোলাপ গাছগুলো —ক্লাইম্বিং রোজ যেটাকে বলে; গোলাপ গাছগুলো বেড়ে বেড়ে অলমোস্ট তিনতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। একদিন বাসার যে মালিক ওর সাথে আমার দেখা হল। আমি বললাম যে তোমার এই গাছগুলো খুব সুন্দর। বেশি দূর থেকে খুবই সুন্দর লাগে দেখতে।

“ভদ্রলোকের তিনটা সন্তান। তিনি বললেন, ‘যখন আমার যেই সন্তান জন্ম হয়েছে, আমি তখন তার নামে একটা করে গাছ লাগিয়েছি …দুটো সামনে আছে, একটা বাসার পিছনে আছে’। তিনটা গাছ এখন বড় হয়ে গেছে প্রায় তিনতলার সমান হয়ে গেছে…দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। 

“সেদিন থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, দেশে ইনশাল্লাহ ফিরলে আমার পক্ষে কখনো সুযোগ হলে এই কথাটি আমি বলার চেষ্টা করব। আমি সেজন্যই আজকে আপনাদের সামনে এই কথাগুলো আমি তুলে ধরলাম।”

সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবে আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সরকার গঠন করার পরে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলেন্টিয়ারিজম চালু করার একটা পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। 

“কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকা নিউজ এসছে স্কুলগুলোতে। একসাথে স্কুলের একটা প্রোগ্রাম ছিল, একসাথে প্রায় ৯০ হাজার এর মত গাছ বিভিন্ন স্কুলে সেদিন রোপণ করা হয়েছে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভারনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। সরকারের এই উদ্যোগগুলো যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যকর এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠন করতে ইনশাল্লাহ সক্ষম হব।”

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবছর জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

‘দেশ হোক সকল প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষ মেলার যে আয়োজন, এটা যেমন বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটা নিরাপদ বিনিয়োগ বলে আমি মনে করি। এই আয়োজনটা কেবলমাত্র একটা বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই যদি সীমাবদ্ধ থাকে, সেটা বোধহয় থাকা উচিত হবে না।

“বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মত এই যে বিষয়টা, এটা আমাদের একটা নৈমিত্তিক অভ্যাসে যদি আমরা পরিণত করতে পারি; তাহলে আমরা সকলের বক্তব্যে যে কথাগুলো বলি যে, একটা স্বাস্থ্যকর বসতি গড়ে তোলা দরকার, আমাদের গড়ে তোলা উচিত—এসবগুলো তাহলে ধীরে ধীরে আসলেই বাস্তবে রূপ নিতে পারবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যারা এখানে পরিবেশকর্মীসহ বৃক্ষরোপণ বা বাগান তৈরি বা এই কাজগুলোতে যারা জড়িত আছেন, যারা উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্নার থেকে… আপনাদের মত মানুষগুলো বা প্রতিশ্রুতিশীল তারুণ্য যদি থাকেন, দেশে এটার সংখ্যা যদি বৃদ্ধি পায়, নিশ্চয়ই ইনশাল্লাহ আমরা একটা সবুজ বসতি গড়ে তুলতে সক্ষম হব এই বাংলাদেশে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি যেই কথাটি মনে করি, সেই কথাটি আপনাদের সামনে বলতে চাইছি সেটা হলো, দেশ হোক সকল প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।”

তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণ কিংবা বনায়ন—এটাই বোধহয় শেষ কথা বলা উচিত হবে না। বনায়ন পশুপাখি, বিভিন্ন প্রাণী কীটপতঙ্গের জন্য নিরাপদ বাসস্থান কিংবা প্রয়োজনীয় আহারের যোগান দিতে পারে কি না, এটিও কিন্তু আমাদের চিন্তার মধ্যে থাকা প্রয়োজন। 

“কারণ আমরা অনেক গাছ অনেক কিছু কেটে ফেলার কারণে যেটি হচ্ছে সমস্যা; অনেক পোকামাকর অনেক কিছু কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যেটাও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।”

সরকারপ্রধান বলেন, “কীট পতঙ্গগুলোকে রক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো একটি পোকা দেখলে আমরা ঠাস করে পোকাটাকে মেরে দিই, মাকড়সা দেখলে মাকসা হয়তো ওখানে আছে; এখান থেকে গিয়ে উঠে গিয়ে আমরা ওটাকে মেরে দেই…আপনার দরকার কি মাকড়সাটা মারার? আপনাকে ও কামড়াচ্ছে না, কিছু করছে না দরকার কি ওটাকে মারার… এই জিনিসগুলো আমাদের মনে হয় বাচ্চাদেরকে শেখানো উচিত, সবাইকে শেখানো উচিত।

“একটা পাখি দেখলে আমরা ঢিলা দেই। আরে ভাই পাখিটা আপনাকে কি বিরক্ত করছে? ওর মত করে ও কিচিরমিচির করে ডাক দিচ্ছে। দরকার কী? মানব সমাজ তথা নিজেদের স্বার্থেই মাটি, নদী, বন, জীব বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে ছিল যে, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। ইচ্ছামত যদি আমরা গাছ রোপণ করি, তাহলে কিন্তু এই লক্ষ্যটা সফল হবে না। 

“আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা বিশ্বাস করি যে, কোন কোন পরিবেশে কোন মাটিতে কী ধরনের আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, এটি সম্পর্কেও কমবেশি আমাদের একটি ধারণা থাকতে হবে এবং সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছগুলোকে আমাদের রোপণ করতে হবে। 

“আমাদের পরিবেশের জন্য যে গাছগুলো ক্ষতিকারক, সেই গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। সেই গাছগুলোকে আমাদের এনকারেজ করা উচিত না রোপণের জন্য এবং একই সাথে নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ এগুলোকে রোপণ করা খুবই দরকার।”

 ‘পরিচর্যাও করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “গাছপালা প্রাণী অর্থাৎ জীব এবং মাটি, পানি, বায়ু, পরিবেশ সবকিছু যাতে স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে বনায়নের মাধ্যমে, ফরেস্ট্রেশনের মাধ্যমে—এরকম একটা ইকোসিস্টেম বজায় এবং বহাল রাখার আমরা চেষ্টা করছি। বর্তমান সরকার যে কাজগুলো করছে, তার ভেতর দিয়ে এই পুরা জিনিসটাকে একসাথে রাখার পরিবেশ যেন ঠিকঠাক থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

“শুধু যে গাছ লাগাব, শুধু যে প্লাস্টিক সরাব- তা নয়। অনেকগুলো ইন্টিগ্রেটেড জিনিস আছে, সেগুলোকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি। তবে এই যেই গাছটাকে আমরা রোপণ করলাম, এটা নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, বেড়ে উঠতে পারছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাও খুব বেশি জরুরি।”

‘নদীকে বাঁচাতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারি…এটা একটা ভয়াবহ অবস্থা। আমরা নদীমাতৃক বাংলাদেশ বলতাম….আপনারা নদীগুলোর পাশে যান, খাল-বিলের পাশে যান। মনে হচ্ছে যে, এই নদীগুলো খাল-বিলের মধ্যে দিয়ে এগুলা পানি যাবার জন্য নয়। এগুলা মানুষের পড়ে থাকতে যে বর্জ্য বা মানুষের ব্যবহারের যে বর্জ্য, সেগুলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনে হচ্ছে এই রাস্তাগুলো বা নদী খালগুলোকে তৈরি করা হয়েছে। 

“আমরা যদি আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারি, তাহলে অবশ্যই কিন্তু কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানি নিরাপত্তার কোনোটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এর কারণ ইকোসিস্টেম রক্ষা করাটা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতি প্রতিদ্বন্দী হিসেবে না দেখে বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক, এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা ইচ্ছা—যেভাবেই আমরা বলি কেন ছাদবাগান, নগর ফরেস্ট্রেশন, নগর বনায়ন জিআইএসভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর এবং খালের দুপাশে সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আমরা বিকশিত করতে চাই।

“এগুলো থেকেও কিন্তু অনেক মানুষের অনেক আর্নিং হতে পারে। একটা বিজনেস গ্রো করতে পারে, সেটিও আমাদের একটি লক্ষ্য।”

‘জলবায়ুর পরিবর্তন’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ জলবায়ু পরিবর্তনের যে অভিঘাত; আমরা দেখছি বৃষ্টি হচ্ছে না, আবার হঠাৎ করে বৃষ্টি হচ্ছে। আগে যেরকম সুন্দর বর্ষাকালে, সুন্দর বৃষ্টি হতো। আজকে-কালকে এভরিডে কম-বেশি বৃষ্টি হতো, সেভাবে হতো না। এখন দেখছি বৃষ্টি হচ্ছে না… অসম্ভব গরম। আবার হঠাৎ করে তো এই যে জলবায়ুর উপরে যে প্রভাব এটা বোধহয় এখন আর আশঙ্কার কিছু নাই। এটা আমরা ফেস করছি।  ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপ প্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীবাহন, লবণাক্ততা আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জনজীবনকে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে।”

তারেক রহমান বলেন, “এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটা সবুজ পরিচ্ছন্ন জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। 

“আমার মনে হয়, মানুষ হিসেবে এটি বোধহয় শুধু সরকারের না… আমার কাছে মনে হয়, এটি মানুষ হিসেবে এই ঘরে যারা বসে আছেন এর ঘরের বাইরে বহু মানুষ আছেন যারা বিষয়টি রিয়েলাইজ করছেন এটি বোধহয় আমাদের সকলেরই লক্ষ্য। কারণ যারা এ বিষয়ে কাজ করছেন আমরা বুঝতে পারছি যে আমরা যদি এখনই বিষয়টিকে অ্যাড্রেস না করি সঠিকভাবে, তাহলে কি ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনর্খননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধায় নিশ্চিত করবে না। বরং আমরা যেটা আশা করছি, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের উপরেই নির্ভর করে না…এটি কিছুটা সাপ্লিমেন্ট করে।

“রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সকল নগর, বন্দর এবং শহরতলীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেই কিন্তু আমূল পরিবর্তন আনার কোনই বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে আপনাদের সকলে যারা আছেন, বিশেষ করে পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করছেন; আপনাদের অসম্ভব, অসম্ভব সহযোগিতা আমার প্রয়োজন, সরকারের প্রয়োজন। 

“আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। আপনাদের যে সাপোর্ট, আপনাদের যে সহযোগিতা এটি যেকোনো সময় থেকে বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত অত্যন্ত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অত্যন্ত দরকার।”

‘যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস রি-সাইকেল ‘থ্রি আর’ নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

“বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদেরকে অ্যাওয়ারনেসের মাধ্যমে এটা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না দয়া করে। আসুন আমরা চেষ্টা করি আমাদের বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়স্বজন পরিচিতি পরিজন সবাইকে এই বিষয়টি সুযোগ পেলেই এটা বলা।

একটি ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে খুব সম্ভবত বাসা থেকে অফিসে ফিরছিলাম। কোনো একটা সিগনালে একটু দাঁড়িয়েছি। একটা ছেলে ও খেয়াল করেনি … ওর হাতে একটা প্যাকেট ছিল যে প্যাকেট থেকে কিছু একটা বের করে খাচ্ছিল। তার প্যাকেটটা ঠাস করে ওখানে ফেলে দিল। আমার মনে হচ্ছিল ওকে গিয়ে বলি ভাই তুই প্যাকেটটা উঠা… কোন এক জায়গায় ভালো হয় পকেটে নে বা কোন এনো জায়গায় ফেল।”

“বাট নামতে আমি পারছিলাম না। আমার ইচ্ছা করছিল নেমে গিয়ে ওকে আমি কথাটা বলি। আমি অনুরোধ করব সকলে বিশেষ করে যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন  দয়া করে এরকম বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।”

জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বৃক্ষরোপনের পাশাপাশি আমাদের একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নদী ও জলভূমি ভরা এবং বন উজারসহ নানা কারণ জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারণে বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর আবাসস্থল অস্তিত্ব সংকটে বাধ্য। 

“একটু আগে আমরা আমি একটা অ্যাওয়ার্ড দিলাম আদনানকে….আদনানকে আমি চিনি…  আদনান আবার সাপ ধরতে পারে। আমি জিজ্ঞেস করলাম পকেটে সাপ টাপ নেই  তো তোমার। ও নিজে থেকেই বলল যে, এই প্রোগ্রাম শেষ করে কেরাণীগঞ্জ যাবে কোন একটা বাড়িতে সাপ ঢুকেছে। 

“এইজন্য আমি কথাটি বলছি যে, পশুপাখি সবকিছু একটা বিপন্ন অবস্থার মধ্যে চলে গিয়েছে। এই যে বন-টন সব উজার হয়ে সব জায়গায় মানুষ দখল করছে। বাসা-বাড়ির ভেতরে কেন সাপগুলো ঢুকছে? সব জায়গায় আস্তে আস্তে মানুষ ঢুকে যাচ্ছে যে জায়গায় সাপ বা পোঁকা- মাকর এগুলা ছিল মানুষ এখন ওদের জায়গাগুলো দখল করছে। ওরা যাবে কোথায়? ওদেরও তো বাঁচতে হবে। ফলে এখন ওরা মানুষের বাড়ি ঘরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে হবে এবং এই বিষয়গুলো যার যার অবস্থান থেকে বোধহয় আমাদের একটা দায়িত্ব পালনের সময় চলে এসেছে।”

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধে্য বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম।