Published : 09 Jul 2026, 03:06 PM
পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ‘যুগ যুগ ধরে প্রতারিত হচ্ছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারভিত্তিক সংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের আয়োজনে ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তার এমন মন্তব্য আসে।
মাসুদ খান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকটি শেয়ারের লেনদেন ‘হল্টেড’ হয়েছিল। তিনি দ্রুত সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।
“বর্তমান সার্ভেইলেন্স সিস্টেমে ৪৫টা ইন্ডকেটর আছে আন ইউজুয়াল ট্রেড হচ্ছে তা ধরতে। আমি দ্রুত তাদের ডাকলাম (কর্মকর্তাদের)। বললাম দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এতদিন এরকম পরিস্থিতিতে কমিশন প্রথমে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাত। তারপর তারা ব্যবস্থা নিত। তাতে ব্যবস্থা নিতে দুই মাস সময় লেগে যেত।
“এই সময়ে রোগী মারা যায়। ডিলে ইজ নট জাস্টিস। এখান থেকে আমরা বের হতে চাই। আনইউজুয়াল লেনদেন হলে, হল্টেডে হলে ইমিডিয়েট হস্তক্ষেপ করতে হবে। সেই নির্দেশনা দিয়েছি।”
এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন গত ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া মাসুদ খান।
তার সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া নতুন তিন কমিশনারের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রশংসা করে মাসুদ খান বলেন, “কমিশনে যারা এসেছেন তারা বেসরকারি খাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এমন না যে তারা অবসরে গিয়েছেন। তারা বেসরকারি খাতে যে যার জায়গায় কাজ করেছেন। এই কমিশন বেসরকারি খাতের কমিশন।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মাসুদ খান বলেন, “এটা পুঁজিবাজারের জন্য রেড ফ্লাগ। বিদেশিরা এটাকে রেডফ্ল্যাগ হিসেবে দেখেন।”
এরপর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার তালিকাচ্যুতির শঙ্কা দূর করার উদ্যোগের কথাও বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তার ভাষ্য, এর সমাধান না হলে পরবর্তীতে বিদেশে কোনো দেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে অনেক প্রশ্ন দেখা দিত।
পুঁজিবাজারের লেনদেন ‘টি প্লাস ওয়ানে’ (এক দিনে শেয়ার ম্যাচুরড হলে পরের দিনই বিক্রি করার নির্দেশ) আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসি কাজ শুরু করেছে বলে জানান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, “আরটিজিএস এর টেকনিক্যাল কাজগুলো তরা করবে। এর সমাধান হলেই আমরা দ্রুত টি প্লাস ওয়ানে যেতে পারব।”
পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনা-বেচা নিয়ে যে প্রচার চলে, তা বন্ধ করার কথাও বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
সেজন্য ‘ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সি’ লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, “লাইসেন্স ছাড়া কেউ শেয়ার দর নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবে না। শেয়ার কেনা-বেচা নিয়ে কেউ কথা বলতে পারবে না।”