Published : 17 Apr 2026, 02:29 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির কারণ দেখিয়ে মোট কর্মীর ১৬ শতাংশ বা প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।
খরচ কমাতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মানুষের শ্রমের বিকল্প হিসেবে এআইকে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী।
বুধবার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় স্ন্যাপচ্যাট বলেছে, ‘এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি’র কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, গত এক বছরে প্রযুক্তি খাতে যে ছাঁটাইয়ের ঢেউ চলছে স্ন্যাপচ্যাটের এ কর্মী ছাঁটাই তারই অংশ। অনেক কোম্পানিই বর্তমানে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে এআইকে দায়ী করছে।
স্ন্যাপচ্যাটের মূল কোম্পানি ‘স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেড’-এর এ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তটি এসেছে ‘আইরেনিক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট’ নামের এক বিনিয়োগকারী কোম্পানির গেল মাসের চাপের প্রেক্ষিতে।
ওই কোম্পানির পোর্টফোলিও ম্যানেজার স্ন্যাপের সিইও ইভান স্পিগেলকে একটি চিঠি লিখে খরচ ও কর্মী সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোম্পানির বর্তমান কৌশলের সমালোচনা করেছেন।
স্পিগেল তার বার্তায় দাবি করেছেন, এ ছাঁটাই স্ন্যাপ’কে লাভের মুখ দেখতে সাহায্য করবে এবং মানুষের শ্রমের ঘাটতি এআই পূরণ করতে পারবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
“স্ন্যাপের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এসব পরিবর্তন জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি আমাদের কর্মীদের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ কমিয়ে কাজের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে আমাদের কমিউনিটি, অংশীদার ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আরও ভালোভাবে সহায়তা করবে।”
ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন কোম্পানিটিও এখন সেসব প্রযুক্তি জায়ান্টের তালিকায় যোগ দিল যারা এআইয়ের উত্থানের মধ্যে গণহারে কর্মী ছাঁটাই করেছে।
মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ওরাকল ও জ্যাক ডরসির আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি ‘ব্লক’-সহ আরও অনেক কোম্পানি এরইমধ্যে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। প্রত্যেক কোম্পানিই এআই প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে ও দাবি করেছে, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কম মানুষ দিয়ে বেশি কাজ করানো সম্ভব।
স্পিগেল তার বার্তায় এআই থেকে এরইমধ্যে উৎপাদনশীলতা বাড়ার দাবি করলেও, অনেক বিশেষজ্ঞ ও কর্মীরা বলছেন, এআই ব্যবহারের প্রকৃত সুফল পাওয়ার বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট।
সাবেক কর্মী ও এআইপন্থী অনেক কর্মকর্তাও অভিযোগ করে বলেছেন, বিনিয়োগকারী ও বাজারের কাছে নিজেদের আধুনিক প্রমাণ করতে বিভিন্ন কোম্পানি ‘এআই-ওয়াশিং’ বা এআইয়ের অজুহাতে ছাঁটাই করছে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও এআইয়ের কট্টর সমর্থক মার্ক অ্যান্ড্রিসেন সম্প্রতি দাবি করেছেন, যেসব কোম্পানি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছিল তারা এখন ছাঁটাইয়ের অজুহাত হিসেবে এআইকে ব্যবহার করছে।
তবে শ্রমবাজারের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ কোম্পানি তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে তারা এখন রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।
এ মাসের শুরুর দিকে ওপেনএআই কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেছে, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানিকে সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবসের পরামর্শ এবং নাগরিকদের মুনাফা ফিরিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার লেনদেনের শুরুর দিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরের পর স্ন্যাপের শেয়ারের দাম প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শেয়ারের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি পড়ে যাওয়ার পর এখন কিছুটা বাড়ল।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানিতে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার দুইশ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন।
এ ছাড়া আরও তিনশটি শূন্যপদ রয়েছে, যা আর পূরণ করা হবে না বলে কর্মীদের জানিয়েছেন স্পিগেল।