Published : 14 Jul 2026, 05:50 PM
‘স্পেসএক্সের দেখানো পথ ধরে’ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে অবতরণ করিয়েছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা।
গেল সপ্তাহের শেষভাগে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নোশিরো টেস্টিং সেন্টারে নিজেদের ‘রিইউজেবল ভেহিকল এক্সপেরিমেন্ট’ বা আরভি-এক্স রকেটের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।
পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে রকেটটি মাটি থেকে ১১ মিটার উঁচুতে আরোহণের পর সফলভাবে দিক পরিবর্তন এবং ১৬ মিটার দূরে খাড়া অবস্থায় নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
জাপানি মহাকাশ সংস্থার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও পুনরায় নিরাপদে অবতরণের ঘটনা ঘটল। পরীক্ষাটি ছোট হলেও একে দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যতে কক্ষপথে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পথ সুগম করতে জাক্সা পরের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে রকেটটিকে প্রায় ১০০ মিটার উচ্চতায় ওঠানোর পরিকল্পনা করছে।
জাপানের এ পরীক্ষার ঠিক একদিন আগেই সমুদ্রের বুকে বিশেষ নেট-ক্যাপচার প্রযুক্তি বা জাল দিয়ে ধরে ফেলার পদ্ধতির মাধ্যমে সফলভাবে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট অবতরণ করায় প্রতিবেশী দেশ চীন।
জাপানের পরীক্ষামূলক রকেটটির তুলনায় চীনের ‘লং মার্চ ১০বি’ নামের রকেটটির কার্যকারিতা ছিল ভিন্ন, যা কেবল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল না, বরং মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর বাস্তব এক মিশনে অংশ নিয়েছিল রকেটটি।
এ বিষয়ে ‘চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন’ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এ মিশন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের দেশের জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক। মহাকাশে আমাদের দেশের প্রবেশাধিকারের সক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও উন্নত করতে এ মিশন মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলবে।”
বর্তমানে মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি। ফলে মহাকাশে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে বেশি সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই হয়ে উঠছে।
একটি রকেটের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ হচ্ছে এর ‘বুস্টার’। একই বুস্টার অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বারবার ব্যবহারের ফলে রকেট উৎক্ষেপণের খরচ এক ধাক্কায় নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এ আধুনিক প্রযুক্তির ফলে মহাকাশ অভিযানের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেকটা সাধারণ বাণিজ্যিক প্লেন চলাচলের মতো নিয়মিত ও সহজ হয়ে উঠছে।
ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স তাদের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের মাধ্যমে প্রথম এ প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে। ২০১৫ সালে তারা প্রথমবারের মতো একটি অরবিটাল বুস্টার মহাকাশে পাঠানোর পর সেটিকে আবার সফলভাবে পৃথিবীতে অবতরণ করায়।
এরপর থেকে কোম্পানিটি তাদের আরও শক্তিশালী ‘ফ্যালকন হেভি’ ও ‘স্টারশিপ সুপার হেভি’ বুস্টার রকেটেরও সফল অবতরণ করিয়েছে। তবে স্পেসএক্সের মহাকাশ অভিযানের মূল চালিকাশক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ হয়ে আছে ফ্যালকন ৯ রকেটটিই। বর্তমানে গড়ে প্রতি দুই দিনে একবার করে এ রকেট উৎক্ষেপিত হচ্ছে।
এ মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ‘বি১০৬৭’ নামের একটি বুস্টার রেকর্ডসংখ্যক ৩৬তম বারের মতো সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণের পর বুস্টারটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত একটি ‘ড্রোন শিপ’ বা স্বয়ংক্রিয় জাহাজে নিখুঁতভাবে অবতরণ করে নতুন নজির তৈরি করেছে।