শ্রমিক অসন্তোষ: সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, হেমায়েতপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা পথে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
এ ছাড়া গাজীপুরেও শতাধিক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ-১ এর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া রোববার বিকালে বলেন, “সকাল থেকে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭টি তৈরি পোশক কারাখানা আজকের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।”
এ ছাড়া বিকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিক মিলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন। এ কারণে ওই পথে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান শিল্প পুলিশের কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
শিল্প পুলিশ-২ এর গাজীপুরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, রোববার সারা দিনে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মধ্যে দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি কারখানার গুদাম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর ১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত।
এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়ক ও রেল—দুই পথেই যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর বাহিনীটি ২৮ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।
