গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ফের মহাসড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ
আপাতত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে, প্রয়োজনে প্লাটুনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুরে লাঠিসোটা হাতে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনাবাড়ি এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। পুরো এলাকা মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দফায় দফায় চলে পুলিশ ও শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
আতঙ্কে আশেপাশের দোকান পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে কাঠ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন।
সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
তার জের ধরে শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
রাতে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলেও সকাল থেকে আবারও সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
কালিয়াকৈর থানার ওসি বলেন, রোববার সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ দেন। পরে হাজার হাজার শ্রমিক কারখানা থেকে বের হয়ে লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা—টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশৃঙ্খলা রোধে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল -২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কারখানা এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে বিজিবি মোতায়েন থাকবে জানিয়ে সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “আপাতত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে, প্রয়োজনে প্লাটুনের সংখ্যা বাড়তে পারে।”
