Published : 03 May 2026, 01:28 PM
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে ভাড়া করে আনা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
রোববার সকালে শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছেন চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান।
নিহত ৬৮ বছর বয়সী সমীরণ বেগম ওই গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী।
স্থানীয়রা বলছেন, ধান কাটার জন্য ২৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে চারজন শ্রমিক ভাড়া আনেন বাতেন মোল্লা। শনিবার একজন শ্রমিক বাতেনের পরিবারের এক সদস্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় পর ওই শ্রমিকরা রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন।
শ্রমিকরা তাদের বসত ঘরের মাঝের কক্ষে থাকতেন। তার একপাশের ঘরে সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী বাতেন মোল্লা ঘুমাতেন।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা বলেন, “প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতো। কিন্তু আজকে সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই এবং পাশের কক্ষের বিছানায় আমার মায়ের হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। পরে আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।”
শ্রমিকদের নাম ও পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের কারও নামই আমাদের জানা নেই, তারাও কিছু বলেনি।”
তবে বশির জানান, শ্রমিকদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা তাদের এলাকার একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তিনি প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান।
তিনি বলেন, “এবার শ্রমিক আনার পর তারা বৃদ্ধা সমীরণকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বেশ কিছু মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলছেন, “শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”