Published : 14 Aug 2025, 05:11 PM
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান গেইটের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনার পর হাসপাতালে ‘উত্তেজনা ও আতঙ্কজনক’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে সারাদেশে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবির সপক্ষে অনশনও করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে ফটকের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ফটকের সামনে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেন।
একপর্যায়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধাওয়ায় অনশনরত শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় চার শিক্ষার্থীকে মারধর করতেও দেখা গেছে। এর মধ্যে দুজনকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন রনিকে কটূক্তি করে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ শেষে হাসপাতালের প্রধান গেইটের সামনে অবস্থান নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান গেইটের সামনে আসেন। পুলিশের অনুরোধে তারা চলে গেলে কর্মচারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। পুলিশ এসে তাদেরও থামিয়ে দেয়। এরপর থেকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে আর কোনো শিক্ষার্থীদের দেখা মেলেনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ অভিযোগ করেন, “আজকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফরা ১৪ অনশনকারীর উপর হামলা করেছে। তাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
তিনি জানান, বিকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বেলাল হোসাইন বলেন, “হাসপাতালের নিরাপদ কর্মস্থল ফিরে পাওয়ার দাবিতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থির সৃষ্টি হয়।
“তাই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চায়, তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনায় কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নেই।”

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম মুশিউল মুনীর বলেন, “নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কারণ, তারা ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না। তাদের অনুরোধ করে কর্মবিরতি থেকে ফেরানো হয়েছে।
“বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্ক নিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। এমনকি তারা হাসপাতাল থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। দুপুরে তাদের খাবারের ব্যবস্থা হাসপাতালে করা হয়েছে।”
আন্দোলন ছেড়েছেন ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা
এদিকে বুধবার রাতে স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীরা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল সংস্কারের আন্দোলনে বরাবরের মতোই বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে ছিল। সকলের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘ ১৭ দিন আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি।
“আমাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ একটি প্রতিনিধি দল বরিশালের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা এবং অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে পাঠান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বরিশালের সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন।”

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী ও সুধীজনদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে মহাপরিচালক শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেলের পরিচালক সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাকি দাবিগুলো অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করার আশা ব্যক্ত করেছেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পাঠানো প্রতিনিধি দল এবং হাসপাতালের পরিচালকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করলাম।”
তবে ওই স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি বলেন, “যারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন তাদেরকেও আমরা স্বাগত জানাই। তারা আশ্বস্ত হয়েছেন; কিন্তু আমরা এখনও আশ্বস্ত হতে পারিনি। আমাদের আন্দোলন চলবে।”
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার: স্বাস্থ্যের ডিজির আহ্বানে সাড়া দেয়নি আন্দোলনকারীরা
আন্দোলনের মধ্যে বরিশাল মেডিকেলে অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত শুরু
'ব্লকেডে' ভোগান্তি বরিশাল নগরে, বুধবার সারা বিভাগে
বরিশালে স্বাস্থ্য সংস্কারের আন্দোলনের অনশনে অসুস্থ ২ শিক্ষার্থী
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে বরিশালে 'ব্লকেড কর্মসূচি'
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশাল না যাওয়ায় কঠোর কর্মসূচি
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার: বরিশালে এবার সড়ক অবরোধের সঙ্গে আমরণ অনশন
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ, ৬ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার
স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের দাবি: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার 'গায়েবা