Published : 08 Jul 2026, 02:16 PM
চার বছর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের নায়কদের একজন ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। তবে এবারের আসরে এখন পর্যন্ত যেন নিজের ছায়া হয়ে আছেন এই গোলরক্ষক। দলকে জেতানোর মতো দারুণ কিছু করতে পারেননি তিনি। মিশরের বিপক্ষে দুই গোল হজমের পর হতাশায় ভেঙেও পড়েছিলেন। তবে নাটকীয় জয়ের পর সামনে আরও ভালো করার প্রত্যয় জানালেন তিনি।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ওই সময় অনেকের মতো বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা উঁকি দিয়েছিল তার মনেও। তবে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ১৩ মিনিটে তিন গোল দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচটি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা। মার্তিনেস সেভ করেছেন চারটি। আর গত বিশ্বকাপে সাতটি সেভ করে আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতে নেন তিনি। সেবার টাইব্রেকারেও বেশ কয়েকটি সেভ করে ফাইনালসহ একাধিক ম্যাচে দলকে বাঁচান তিনি।
এবারের আসরে নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন মার্তিনেস। মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আত্মসমালোচনা করেন তিনি।
“২-০ ব্যবধানে যখন পিছিয়ে যাই, মনে হচ্ছিল, আমি কাউকেই সাহায্য করতে পারছি না, আর এই অনুভূতিটা আমার একদমই পছন্দ নয়। তবে মনে হয়, আমার সময়ও আসবে। দলকে আমার আরও বেশি সাহায্য করা দরকার; তারা আমাকে কয়েকটি ম্যাচে (হার থেকে) বাঁচিয়ে দিয়েছে, এমন কিছু এখন আমার করার পালা।”
শুরুতে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা এদিন প্রথমার্ধেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পায়। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। পরে যদিও একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে অবদান রাখেন এই মহাতারকাই।
বিরতির সময় আর্জেন্টিনার ড্রেসিং রুমের আবহ কেমন ছিল, তার কিছুটা ধারণা দেন মার্তিনেস।
“বিরতির সময় লিও নিজেকে দোষী মনে করছিল, তবে সে আমাদের অনেকবার জিতিয়েছে। আর এই কারণেই আমার আরও ভালো খেলতে হবে।”
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ম্যাচ জিতে আনন্দে অঝোরে কাঁদেন মেসি। পানি দেখা যায় মার্তিনেসের চোখেও। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতির কথা বলেন তিনি।
“চোখে পানি এসেছে কারণ মনে হচ্ছিল বাড়ি ফিরে যাচ্ছি এবং নিজে যথেষ্ট অবদান রাখতে পারছি না। আমরা কাউকে হতাশ করতে চাই না, নিজেদের আর্জেন্টাইন হিসেবে তুলে ধরতে চাই। ইউরোপীয়দের যা আছে, হয়তো আমাদের তা নেই; কিন্তু আমরা সুখে থাকতে চেষ্টা করি এবং সব সময় একটু বেশি দেওয়ার চেষ্টা করি।”
শেষ বত্রিশেও আর্জেন্টিনার কঠিন পরীক্ষা নেয় কেইপ ভার্ড। সেদিন ১২০ মিনিট খেলে, প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলের সৌজন্যে ৩-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় পায় আর্জেন্টিনা। মার্তিনেসের মনে হচ্ছে, সামনে হয়তো এই দুই ম্যাচের মতো এতটা ভুগতে হবে না তাদের।
“আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম যে, গত বিশ্বকাপে আমাদের এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি, যা এই দুটি ম্যাচে হলো। সামনে যা আসছে সেটা যেন ভালো হয়; আর যদি কষ্ট করতে হয়, আমরা তা-ই করব। আমার মনে হয়, সামনে এমন কোনো ম্যাচও আসবে যেখানে আমাদের এতটা ভুগতে হবে না।”
ক্যানসাস সিটিতে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় ৭টায় (এএম) কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।