Published : 07 Jul 2026, 09:51 AM
টুর্নামেন্টের শুরুতে যেটা ছিল আলোচনা, টুর্নামেন্ট চলার সময় যা রূপ নেয় বিতর্কে, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরও সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলো রবের্তো মার্তিনেসকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখলেন তিনি? স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পর সেই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করলেন পর্তুগাল কোচ।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে খুব একটা প্রভাব রাখতে পারেননি রোনালদো। তবু তাকে পুরো সময় মাঠে রাখেন মার্তিনেস। আগের ম্যাচে যোগ করা সময়ে গোল করে পর্তুগালের জয়ের নায়ক গসালো রামোসকে এই ম্যাচে মাঠেই নামাননি কোচ।
রোনালদোকে ঘিরে এই প্রশ্ন বেশ কিছুদিন ধরেই সঙ্গী। চলতি বিশ্বকাপেও প্রশ্নটি ঘুরেফিরে উঠে এসেছে এবং মার্তিনেস উত্তর দিয়েছেন। আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল করা রোনালদোকে ৮০তম মিনিটে তুলে নিয়েছিলেন কোচ।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলার ধার আগের মতো নেই নিশ্চিতভাবেই। তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ পুরো সময় বা এত বেশি সময় মাঠে রাখা নিয়ে তাই আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে অনেক। পর্তুগালের কোচ অটল ছিলেন নিজের ভাবনায়। নানা সময়ে তিনি বলেছেন, গোলের জন্য রোনালদোকে লাগবেই তার।
স্পেনের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পরও রোনালদোকে নিয়ে সেই যুক্তি তুলে ধরলেন তিনি।
“যখন দলের কথা ভাবতে হচ্ছে এবং দলের জন্য একটি গোল দরকার, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না। সে কোনো সমস্যা ছাড়াই ৯০ মিনিট খেলতে পারে।
সে প্রভাববিস্তারি ফুটবলার। মাঠে তার উপস্থিতিতেই অনেক কিছু হয়। তার কারণে জায়গা তৈরি হয়, ডেডবল পরিস্থিতিতে বা বক্সের ভেতরে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে বদলি করার কোনো মানেই হয় না।”
স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগাল গোলটি হজম করে ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে। আগেই পাঁচটি বদলি করে ফেলায় তখন আর কাউকে পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল না কোচের।
রামোসকে না খেলানোর ব্যাপারটিও উঠে এলো কোচের কণ্ঠে। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বাড়তি আরেকটি বদলি করা যেত, তখন রামোসের কথা ভাবতেন বলে জানালেন তিনি। তবে স্প্যানিশ এই কোচের মতে, নির্ধারিত সময়ে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার উপায়ই ছিল না।
“অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গসালো রামোসকে ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমাদের খেলার কাঠামোটা ধরে রাখতে হতো। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।”