১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ‘গায়েবানা জানাজা’

সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার পরিবর্তনসহ তিন দাবিতে ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি চলছে।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ‘গায়েবানা জানাজা’
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দ রোডে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়েন আন্দোলনকারীরা।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2025, 10:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারসহ তিন দাবিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ‘গায়েবানা জানাজা’ হয়েছে।

সোমবার বিকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দ রোডে এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেয়।

তিন দাবিতে বরিশালের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কর্মসূচির অষ্টম দিনে বিকাল ৪টার দিকে বান্দ রোডে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়। 

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সোলাইমা শিফা বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেবল আন্দোলনকারীদের নয়। এই হাসপাতাল আশপাশের এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী এবং রোগীর স্বজনদের একমাত্র চিকিৎসার ভরসা।

আন্দোলনের মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ রোড বলেন, বিকাল ৪টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী শেবাচিমের প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ‘দায়িত্বহীন ও নিশ্চুপ’ ভূমিকার প্রতিবাদে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার গায়েবানা জানাজা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সড়ক অবরোধে সাময়িক অসুবিধা হলেও ইমার্জেন্সি পথ তৈরি করে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিবহন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যদি দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনা বন্ধ হয়, তবে সেটাই প্রকৃত কল্যাণ। রোগীদের স্বজনেরাও এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন।”

গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন ছাত্রনেতা সোলাইমান মল্লিক। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এখনও নিশ্চুপ। তার এই নীরবতা এবং দায়হীন আচরণের প্রতিবাদেই আমরা গায়েবানা জানাজা আদায় করেছি।”

সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, “রোববার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে; যা নিছক দুর্ঘটনা নয় বরং অব্যবস্থাপনার পরিণতি। 

“আমরা এ ঘটনার জন্য দায়ী চিকিৎসক, নার্স এবং মেডিকেল স্টাফদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।