Published : 22 Aug 2025, 01:45 AM
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ এলাকা থেকে পাথর লুটে প্রভাবশালী সব দলের নেতারাই জড়িত ছিলেন, আর সেই টাকার ভাগ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটেও যেত বলে দুদকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পাথর লুটে জড়িত রাজনীতিবিদসহ ৪২ জনকে চিহ্নিত করার কথা বলেছে দুদক। তালিকায় বিএনপির ২০, আওয়ামী লীগের ৭ এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি দুজন করে নেতার নাম রয়েছে।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান ও অনুসন্ধান চালিয়ে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলার তথ্যও পেয়েছে।
সাদাপথর এলাকার পাথর লুটের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে গত ১৩ অগাস্ট সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে অনুসন্ধানে যায়। সেখানে পাওয়া যাবতীয় তথ্য তারা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকার ‘সাদাপাথর’ থেকে ‘কয়েকশ কোটি টাকার’ পাথর লুটপাট হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
এই অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দেওয়া দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছি। এখন প্রকাশ্য অনুন্ধান হবে। সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুদকের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আক্তার হোসেন বলেন, “পাথর চুরির সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদনে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকেই ব্যাপক ‘লুটপাটের’ শিকার হয় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, ১৩৬ একরের শাহ আরেফিন টিলা, পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর এবং এর পাশের ১০ একরের রেলওয়ে বাঙ্কার, গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং ও বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের লালাখাল ও শ্রীপুর-রাংপানি এলাকা।
স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাতে লুটপাট হয়েছে এসব জায়গায়। ফলে পাথর-বালু ‘শূন্য’ হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকাগুলো। রেলওয়ে বাঙ্কার ও শাহ আরেফিন টিলা রীতিমত ‘খানাখন্দে’ পরিণত হয়েছে। বিপুল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লুটেরা চক্র।
সারা দেশে পাথর ও বালু তোলার জন্য নির্দিষ্ট ৫১টি কোয়ারি আছে। সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে আছে আটটি কোয়ারি। এর বাইরে সিলেটের সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ আরও ১০টি জায়গায় পাথর-বালু আছে। এসব জায়গা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি নদী থেকে এসব পাথর-বালু আসে। ২০২০ সালের আগে সংরক্ষিত এলাকা বাদে সিলেটের আটটি কোয়ারি ইজারা দিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হত। তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারণে ২০২০ সালের পর আর পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া হয়নি।
আরো পড়ুন
দুদকের অনুসন্ধান: পাথর লুটে 'সব দল', ৪২ জনের তালিকা

প্রতিবেদনে যা আছে
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘অসাধু’ ব্যক্তিরা সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে ‘কয়েকশ কোটি টাকার’ পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে নেয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সরকারের পতনের পর থেকে, বিশেষ করে তিন মাস ধরে, পাথর উত্তোলন চলতে থাকে। সর্বশেষ ১৫ দিন আগে নির্বিচার পাথর উত্তোলন ও আত্মসাৎ হয়। এই সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ পাথর তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অসংখ্য গর্ত ও বালুচরে পরিণত হয়েছে এলাকাটি।
প্রতিবেদনে ছয়টি ক্যাটাগরিতে পাথর লুটে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এবং সরকারি সংস্থাগুলোর কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ওসির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা, লুটেরাদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়াসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এ ছাড়া সাদাপাথর লুটে জড়িত ও সুবিধাভোগী হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশার মানুষের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। তবে তাদের নাম তালিকায় নেই।
‘কমিশন পান’ ডিসি-ইউএনও
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সাদাপাথর এলাকায় দর্শনার্থী, ব্যবসায়ীসহ অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা জানতে পেরেছে, জেলা প্রশাসক, ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদারসহ (এ পদের বর্তমান নাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) অনেকেই অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর-বাণিজ্যের ‘কমিশন’ পান। প্রতি ট্রাক থেকে পাঁচ হাজার এবং প্রতি বারকি নৌকা থেকে ৫০০ টাকা যায় স্থানীয় প্রশাসন কমিশনের কর্তাদের পকেটে।

সিভিল প্রশাসনের ক্ষেত্রে কমিশনের ভাগ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে বণ্টন হয়ে থাকে বলে দুদক জানতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট ‘সোর্স’ ও কর্মচারীর মাধ্যমে কমিশনের টাকা সংগ্রহ করা হয়।
পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও লুটপাট ঠেকাতে সিলেটের জেলা প্রশাসক (গত সোমবার ওএসডি করা) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের ‘সদিচ্ছার অভাব, অবহেলা, ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা’ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ডিসি তার অধীন থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ‘সাদাপাথর’ পর্যটনকেন্দ্র রক্ষায় সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে দুদকের এনফোর্স টিম মনে করছে।
দুদকের প্রতিবেদন বলছে, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়, বিশেষ করে ‘সাদাপাথর’ পর্যটন এলাকায় দিন-দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের গোচরেই পাথর লুটপাট হয়েছে।
লুটপাট চলাকালে বিভিন্ন সময়ে এ উপজেলায় চারজন ইউএনও দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন- আবিদা সুলতানা, ঊর্মি রায়, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত ও আজিজুন্নাহার (গত সোমবার বদলি করা হয়)। তারা ‘নামমাত্র ও লোক-দেখানো’ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া পাথর লুট বন্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীও পাথর লুটপাটকে ‘প্রশ্রয় দিয়েছেন’ বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি নির্দেশে পাথর তোলা নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ গত ৮ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার তার কার্যালয়ে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ‘সারাদেশে পাথর উত্তোলন করা গেলে সিলেটে যাবে না কেন..? এর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত।’ তার এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা সাদাপাথর লুটপাটের ক্ষেত্রে ব্যাপক উৎসাহ জুগিয়েছে।”
যদিও বিভাগীয় কমিশনার বুধবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “গত ৮ জুলাই আমরা ইজারা নিয়ে কথা বলেছি। পাথর চুরি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। পাথর চোরদের উৎসাহিত করার মত কিছু আমি বলিনি। তেমন কিছু কেউ বললে বা ছড়ালে সেটা ভুল মেসেজ।”

ভাগ যায় এসপি-ওসির কাছেও
এনফোর্সমেন্ট দল জানতে পেরেছে, প্রতি ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট পাথর তোলা হয়। পরিবহন ভাড়া ছাড়া প্রতি ট্রাক পাথরের দাম ধরা হয় ৯১ হাজার টাকা। প্রতি ঘনফুট পাথরের দাম ১৮২ টাকা। এর মধ্যে প্রতি ট্রাক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পুলিশ এবং পাঁচ হাজার টাকা প্রশাসনের জন্য আলাদা করা হয়। বাকি ৮১ হাজার টাকা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “পুলিশের কমিশনের টাকা এসপি, সার্কেল এএসপি, ওসি ও আরও কিছু পুলিশ সদস্য পান। এ ছাড়া অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রতিটি বারকি নৌকা থেকে পুলিশের কমিশন বাবদ ৫০০ টাকা তোলা হয়। পুলিশ নির্দিষ্ট সোর্সের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রাক ও নৌকা থেকে এ চাঁদা সংগ্রহ করে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানসহ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের কমিশন গ্রহণ করে পাথর লুটপাটে ‘সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন’ বলে দুদক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে।
এসব বিষয়ে সিলেটের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটা যারা লিখছে, তাদেরকে প্রমাণ করতে বলেন। আমি এর বেশি বলব না।”
এ বিষয়ে কথা বলতে কোম্পানীগঞ্জের ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
‘কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি’ বিএমডি
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিএমডির। অথচ তারা সেটা করেনি।

‘টাকা পেয়ে চুপ’ বিজিবি
‘সাদাপাথর’ এলাকায় তিনটি বিজিবি ক্যাম্প/পোস্ট আছে। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্যাম্প থেকে সাদাপাথরের দূরত্ব ৫০০ মিটারের কম।
“এত কম দূরত্ব সত্ত্বেও কোম্পানি কমান্ডার ইকবাল হোসেনসহ বিজিবি সদস্যদের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা খুব সহজেই পাথর লুটপাট করতে পেরেছেন।”
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিজিবি সিলেট-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হককে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

তালিকায় বিএনপির যাদের নাম
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সদস্য হাজী কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার (পাথর ব্যবসায়ী), সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, সাজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মী জাকির হোসেন, সদস্য মোজাফর আলী, মানিক মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরাণ, কোষাধ্যক্ষ (বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম এবং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বকস।
আওয়ামী লীগের সাতজন
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), শাহাবুদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), গিয়াস উদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল ওদুদ আলফু, কর্মী মনির মিয়া, হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান।
জামায়াত ও এনসিপির চার নেতা
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সিলেট জেলার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন; সিলেট জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও মহানগর প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।

আরও ১১ জন
অনুসন্ধানে সাদাপাথর চুরির সঙ্গে আরও যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের আনর আলী, উসমান খাঁ, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন, আরজান মিয়া, মো. জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম ও মুকাররিম আহমেদ।
বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিবাদ
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কোনোপ্রকার সুনির্দিষ্ট সূত্র, যথাযথ অনুসন্ধান এবং কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত মর্মে আমার এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নাম লুটেরাদের তালিকায় যুক্ত করেছে।
“এতে করে আমরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্নই নয়; বরং এই ধরনের বস্তবতা বিবর্জিত কাল্পনিক সংবাদের কারণে আমরা আশ্চর্য হয়েছি।”
সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটা জড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দ দূরে থাক সাধারণ কোনো কর্মী-সমর্থকের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই।”
আরও পড়ুন:
সাদাপাথর: বাসা-বাড়ি-মিল থেকে আরও আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটে পাথর লুটের মামলায় গ্রেপ্তার ৫
পাথর লুটের অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জে মামলা
সাদাপাথর: মিল-উঠান-রান্নাঘরেও লুটের পাথর, মাটি খুঁড়ে উদ্ধার
'সাদাপাথর লুট': 'এখন পাথর ফেলে কী হবে, প্রশাসন আগে কই ছিল'
'সাদাপাথর': লুটের পাথর মাটি দিয়ে ঢাকছেন ব্যবসায়ীরা
লুট হওয়া ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার, ফেলা হয়েছে 'সাদাপাথরে'