Published : 13 Jul 2026, 11:19 AM
কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। বল ধরে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছিল তারা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য তখন বড় স্বস্তি হয়ে আসে বাগাইল এমবোলোর লাল কার্ড। লিওনেল মেসি বলছেন, খেলার ভাগ্য গড়ে দেওয়া মুহূর্ত ছিল সেটিই।
বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালের সেই লড়াইয়ে তখন ছিল ১-১ সমতা। দশম মিনিটে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণে তাদেরকে কোণঠাসা করে ফেলে সুইজারল্যান্ড। গোল শোধ করার পরও চ্যাম্পিয়নদের চাপে রাখে সুইসরা। কিন্তু ৭২তম মিনিটেই আলোচিত সেই ঘটনা।
ইচ্ছা করে ডাইভ দিয়ে ‘সিমুলেশন’ বা ভান ধরার শাস্তি হিসেবে হলুদ কার্ড পান এমবোলো। আগেই আরেকটি হলুদ কার্ড তার ছিলই। প্রতিবাদ জানিয়েও লাভ হয়নি। কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়তে হয় দারুণ খেলতে থাকা ফরোয়ার্ডকে।
একজন কম নিয়ে খেলার কৌশল পাল্টাতে বাধ্য হয় সুইজারল্যান্ড। একেবারে রক্ষণাত্মক কৌশলে ঢুকে যায় তারা। ১০ জন নিয়েও আর্জেন্টিনাকে অনেকটা সময় আটকে রাখে ইউরোপের দলটি। যোগ করা সময়সহ মূল ম্যাচে ২৮ মিনিট, অতিরিক্ত সময়ের ২২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল সমতায়।
১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের দুর্দান্ত গোল স্বস্তি হয়ে আসে মেসিদের জন্য। এরপর শেষ সময়ে লাউতারো মার্তিনেসেরে গোলে বাড়ে ব্যবধান। ৩-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচটিতে পেছন ফিরে তাকিয়ে ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে মেসি বললেন, এমবোলোর মাঠ ছেড়ে যাওয়াই ছিল ম্যাচে চিত্র বদলে যাওয়ার মুহূর্ত।
“এই বিশ্বকাপের কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা জানি, কীভাবে এটি চলছে। এই ম্যাচও কঠিন হবে বলেই ধারণা করেছিলাম। প্রথমার্ধে যদিও আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম, তবে তারা আমাদের জন্য খেলাটিকে কঠিন করে তুলেছিল।”
“তারা সমতা ফিরিয়েছে, আমরা নিজেদের খেলা খেলতে পারছিলাম না, দীর্ঘ সময় ধরে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছিলাম না। বল ছাড়া আমরা খুবই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম। তাদের লাল কার্ড খেলার মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। এমনকি তারপরও ম্যাচ কঠিন ছিল আমাদের জন্য।”
ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন, অভিজ্ঞ তারকা গ্রানিত জাকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেই লাল কার্ড নিয়ে। তর্ক-বিতর্ক, পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি, বিশ্লেষণ, সব চলছে এখনও।