Published : 31 Aug 2025, 03:55 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোয়নপত্র বিতরণ ছাত্রদলের আন্দোলনের কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয়েছে।
ছাত্রদলের সঙ্গে শিবির, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ অন্যান্য সংগঠনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও মুখোমুখি অবস্থানের পর রোববার দুপুর ২টা থেকে আবারও মনোনয়ন বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম।
এর আগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
তাদের বিরুদ্ধে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর করারও অভিযোগ উঠেছে।
পরে দুপুর ১১টায় শিবির, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাসহ অন্যান্য সংগঠন ও বিভিন্ন প্যানেলের সমর্থক শিক্ষার্থীরা মনোনয়নের শেষ দিনে মনোনয়ন উত্তোলনের দাবিতে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিতে আসে।
এতে উভয় পক্ষের দফায় দফায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার, মেহেদী সজীব, নুরুল শহীদ, শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।

বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা সরে যাননি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন নিজের খেয়াল-খুশি মতো নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদেই এখানে অবস্থান নিয়েছি।”
রাহী আরও বলেন, “আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করবো।”
পরে বেলা সোয়া ১টায় কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঝুলানো তালা ভেঙে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আম্মারসহ শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করেন।
সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, “আজকে মনোনয়ন বিতরণের শেষ দিন, তাই সবাই মনোনয়ন নিতে আসছেন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে যেন মনোনয়ন বিতরণ এবং নির্বাচন সম্পন্ন হয়।”
শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনোনয়ন উত্তোলন করতে এসেছি। ছাত্রদল এক্ষেত্রে বাধা দিয়ে নির্বাচনের বিপক্ষ শক্তির পরিচয় দিয়েছে।”
এ বিষয়ে রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “যখন রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বর্তমানে প্রথম বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। এখন আর তাদের ভোটার করার সুযোগ নাই। তারা আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন।”
রোববার বেলা আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল।
২৮ জুলাই রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। চতুর্থবারের মতো সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রোববারই মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকেই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ৮ সেপ্টেম্বর, আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১০ সেপ্টেম্বর এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পরে ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন:
রাকসু নির্বাচন: কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা, ভাঙচুর ছাত্রদলের
রাকসু নির্বাচন: সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে ৩ দাবি
রাকসু নির্বাচন: ভিপি পদে প্রথম নারী প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু নির্বাচন: বার বার তফসিল বদল, কতদূর এগোল প্রস্তুতি?
রাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিয়েছে ছাত্রদল
রাকসু: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি ছাত্রদলের
৯ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের রাকসুর ভোটের তারিখ পরিবর্তন