Published : 25 Jun 2026, 09:16 AM
গোলের পর বাঁধনহারাল উল্লাসের প্রথম পর্ব মঞ্চস্থ হয়েই গেছে। শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে মূল আকর্ষণ আফ্রিকান নাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিনটিতে উল্লাসের সঙ্গে ঐতিহ্য তো মিশে থাকবেই! হলুদের উৎসবের ঠিক উল্টো চিত্র তখন লাল জার্সির মানুষগুলোর। কেউ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন, কারও চোখে পানি, কেউ চেষ্টা করছেন কান্না আটকানোর, মূর্তির মতো ঠায় দাঁড়িয়ে কেউ কেউ। নকআউটের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু সেই দুয়ার তারা খুলতে পারল না।
নক আউট নিশ্চিত করতে স্রেফ ড্র করলেই চলত দক্ষিণ কোরিয়ার। ফেভারিট হিসেবেই ম্যাচ শুরু করেছিল তারা। তলানিতে থেকে গ্রুপের শেষ রাউন্ড শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা উপহার দিল দারুণ চমক। 'এ' গ্রুপের ম্যাচে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের স্মরণীয় জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল তারা।
৬৩তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো।
ম্যাচের ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেও আসল কাজটি করতে পারল না দক্ষিণ কোরিয়া। চেকিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে আসর শুরু করা এশিয়ার দলটি পরের দুই ম্যাচেই হেরে গেল একই ব্যবধানে। তাদের সব আশা অবশ্য শেষ হয়নি। তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ আসতে পারে এখনও।
একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য ধরে রেখেছে আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা মেক্সিকো। বিদায় নিয়েছে চেকিয়া।
মন্তেরেইতে বল নিজেদের কাছে রাখার লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও গোলে শট ও লক্ষ্যে রাখার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল দ্বিগুণ এগিয়ে। গোলে ১৪টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে তারা। কোরিয়ানদের সাত শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ সাজায় দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বাইরে রেখে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ পর শুরুর একাদশে জায়গা পেলেন না কিনি। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ বিস্ময় ছড়ায় কোরিয়া কোচের সিদ্ধান্ত। আগের দুই ম্যাচেই অবশ্য বেশ বিবর্ণ ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাকে মাঠে নামান কোচ। তবে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি।
ম্যাচের শুরুতে যদিও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। বল ধরে রেখে দাপটে শুরু করে তারা। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে ফাঁকায় পেয়ে হেড করেন কিম মিন-জে। তবে অব্রে মদিবার পায়ে ব্লক হয়ে যায় তা। একটু পর বক্সের ভেতর থেকে লি গাং-ইনের জোরাল শট একটুর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে এবং ১৯তম মিনিটে প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মাসেকো, কিন্তু লি গি-হিউক শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকল করে তা রুখে দেন। এরপর গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ চমৎকার ডাবল সেভ করেন। প্রথমে তিনি থালেন্টে এমবাথার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরাল শট ডাইভ দিয়ে রুখে দেন। তবে বল পড়ে সামনেই, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন এভিডেন্স মাখোপা। তার বাঁ পায়ের শটও মুঠোয় জমান কোরিয়ার গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধে মোসেকো এক দফায় বল নিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা ব্লকড হয় রক্ষণ দেয়ালে। একটু পর আর তাকে আটকানো যায়নি। বক্সের ভেতর বল পেয়ে সামনের ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরাল গড়ানো শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি।
সেই গোল শোধ করার তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া।
আগে তিন দফায় বিশ্বকাপ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকও ছিল ২০১০ আসরে। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব উতরাতে পারেনি তারা। এবার খুলে গেল ইতিহাসের দুয়ার।