Published : 25 Jun 2026, 10:45 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ওপর নজরদারি করার নতুন কর্মসূচি স্থগিত করেছে মেটা।
বিবিসি লিখেছে, কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সংগৃহীত ডেটা ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এ ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি।
কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহার ট্র্যাক বা নজরদারি করার একটি নতুনিএক কর্মসূচি ছিল এটা।
কেবল দুই মাস আগে মেটা এ কর্মসূচিটি চালু করেছিল। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্মীরা কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, যেমন তাদের মাউস ক্লিক ও কিবোর্ডের বোতাম চাপার ডেটা সংগ্রহ করা, যা পরবর্তীতে এআই মডেল তৈরিতে ব্যবহার করা যেত।
তবে কর্মসূচিটি চালুর পরপরই কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতিটি অনলাইন কার্যক্রম ট্র্যাক ও রেকর্ড করায় এবং এ ডেটা কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে তা নিয়ে কর্মীদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়।
সোমবার মেটা এ কর্মসূচিটি বন্ধ করে দিয়েরেছ মেটা। এ সময় কোম্পানিটি বুঝতে পারে, সংগৃহীত কিছু ডেটা কোম্পানির ভেতরের যে কোনো মানুষের কাছে উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, অভ্যন্তরীণভাবে ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত এ কর্মসূচিটি বর্তমানে ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ রাখা হয়েছে এবং কোম্পানি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
“আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে মেটার কোনো কর্মী এসব ডেটার অপব্যবহার করেছেন বা অনৈতিকভাবে সেগুলো দেখেছেন।”
অন্যতম শীর্ষ ধনী মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন এ কোম্পানির কর্মীরা গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্মক্ষেত্রে এভাবে নজরদারির শিকার হওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন, যার জের ধরেই শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি স্থগিত হল।
কর্মীদের এ ক্ষোভের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় প্রায় দুই হাজার মেটা কর্মীর স্বাক্ষর করা এক পিটিশনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল, যেখানে এ কর্মসূচিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছিল।
ওই সময় মেটা বলেছিল, কর্মীরা চাইলে একবারে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ নজরদারি বন্ধ রাখতে পারবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেটার একজন বর্তমান কর্মী বলেছেন, “এমনটা ছিল স্রেফ পরিস্থিতি শান্ত করার একটি চেষ্টা।”
আরেকজন মেটা কর্মী নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, কোম্পানির অনেক কারিগরি কর্মীই তাদের এআই মডেলের উন্নতি করতে এবং অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ধারণাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।
তবে এ ট্র্যাকিং বা নজরদারি ব্যবস্থা ‘আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এতে আমাদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি’, এ বিষয়টিই সবাইকে ক্ষুব্ধ করেছে।
“আমি এখানে কর্মীদের মনোবল কখনো এতটা ভেঙে পড়তে দেখিনি।”
এ নজরদারি কর্মসূচির পাশাপাশি, মেটার ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়ার পেছনে রয়েছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই ও অনেক কর্মীর কাজের পরিধি পুনর্গঠন করে তাদের এআই প্রকল্পের দিকে ঠেলে দেওয়া।
মেটা কেবল এ বছরই এআই প্রকল্পের পেছনে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করেছে।
প্রযুক্তি সাইট ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, এআইভিত্তিক এসব পরিবর্তন নিয়ে আয়োজিত অভ্যন্তরীণ এক সভায় কর্মীরা প্রকাশ্যেই আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে ম্যানেজমেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপমান পর্যন্ত করেছেন।
প্রযুক্তি শিল্পে মেটার দীর্ঘদিনের সুনাম বা পরিচিতি আছে, যেখানে তারা নতুন নতুন প্রজেক্টের ওপর ভিত্তি করে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দল পুনর্গঠন করে।
এআইয়ের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার মেটার এই মরিয়া চেষ্টা ও মোটা অংকের খরচকে এখন অর্থহীন ও অন্তহীন একছুট বলে মনে হচ্ছে কোম্পানিটির একজন সাবেক কর্মীর কাছে, যিনি কয়েক বছর কাজ করার পর সম্প্রতি মেটা ছেড়েছেন।
“কোম্পানিটি যেদিকে যাচ্ছে তা সত্যিই হতাশাজনক। বিষয়টি একইসঙ্গে ক্লান্তিকর ও হতাশাজনক।”