Published : 18 Jul 2026, 04:23 PM
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা নদী ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের আহ্বান জানান।
শনিবার সকালে উপজেলার বিশালপাড়ায় ভাঙন কবলিত এলাকায় এ কর্মসূচিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি আবু হানিফা, সদস্যসচিব ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, মহিলা নেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনের শিকার আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলী বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে নদীভাঙন চলছে। ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন ঠিকানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান কোনও সরকারি দপ্তরের কাছে নেই।
তিনি বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার মানুষ শুধু জমিজমা হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন তাদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও। অনেক পরিবার এখনো জানেন না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবেন কিংবা গবাদিপশু ও শিশু সন্তানদের কোথায় নিরাপদে রাখবেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ- বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের এই নেতা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।