Published : 28 Aug 2025, 01:42 AM
তফসিল ঘোষণা করে বার বার পিছিয়ে দেওয়ায় সাড়ে তিন দশক পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কার মধ্যেও প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো। কতদূর এগোল তাদের প্রস্তুতি?
চারবার তফসিল পরিবর্তনের পর সবশেষ বুধবার ভোটগ্রহণের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুরে প্রথমে ২৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী হওয়ায় তা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা।
এমন একটি দিনে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করায় অনেক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। কেউ কেউ এর মধ্যে ‘ষড়যন্ত্র’ও দেখতে পান।
ফলে ভোটগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি ও ক্ষোভের মধ্যে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে ফের তারিখ পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন।
যদিও পূজার কথা বিবেচনা করে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভোটের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছিল বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’।

বুধবার রাতে রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাকসুর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু ২৮ তারিখ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষষ্ঠী, বিষয়টিকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ করছিল, আমরাও তা অনুধাবন করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
আগের তফসিল অনুযায়ী, ২৬ অগাস্ট (মঙ্গলবার) ছিল মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদানের শেষ দিন। তবে শেষ দিনেও ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতারা মনোনয়নপত্র নেননি।
সেদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ থাকলেও পৌনে ৫টার দিকে জরুরি বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন পাঁচ দিন সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
পরিবর্তিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণ চলবে ২৪ থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত। মনোনয়ন দাখিল করতে হবে ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং বাছাই চলবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর।
প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ সেপ্টেম্বর। এই তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি হবে ১৪ সেপ্টেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। তারপরই প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনের প্রস্তুতি
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই রাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসে বেশ সক্রিয় ছাত্র-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপনা রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন না হওয়া ক্যাম্পাসে সবাই ভোটের অভিজ্ঞতা নিতে চান।
চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া ক্যাম্পাসের রাজনীতি নতুন চেহারা নিয়েছে। সংগঠন কিংবা স্বতন্ত্রভাবে যারা প্রার্থী হতে চাইছেন তাদের অধিকাংশই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের পরিচিত ও প্রভাব রয়েছে।
যে কারণে পরিবেশ নিয়ে নানা ‘শঙ্কার’ মধ্যেও ক্যাম্পাসে এখন নির্বাচনমুখী আবহ তৈরি হয়েছে। বড় ও প্রভাবশালী বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন নিজেদের প্যানেল গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছেন। যদিও তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেনি।
এখনও কিছু কিছু সংগঠন নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে এক ডজনেরও বেশি সংগঠন আছে, যাদের প্রচার বা প্যানেল ঘোষণার তেমন কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

‘ছায়া প্যানেল’ ও ইসলামী ছাত্রশিবির
জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধু ক্যাম্পাস নয়; আশপাশের এলাকাতেও তাদের অবস্থান সুসংহত। গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে
প্রকাশ্যে বড় কর্মসূচি না করলেও প্যানেল গোছানোর কাজ করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সংগঠনের নামে নয়; বরং ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী জোট’ নামে মোর্চা গঠন এবং প্যানেল তৈরির চেষ্টা করছেন।
তবে এরই মধ্যে ‘ছায়া প্যানেল’ বলে একটি ব্যাপার রটে গেছে ক্যাম্পাসে। ক্রিয়াশীল দু-তিনটি সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের অনেক সদস্য স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন বলে তারা জানতে পারছেন। ছাত্র শিবিরের আনুষ্ঠানিক প্যানেলের বাইরে এই ‘ছায়া প্যানেলের’ মাধ্যমে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকাশ্যে নিজের পছন্দের সংগঠন করতে না পেরে অনেকেই অন্য সংগঠন করেছেন। এই ‘ছায়া প্যানেলের’ প্রার্থীরা আগে হয়ত নামে-বেনামে অন্য সংগঠন করেছেন। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে সামনের কাতারে থেকে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন; জনপ্রিয় হয়েছেন। তারাই এখন ‘স্বতন্ত্রভাবে’ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একজন ছাত্রনেতা বলছিলেন, “এখানে একজন শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে লড়াই করবেন। ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বাধীন জোটের প্যানেলের জিএস প্রার্থী হয়ত তেমন শক্তিশালী নাও হতে পারে। ভোটের আগে পরিস্থিতি বুঝে হয়ত শিবিরের ভোট ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে যাবে। তিনি শিবির, কিন্তু পরিচয়হীন-গোপন। এটা তো আর প্রকাশ্যে হবে না; হবে গোপনে। ‘ছায়া প্যানেলের’ কাজ এটাই।”
তবে এ ধরনের কোনো প্যানেলের কথা অস্বীকার করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেছেন, “আমাদের এমন কোনো প্যানেলের অস্তিত্ব নেই। আমরা এমন প্যানেলের কথা ভাবছিও না।”
নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন কমিশন ভোট পেছানোর কথা জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “কোনো একটা নির্দিষ্ট দল তাদের প্রস্তুতি নিতে পারেনি এটা সবার উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। মনোনয়ন বিতরণের শেষ সময়ে এসে কোনো একটা দলকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য অযৌক্তিকভাবে পাঁচ-ছয় দিন বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এভাবে নির্বাচন পেছানোর ছক কষলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।”
জোটে যাবে না ছাত্রদল
বড় সংগঠনগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এখনও প্যানেল গোছাতে পারেনি। ২৫ অগাস্ট তারা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া, প্রথম বর্ষ ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে সরানো, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, আবাসিক হলে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ও স্মারকলিপি দিয়েছে। এর মধ্যে তাদের নির্বাচন পেছানোর দাবি মেনে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমরা কিছু যৌক্তিক দাবি নিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনিও আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে শিগগির আমরা প্যানেল ঘোষণা করব।”
জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “আমরা একক প্যানেলেই নির্বাচনে অংশ নেব। জোটবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়েই আমরা প্যানেল ঘোষণা করবো।”
ঐতিহ্য হারিয়েছে বামেরা
রাকসু শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট নির্বাচন হয়েছে ১৪ বার। ১৪ বারে ভিপি-জিএস মোট ২৮ জনের মাঝে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ভিপি-জিএস ছিলেন ১১ জন। ১৪টি নির্বাচনের পাঁচটিতেই ছাত্র ইউনিয়ন থেকে উভয় পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রমৈত্রী থেকে ভিপি পদে দুবার এবং জাসদ ছাত্রলীগ থেকে পরপর তিনবার জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাকসুতে শক্ত অবস্থান থাকলেও এখন তাদের ‘ঐতিহ্য হারানোর’ আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে। জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা বেশি বাম সংগঠনগুলোর।
এর মাঝে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রীর সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই। আদর্শিক দ্বন্দ্বে বিভক্তিও দেখা গেছে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মত সংগঠনের মধ্যে।
ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাকিব হোসেন বলেন, “বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠন বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আমরা আমাদের সাংগঠনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারিনি। তবে আমরা আশা করছি, আমাদের অতীত ইতিহাস আমরা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারব।”
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী থেকে রাকসুর ভিপি হয়েছিলেন রাগিব হাসান মুন্না। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কোনো বালাই ছিলো না। আমরা সবাই জানি, একটা স্বৈরশাসনের ভিতরে আমরা সময়টা কাটিয়েছি। এ সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জোটগুলো। গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকার কারণে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী, আধিপত্যবাদী শাসনের দাপট বেড়েছে সেসময়। এর প্রভাব ছাত্র সংগঠনগুলোর উপরেও পড়েছে। বুদ্ধির জায়গা যখন শক্তি দখল নেয় তখন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করা সংগঠনগুলো স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে।
“তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত রাকসু নির্বাচন বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক চর্চা আমাদের ভিতরে আবার হয়তো গণতান্ত্রিক মনোভাব ফুটিয়ে তুলবে। আর একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলোও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।”
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের
ক্রিয়াশীল ছয়টি বাম সংগঠনের জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’। সংগঠনগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী), গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।
নির্বাচনি প্রস্তুতিতে জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে জোটটি। জোট থেকে এরই মধ্যে ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন বলা জানা গেছে। তবে প্যানেল ঘোষণা করতে সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন তারা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “রাকসু আয়োজনের একদম শুরু থেকে নির্বাচন কমিশন দায়সারা কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে তারা কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে বাকি সংগঠনগুলোকে উপেক্ষা করেছে।”
নির্বাচন পেছানোর দাবির বিষয়ে ফুয়াদ বলেন, “কোনো একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে নির্বাচন পেছানো প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ দেবে। আমরা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে না। আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) মনোনয়ন ফরম নিয়েছি। নির্বাচনি জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই আমরা প্যানেল ঘোষণা করবো।”
বাগছাসের কেউ নেই!
জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী নেতাকর্মীদের সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। সেই এনসিপির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস থেকে এবার রাকসু নির্বাচনে কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন না। বাগছাসের কোনো কমিটিও নেই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
চলতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি বাগছাসের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী সজীব ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালাহউদ্দিন আম্মার পদত্যাগ করেন। এরপর বাগছাস উদ্যোগ নিলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কমিটি আসেনি।
সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা সেসময় কয়েকটি কারণে পদত্যাগ করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি এবং ইনক্লুসিভ প্যানেল না হওয়ায় পদত্যাগ করেছিলাম।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সমন্বয়ক আকিল বিন তালেব বলেন, “বাগছাস নির্বাচনের সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কমিটি দিচ্ছে না। নির্বাচনের পরে কমিটি হতে পারে।”
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ছাত্র অধিকার পরিষদের
নির্বাচনে প্যানেল গোছানোয় ব্যস্ত সময় পার করছে গণঅধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, “আমরা সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক এবং অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। প্যানেল হয়তো খুব শিগগির ঘোষণা করব। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জোট নিয়েও আলাপ চলছে।”
অন্য সংগঠনের প্রস্তুতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র সংগঠন আছে প্রায় ২২টি। ইসলামি ছাত্র আন্দোলন প্যানেল ঘোষণা করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন আত্মপ্রকাশ করা ইউএসডিএফ, রাবি রেনেসাঁ, ব্যাকবেঞ্চারসহ কয়েকটি সংগঠনও আলোচনায় রয়েছে।
ইউএসডিএফ এর সংগঠক তাসীন খান বলেন, “রাকসুতে ইউএসডিএফ কোনো প্যানেল দিচ্ছে না। তবে আমাদের সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ভিপি-জিএসসহ কেন্দ্রীয় সংসদে মনোনয়ন তুলবেন। হল সংসদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী থাকবে আমাদের।”
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা চেয়েছে প্রশাসন
রাকসু নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা ঠেকাতে প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রক্টর দপ্তর জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘স্টুডেন্ট পুলিশিং কমিউনিটি’র পাশাপাশি পুলিশ, সেনা, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। ৪০ জন শিক্ষকের একটি প্রক্টোরিয়াল টিমও সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ফটকে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা।
“এর পাশাপাশি আমরা চার প্লাটুন টহল সেনাবাহিনী চেয়েছি। বাকি বাহিনীগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনমতো তাদের সদস্য মোতায়ন করবে।”
আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীতে রাকসুর ভোট, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ