Published : 24 Jun 2026, 01:45 PM
বগুড়ার শেরপুরে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট আইএইচটির (ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি) শিক্ষক পদে কর্মরত।
তিনি এর আগে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গরিবের চিকিৎসক’ হিসেবেও পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, শেরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় এক চিকিৎসকের জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মিশু। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওসি মঈনুদ্দিন বলছেন, “২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ডা. সামির হোসেন মিশু এজাহারভুক্ত আসামি। নাটাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. আরাফ মামলাটি করেন।
“তাতে ১৭২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২০২৪ সালের ৩ অগাস্ট দুপুরে শহরের বড়গোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে শেখ হাসিনাসহ প্রধান আসামিদের নির্দেশে অন্য আসামিরা রড, কাঠের বাটাম, হকিস্টিক, চাপাতি, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
এজাহারে বাদী আরাফ দাবি করেছেন, হামলার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজন চিকিৎসক তাকে বের করে দেন।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।