Published : 24 Jun 2026, 05:33 PM
শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজীপুরে এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি শোকজ করা হয়েছে কারখানাগুলোর ৩৫০ জন শ্রমিককে।
সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বন্ধ কারখানাগুলো হল, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লিঙ্গারী মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড।
এসব কারখানায় সাড়ে ১৮ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।
এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারখানাগুলোর শ্রমিকদের একটি অংশ ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের মূল মজুরি এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আইনগত মতামত প্রদান করে ডিআইএফই। মতামতে বলা হয়, সার্ভিস বেনিফিট বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রদান করতে হবে।
পরবর্তীতে ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে রোববার শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবি আদায়ের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কারখানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের কিছুই দাবির বিষয়ে আলোচনা করে সমঝোতা না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া রোববার কারখানার ভেতরে বেআইনী ধর্মঘটে সরাসরি অংশগ্রহণ করে দাঙ্গা-হাঙ্গামাময় উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করায় এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড কারখানার ১২৩ জন, এপেক্স লিঙ্গারী মিলস লিমিটেড কারখানার ৮৫ জন এবং এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড কারখানার ১৪২ জনকে কারণ দর্শানোসহ চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে নোটিশ এবং তাদের স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ আরও বলেন, এখন কারখানা এলাকায় আর কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। শীঘ্রই কারখানা খুলে দেয়ার জন্য আলোচনা চলছে।