Published : 25 Jun 2026, 03:06 AM
মিনিট দশেকের ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। পাল্টা জবাবে কাতারও দারুণ কিছুর আশা জাগাল। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে আর কিছু করতে পারল না তারা। বরং আরেকটি দারুণ গোলে নকআউট পর্বে খেলার আশায় থাকল বসনিয়া।
সিয়াটলে বুধবার রাতে ‘বি’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে স্নায়ুচাপের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে বসনিয়া।
আলেবেগোভিচের গোলের পর, আত্মঘাতী গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে কাতার। কিছুক্ষণ পর একটি গোল শোধ করেন হাসান। তবে শেষ দিকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শেষ করে দেন এর্মিন মাহমিচ।
একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা সুইজারল্যান্ড। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ সহ-আয়োজক কানাডা।
কানাডার সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় বসনিয়া। তিন ম্যাচে ১০ গোল খেয়ে, ১ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিল কাতার।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল নিয়ে হবে নকআউটের প্রথম ধাপ। ৪ পয়েন্ট পাওয়ায় এই আট দলের একটি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে বসনিয়ার।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার আশায়, ম্যাচের শুরুটাও দারুণ করে বসনিয়া। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে এগিয়ে যায় তারা। ২৯তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে, আড়াআড়ি গিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বাধা এড়িয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে দলকে এগিয়ে নেন তরুণ উইঙ্গার আলেবেগোভিচ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জাতীয় দলে অভিষেকেই গোল করেন তিনি। এবার বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে এসে অসাধারণ নৈপুণ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় গোলটি করলেন ১৮ বছর বয়সী ফুটবলার।
৩৪তম মিনিটে দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় গোল হজম করে কাতার। ডি-বক্সে ডান দিক থেকে মাঝে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় পাস বাড়ান এদিন জেকো, কিন্তু সামনে দাঁড়ানো ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রাকের পায়ে লেগে বল যায় জালে।
চার মিনিট পর তৃতীয় গোলও পেতে পারতো বসনিয়া। তবে এবার ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি; দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন জেকো, বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে বাধা পায়।
তৃতীয় গোল খাওয়া এড়াতে পেরে যেন শক্তি ফিরে পায় কাতার। ৪২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে সতীর্থের পাস গোলমুখে পেয়ে পড়ে যাওয়ার আগুমহূর্তে টোকায় ব্যবধান কমান ফরোয়ার্ড হাসান।
ওই অর্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলও পেতে পারতো কাতার। তবে পর্তুগালে জন্ম নেওয়া ডিফেন্ডার পেদ্রো মিগেলের বুলেট গতির শট পোস্ট কাঁপায়।
নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট বাকি থাকতে, প্রতিপক্ষের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগে ব্যবধান বাড়ায় বসনিয়া। ডি-বক্সে কয়েকবার সুযোগ পেয়েও বল ক্লিয়ার করতে পারেনি কাতার, আলগা বল পেয়েই জোরাল শট নেন মিডফিল্ডার মাহমিচ, গোলরক্ষকের গায়ে জালে জড়ায়।
গোলটির পর বসনিয়ার কোচ, খেলোয়াড়, সমর্থকদের উল্লাস ছিল দেখার মতো। শেষ বাঁশির পর, কোচ সের্গেই বার্বারেস ছিল দারুণ উচ্ছ্বসিত। সবকিছুই যেন ইঙ্গিত দেয়, বিশ্বকাপের নকআউটের দারুণ সম্ভাবনাই দেখছেন তারা।