Published : 26 Jun 2026, 04:03 AM
ম্যাচের শুরুতেই গোল উদযাপনে মাতল জার্মানি। পিছিয়ে পড়ে মনোবল হারাল না একুয়েডর। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্মরণীয় জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল তারা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ২-১ গোলে জিতেছে একুয়েডর।
জার্মানির নকআউটের টিকেট নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরের ধাপে উঠেছে আইভরি কোস্ট।
৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে একুয়েডর। সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত করেছে তারা। ১ পয়েন্ট পাওয়া কুরাসাও বিদায় নিয়েছে।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল নিয়ে হবে নকআউটের প্রথম ধাপ- রাউন্ড অব ৩২।
লক্ষ্য পূরণে এই ম্যাচে একুয়েডরের জয়ের বিকল্প ছিল না। উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে সেটিই করে দেখাল তারা।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের নকআউটে খেলবে একুয়েডর। সবশেষ খেলেছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসরে।
জার্মানির বিপক্ষে তিনবারের দেখায় একুয়েডরের প্রথম জয় এটি।
লিহয় জানের গোলে পিছিয়ে পড়ার একটু পরই দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেন প্লাটা।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একুয়েডরের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের নিখুঁত পাস বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান লিহয় জানে।
বিল্ডআপের শুরুতে বল ক্লিয়ারের চেষ্টা করা একুয়েডরের পেদ্রোর মাথার ওপরে পা তুলেছিলেন জার্মানির আলেকসান্দার পাভলোভিচ। আঘাত পেয়ে পড়ে যান পেদ্রো। গোলের পর প্রতিবাদ জানায় একুয়েডরের খেলোয়াড়রা। তবে ভিএআরের সাহায্যে গোল বহাল রাখেন নারী মার্কিন নারী রেফারি টরি পেনসো।
জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি একুয়েডর। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে সমতা টানেন নিলসন অ্যাঙ্গুলো।
এবারের বিশ্বকাপে একুয়েডরের প্রথম গোল এটি!
প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য সুযোগ কেউ তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পরে ভিএআরের সাহায্যে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। বিল্ডআপের সময় পেদ্রোকে ফাউল করেছিলেন জানে।
৬২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত একুয়েডর। জন ইয়েবোয়ার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ২০ গজ দূর থেকে জোরাল শট নেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে দুই পাশে। সুযোগও মিলতে থাকে। কিন্তু গোলের দেখা আর মিলছিল না।
৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। একুয়েডরের কর্নারে বক্সে হেড করেন কেভিন রদ্রিগেজ। গোলরক্ষক নয়ারের সামনে থেকে বুটের টোকায় বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন প্লাটা।
শেষ বাঁশি বাজার পর সেই উদযাপনের মাত্রা বেড়ে যায় আরও।
টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল একুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে তারা ছিল দ্বিতীয় স্থানে।
কিন্তু মূল আসরে প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৯০তম মিনিটের গোলে হেরে যায় একুয়েডর। পরের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। তাতে বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় দলটি। তবে জার্মানির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য গল্প রচনা করে নকআউটের টিকেট কাটল তারা।