Published : 16 Jul 2026, 08:28 AM
শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও কেন নিজেদের গুটিয়ে ফেলল ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেই হারিয়ে তাদের হারের পর এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত। উত্তরে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল যা বললেন, তাতে দলটির মানসিক শক্তি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল ভীষণ মারমুখী মেজাজে। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তাতে, ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলটি ছয় দশকের মধ্যে আরেকবার সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় ফাইনালে খেলা আশা জাগায়।
কিন্তু, অবিশ্বাস্যভাবে ওই এক গোলের লিড পেয়েই নিজেদের গুটিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ঘর সামলানোয় বাড়তি মনোযোগ দিতে গিয়ে যেন নিজেদের খোলসে বন্দি করে ফেলে তারা; আর্জেন্টাইন আক্রমণের জোয়ারে তাদের সেই প্রচেষ্টাও ভেসে যায়। সাত মিনিটে দুই গোল খেয়ে শেষ হয় দলটির ফাইনাল খেলার স্বপ্ন।
ভালো অবস্থানে থেকেও, এভাবে পথ হারানোয় ইংলিশ দলটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। স্বাভাবিকভাবেই যে সমালোচনার কেন্দ্রে কোচ টুখেল।
ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি ওয়ানকে এই জার্মান কোচও বললেন, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হতে গিয়েই ভুল করেছে তার দল।
“আমরা হতাশ, আমরা (জয়ের) খুব কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু গোল করার পর আমরা খুব বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ি এবং অনেক আক্রমণের মুখে পড়ি।
“আমরা বল পজেশনে ভালো করতে পারিনি এবং অনেক ক্রস সামলাতে হয়, প্রতিপক্ষের অনেক সুযোগ ও শট সামলাতে হয়। আমরা (লক্ষ্যের) কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু গোল করার পর আমরা খেলার মান ধরে রাখতে পারিনি। ”
দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফেরার পরই উইঙ্গার গর্ডনকে বসিয়ে, ডিফেন্ডার এজরি কন্সাকে নামান টুখেল। ১০ মিনিট পর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইসকে তুলে লেফট-ব্যাক নিকো ও’রাইলিকে নামান কোচ।
তার এই দুটি সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে, যা রক্ষণাত্মক কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে। দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা না করে, কেন এই কৌশল নিলেন? উত্তরে কোচ বলেন, পরিস্থিতির কারণেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
“গত কয়েক ম্যাচে আমি আক্রমণাত্মক বদলি খেলোয়াড়ও নামিয়েছি। কিন্তু এখানে আমি কেবল আমার খেলোয়াড়দের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গোল করার পরপরই আমরা একটা আক্রমণের মুখে পড়ি এবং তখন আমরা রক্ষণে পাঁচ জন খেলানোর সিদ্ধান্ত নিই, কারণ আমাদের রক্ষণে অনেক ফাঁকা জায়গা ছিল।
“তারা প্রতিটি ক্রসেই হেড করতে পারছিল, এবং তারা ক্রস করেই যাচ্ছিল, তাই আমরা ফাঁকা জায়গা বন্ধ করতে রক্ষণে পাঁচ জন খেলানোর পরিকল্পনা নিই…তারা অনেক বেশি ক্রস করছিল এবং সুযোগ তৈরি করছিল, তাই আমরা রক্ষণে সাহায্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।”
৮৫তম মিনিটে মেসির পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে অনেক দূর থেকে জোরাল শটে সমতা টানেন এন্সো ফের্নান্দেস। এই গোলের পরও, ইংল্যান্ডকে দেখা যায়নি আক্রমণে মরিয়া হয়ে উঠতে। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় গোলটি তো তারা হজম করে ক্রস থেকেই। আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের শট পোস্টে লাগার পর, ডি-বক্সের ডানদিকে মেসি যখন বল পেলেন, তখন বেশ দেরিতে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেন দুই ডিফেন্ডার।
ওখান থেকে মেসির পাস পেয়েই জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস।
এরপরও সাত মিনিটের মতো খেলা চলে। কিন্তু নাটকীয়তা ফেরানোর মতো কিছুই করতে পারেনি ইংল্যান্ড।