Published : 15 Jul 2026, 01:04 PM
সেমি-ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার জার্সি নিয়ে বেশ তোলপাড়ই পড়ে গেছে। ফুটবলের লড়াইয়ে যোগ হয়েছে কুসংস্কারের ছোঁয়া। এমনকি সেই হাওয়া স্পর্শ করেছে প্রতিপক্ষ দলের কোচকেও। টমাস টুখেল অবশ্য এতে অবাক হননি, বরং তার কাছে উপযুক্ত বলেই মনে হয়েছে। ইংল্যান্ডের কোচ বললেন, আর্জেন্টিনার জায়গায় থাকলে তিনি নিজেও হয়তো এরকম কিছুই করতেন।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী আকাশী-নীল ও সাদা ডোরাকাটা জার্সি বদলে গাঢ় নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা। তাদের ফেডারেশন ফিফার কাছে অনুরোধ করে অনুমতি নিয়েছে এই ম্যাচে ‘অ্যাওয়ে’ জার্সিতে মাঠে নামতে।
এই জার্সি এখন শুধু বিকল্প একটি জার্সি নয়, আর্জেন্টিনার কাছে তা আরও বেশি কিছু। অনেকের কাছে এটি তাদের ফুটবল লোকগাঁথার একটি অংশ; এমন একটি জার্সি যা তাদের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু স্মৃতির সঙ্গে মিশে আছে। এই জার্সিতে জড়িয়ে আছে তাদের সৌভাগ্যও।
প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড বলেই এই জার্সির প্রতি তাদের এমন অনুরাগ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটিতে, ১৯৮৬ আসরের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গাঢ় নীল জার্সি পরেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই দিয়োগো মারাদোনা করেছিলেন তার বিখ্যাত (এবং কুখ্যাত) ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং সেটির মিনিট চারেক পরই একক প্রচেষ্টায় করেছিলেন অবিশ্বাস্য এক গোল, যেটি পরে পরিচিতি পায় ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ নামে। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
পরে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারায় আর্জেন্টিনা এবং সেদিনও তারা খেলেছিল গাঢ় নীল জার্সিতে।
আকাশী-নীল ও সাদা ডোরাকাটা জার্সিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলে হেরেছে তারা তিনটিতেই।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবর, সেই কুসংস্কার থেকেই এবার গাঢ় নীল জার্সিতে খেলতে মরিয়া ছিল আর্জেন্টিনা।
প্রতিপক্ষের এমন ভাবনাকে সাদরেই গ্রহণ করছেন টুখেল। সেমি-ফাইনালের আগের দিন ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ অকপটেই বললেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চেও কুসংস্কারের জায়গা থাকে।
“এর সঙ্গে কোনো কুসংস্কার জড়িয়ে থাকলে আমিও একই কাজ করতাম। সুতরাং তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। আমার ঠিক জানা ছিল না এটি।
আমাদের এমন কিছু অভ্যাস আছে, যা সারাদিন আমাদের স্থির ও শান্ত রাখে। তা বদলাবে না। সৌভাগ্যসূচক ব্যাপার অবশ্যই আমাদেরও আছে এবং এই শীর্ষ পর্যায়ের খেলায়ও এই বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক।”
নিজের কুসংস্কার নিয়ে খঅনিকটা মজাও করেন ৫২ বছর বয়সী কোচ। তাতে হাসির রোল পড়ে যায় কক্ষে।
“আমারও কিছু কুসংস্কারমূলক অভ্যাস আছে। আপনাদেরকে তা বলব না, কারণ আরেকটি কুসংস্কার হলো, যদি আমি এসব বলে ফেলি, তাহলে তা কাজ করবে না।”
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির অবশ্য দাবি, এই জার্সি পরে খেলাটা তার চাওয়া ছিল না।
“সত্যি বলতে, আমি নীল জার্সিটা চাইনি। আমি জানি না কে চেয়েছিল, তবে সম্ভবত এটা একটা ঐতিহ্য।
তবে আমি সত্যিই জানি না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। টমাসের (টুখেল) যদি কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে আমার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।”
আর্জেন্টিনার গাঢ় নীল জার্সিটি দেশটির সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত, যার কালো ভিত্তির ওপর রয়েছে ঘূর্ণায়মান নীল ফিলেতেয়াদো-অনুপ্রাণিত নকশা।
ফিলেতেয়াদো হলো বুয়েনস আইরেসের একটি ইউনেস্কো-স্বীকৃত আলংকারিক শিল্পকলা ও অক্ষরবিন্যাসের শৈলী, যার বৈশিষ্ট্য হলো উজ্জ্বল রঙ, সাবলীল ফুলের নকশা, ত্রিমাত্রিক ছায়া এবং অত্যন্ত শৈল্পিক গথিক টাইপোগ্রাফি।
শেষ পর্যন্ত এটি সৌভাগ্যের প্রতীক হোক বা নিছকই আরেকটি জার্সি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশায় আর্জেন্টিনা।