Published : 17 Jul 2026, 10:08 AM
বিশ্বজুড়েই ফুটবলার ও কোচরা নানারকম কুসংস্কার মেনে চলেন। সমর্থকদের মধ্যেও নানারকম কুসংস্কার দেখা যায়, বিশেষ করে বড় কোনো আসর বা টুর্নামেন্ট চলার সময়। এসবের বাইরের নন এমনকি দেশের প্রধানও। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হাবিয়ের মিলেই সাফ জানিয়ে দিলেন, মাঠে গিয়ে নয়, বরং ঘরে বসেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবেন। কারণও, কুসংস্কার!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ মিলেই। ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণও তিনি পেয়েছেন। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচ তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনেই দেখবেন। কারণ, এখানেই বসেই লিওনেল মেসিদের সাতটি ম্যাচ তিনি দেখেছেন এবং সবকটিই জিতেছে দল।
বুয়েনস আইয়ের স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের পক্ষ থেকে মিলেইকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞেস করা হয়, নিউ জার্সিতে ফাইনাল দেখতে যাবেন কি না। মেসিদের রাষ্ট্রপতির জবাব, “কোনোভাবেই না! অন্য সব ম্যাচের মতো অলিবোসে (রাষ্ট্রপতি ভবন) বসেই খেলা দেখব।”
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কুসংস্কারের কারণেই তিনি বাড়িতে বসে খেলা দেখবেন কি না। তার সরাসরি উত্তর, “হ্যাঁ।” শেষ নয় এখানেই। দেশকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততে সাহায্য করার জন্য তিনি সেই একই ভারী জ্যাকেটও গায়ে চাপিয়ে খেলা দেখনে।
“যেহেতু এখন ঠান্ডা আর আমি হিটার চালাই না, তাই একটি তেল কোম্পানির ব্র্যান্ডের জ্যাকেট পরি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন এটা পরে আমার খুব গরম লাগছিল। তখন ওটা খুলে ফেলি, আর ওরা আমাদের বিপক্ষে একটা গোল করে দেয়। তখন আবার ওটা পরে নিই এবং এরপর আর কখনো খুলিনি।”
বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও ফুটবলাররা এমন সব কুসংস্কারে বিশ্বাস করে, যা তাদের দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে, অথবা প্রতিপক্ষের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে। কিন্তু লাতিন আমেরিকায়, বিশেষ করে আর্জেন্টিনায়, কুসংস্কার বিশ্বাস করা হয় প্রবলভাবেই। সেটা শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের নানা ক্ষেত্রেই। তথাকথিত ‘কাবালাস’ বা আচার-অনুষ্ঠানমূলক বিশ্বাস ও অভ্যাসগুলো অস্বাভাবিক গুরুত্ব বহন করে আর্জেন্টিনায়, যা দলের প্রতি অনেকের তীব্র ভালোবাসা ও আগ্রহকেই প্রতিফলিত করে।
মিলেইয়ের মতো, বেশিরভাগ আর্জেন্টাইনেরই এমন প্রথা আছে, যা অনুযায়ী দল জিততে থাকলে, তারা একই রুটিন মেনে চলেন। কেউ কেউ বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় তাদের জার্সি না ধুয়ে প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরে থাকেন। কেউ কেউ প্রতিটি খেলা একই জায়গায় বসে দেখেন — আবার কাউকে খেলা দেখার অনুমতিই দেওয়া হয় না, যেমনটা হতে পারে তাদের ক্ষেত্রে, যারা আর্জেন্টিনা গোল করার সময় বাথরুমে থাকে।
ছোট ছোট কাজগুলো সেখানে অসাধারণ তাৎপর্য বহন করে। এই বিশ্বকাপের একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই একদল ভক্ত বাইবেল থেকে পড়া শুরু করে, যা তখন থেকে তাদের প্রতিটি ম্যাচেই পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করে। প্রতিপক্ষ দলের ওপর প্রভাব ফেলার একটি প্রচলিত প্রথা হলো, খেলোয়াড়দের মূর্তি বা প্রতিপক্ষের নাম লেখা কাগজের টুকরো জমিয়ে বরফ করে দেওয়া।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতিরা তাদের দলের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনা এড়াতে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা অবলম্বন করে আসছেন। এই কুসংস্কারটির সূত্রপাত হয় মূলত ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে। সেবার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে দেখা করেছিলন যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কার্লোস মেনেম। পরে সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় এক অঘটনের জন্ম দিনে দিয়েগো মারাদোনার দলকে হারিয়ে দেয় ক্যামেরুন।
মেনেমকে তখন ‘মুফা’ বা কুফা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে কোনো ক্ষমতাসীন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের কোনো ম্যাচে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।