Published : 17 Jul 2026, 12:27 PM
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপে জোয়ারের সময় ভেসে আসা অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ একদিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয়নি।
পুলিশ ও নৌ-পুলিশের মধ্যে ‘সমন্বয়হীনতার’ কারণে মরদেহটি উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হাসি মার্কেট’ সংলগ্ন কেওড়া বাগানে অজ্ঞাত পরিচয় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। জোয়ারের পানির সঙ্গে সেটি ভেসে এসে বনের ভেতর কেওড়া বাগানে আটকে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিঝুমদ্বীপ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলছেন, “পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা বৃহস্পতিবার রাতেই সেখানে যাই, কিন্তু তখন কিছু পাইনি। পরে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে আবার খোঁজাখুঁজি শুরু হলে মরদেহটির সন্ধান মেলে।”
তিনি বলেন, “মরদেহের হাত ও পায়ের নখ উঠে গেছে। মুখমণ্ডলও প্রায় বিকৃত হয়ে গেছে। জোয়ারের পানি থাকার কারণে লাশটি এখনও তুলে আনা সম্ভব হয়নি।”
এদিকে মরদেহে পচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সেটি দ্রুত উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বেলা ১২টার দিকে নৌ-পুলিশ কর্মকর্তা আশিকুরের ভাষ্য, “পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে আমাদের বলা হয়েছিল যে, শুক্রবার সকালেই লাশটি তুলে আনা হবে। এতক্ষণে সেটি উদ্ধার করে নিয়ে আসার কথা।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিঝুমদ্বীপ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুমন বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা দ্রুত সেখানে যাব এবং মরদেহটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করব।”
এদিকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাবনী বেগম বলেন, “মরদেহটি বনের ভেতরে দুর্গম এলাকায় হওয়ায় এবং জোয়ারের পানির কারণে এটি উদ্ধারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”
হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি মূলত নৌ-পুলিশের আওতাধীন। এরপরও খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং নৌ-পুলিশ উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি বলছেন, “কেওড়া বাগানটি মূল সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এবং বাগানে জোয়ারের পানি থাকায় মরদেহটি তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার পানি কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে দ্রুত মরদেহটি উদ্ধার করা হবে।”