Published : 17 Jul 2026, 01:16 PM
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানি কেডিএস গ্রুপের হাতে আসার পর নতুন নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন পুরনো উদ্যোক্তা বদিউর রহমান, যিনি এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন।
বদিউর রহমান বিদায়ী পর্ষদের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক খাজা শাহরিয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ পড়লেও নতুন পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ব্যাংকে রয়ে গেছেন খাজা শাহরিয়ার।
অন্যদিকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। তিনি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমএই এর বর্তমান কমিটির ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক তাদের নতুন পর্ষদ গঠনের কথা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।
তার আগের দিন বুধবার ব্যাংকটির ১৪ জন শেয়ারহোল্ডারকে পরিচালক করার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের ৫ স্বতন্ত্র পরিচালক মিলিয়ে বর্তমান পর্ষদে আছেন ১৯ জন পরিচালক।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক গত প্রায় দুই বছর পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে।
নতুন যুক্ত হওয়া ১৪ জন শেয়ারধারক পরিচালকের মধ্যে কেডিএস গ্রুপের ৬ জন। তার ফলে ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ অনুমোদনের মত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে গ্রুপটির প্রভাব বেশি থাকবে।
উদ্যোক্তা বদিউর রহমান কেডিএস গ্রুপের ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্যাসিফিক জিনসের স্বত্বাধিকারী।
আল আরাফাহ্ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্প আসাদী স্টিলের উদ্যোক্তা ও ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক লিয়াকত আলী চৌধুরী।
ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক।
অন্যদিকে নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন আগের পর্ষদে থাকা স্বতন্ত্র পরিচালক এম আবু ইউসুফ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে সর্বোচ্চ তিনটি সাব কমিটি থাকতে পারবে। মূল নেতৃত্বের পাশাপাশি তিন সাব কমিটির দুটির নেতৃত্বে কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধিরাই থাকছেন।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, নারিশ পোল্ট্রি ফিডের মূল প্রতিষ্ঠান খালেদ গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক নাজমুল আহসান খালেদ এবং পুরান ঢাকার মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লা।
তিনিও ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে জামায়াতের ইসলামীর পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত প্রার্থী।
পর্ষদে এসেছেন ব্যবসায়ী আহামেদুল হক, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মীর আহমেদ সওদাগরের সন্তান ও চট্টগ্রামের মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সিলেটের আল হারামাইন গ্রুপের ইমাদুর রহমান, ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসাইন।
নতুন যুক্ত পরিচালকরা হলেন কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি মাহবুব আহমেদ ও কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কেওয়াই স্টিল মিলের প্রতিনিধি শরিফ উদ্দিন তসলিম।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাতের পনর্গঠন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে এক ডজনের বেশি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০২৪ সালের অগাস্টে আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে স্বতন্ত্র ৫ পরিচালক দিয়ে নতুন পর্ষদ সাজায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সেই পর্ষদের খাজা শাহরিয়ারসহ পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নতুন পর্ষদেও রয়েছেন। অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন শাহীন উল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান।