Published : 17 Jul 2026, 02:45 PM
গুরনুর ব্রারের বলে ফাইন লেগে দিয়ে যখন বাউন্ডারি মারলেন জো রুট, সেঞ্চুরির জন্য তখন কেবল একটি শটই প্রয়োজন তার। ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ২৬ রান। সেঞ্চুরি ছুঁতে রুটের লাগত ৪ রান। অবিশ্বাস্যভাবে, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেও শতরান হলো না তার। ম্যাচ শেষে অবশ্য ইংলিশ গ্রেটের দাবি, দলের জয়ের ম্যাচে তার আক্ষেপ নেই কোনো।
ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটিতে ৪ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। রুট অপরাজিত থাকেন ৯৯ রানে।
ইংল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড ২০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা রুট ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
কার্ডিফে বৃহস্পতিবার ২৩৪ রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই বেন ডাকেট আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান রুট। ইংল্যান্ড ৫৩ রানে হারায় ৩ উইকেট। পঞ্চম উইকেটের পতন হয় ১২৫ রানে। টালমাটাল সেই অবস্থা থেকে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান রুট।
গুরুনুরের বলে ওই বাউন্ডারির পর ইংল্যান্ডের যখন ২৬ রান লাগে আর রুটের প্রয়োজন ৪, এরপরও ৪টি ডেলিভারি স্ট্রাইক পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেবল তিনটি সিঙ্গল নিতে পারেন। অন প্রান্তের ভাগ স্ট্রাইক পেয়ে কয়েক বাউন্ডারি আদায় করে বাকি রান করে ফেলেন গাট অ্যাটকিনসন।
বুমরাহর বলে একটি ছক্কা মারেন অ্যাটকিনসন, গুরুনুরের দুই ওভারে মারেন দুটি বাউন্ডারি। জয়ের জন্য যখন তিন রান লাগে, প্রাসিথ কৃষ্ণার শর্ট বলে পুল করে চার মেরে দেন অ্যাটকিনসন। ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন রুট।
তার শরীরী ভাষা যেমন ছিল স্বতস্ফূর্ত, তেমনি ম্যাচের পর তার প্রতিক্রিয়াও। নিজে সেঞ্চুরি না পেলেও দলের জয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ কি না, এই প্রশ্নে তার ঝটপট উত্তর, “অবশ্যই… খেলার মূল ব্যাপারই তো এটি!”
ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যানের চোখে, দলকে জেতানোর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর নেই। এজন্যই ভারত যখন ফিল্ডিং চাপিয়ে ফেলেছিল, রুট তখন অ্যাটকিনসনকে বলেছিলেন শট খেলতে।
"আমি ওকে বলেছিলাম কাজটা সেরে ফেলতে। ওরা যদি এভাবে ফিল্ডিং সাজিয়ে আমাদের ম্যাচটা জেতার সুযোগ দিতে চায়, তাহলে আমরা সেটা নেব।
সিরিজে ১-১ সমতা নিয়ে লর্ডসে (সিরিজের শেষ ম্যাচে) যেতে পারছি, এটিই বড় ব্যাপার। এই ধরনের কন্ডিশনে, এই পিচে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারা ও কাজটা সম্পন্ন করতে পারা, এসবই সম্ভবত ক্রিকেটে সবচেয়ে সেরা অনুভূতি।”
ওয়ানডেতে এর আগে ৯০ ও ৯১ রানে অপরাজিত থেকেছেন রুট, আউট হয়েছেন ৯৩ রানে। টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত থেকেছেন ৯০ রানে। টেস্টে নানা সময়ে কাটা পড়েছেন ৯১, ৯৫ ও ৯৮ রানে। ৯৯ রানের ইনিংস তার ব্যাটে এটিই প্রথম।
১ রানের আফসোস নয়, রুট এখানে মজার দিকটিই খুঁজে পেলেন। পাশাপাশি আবার বললেন, দলের জয়ই আসল।
“আমি কয়েকবার আউট হয়েছি (নব্বইয়ে)… মজার ব্যাপারই বটে, কিন্তু না…. যেমনটি বললাম, এসবের (সেঞ্চুরি) জন্য তো আমরা খেলি না। খেলা হয় ম্যাচ জেতার জন্য। এই জয়ে সিরিজটা এখন বেশ জমে উঠেছে, যা আমরা আজকের শুরুতে চেয়েছিলাম। এখন লর্ডসের বড় ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি লর্ডসে রোববার।