১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো নিয়ে আইসিসিকে তির ডাচ তারকার

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে আইসিসি, যা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 07:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:40 PM

দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে বিশ্বকাপে গিয়ে অভিযান শেষ হয়ে যাবে স্রেফ দুই ম্যাচেই! ওয়ানডে বিশ্বকাপের বদলে যাওয়া কাঠামোয় এই অভিজ্ঞতা হবে দুটি দলের। নতুন এই কাঠামোর সমালোচনা করেছেন নেদারল্যান্ডসের সফলতম ব্যাটসম্যান মাক্স ও’ডাউড।

স্কটল্যান্ডে সম্প্রতি আইসিসির সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কাঠামো বদলে ফেলার। নতুন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে বুধবার। 

অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করা হলেও সব দল বিশ্বকাপের মূল স্রোতে মিশতে পারবে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২, ১৩ ও ১৪তম স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে হবে একটি ‘সুপার সিরিজ।’ 

এখান থেকে দুটি দল বাদ পড়বে, শীর্ষ দল জায়গা করে নেবে গ্রুপ পর্বে। 

গ্রুপ পর্বে ১২টি দল দুটি ভাগে ভাগ হয়ে লড়বে। প্রতি দল খেলবে ৫টি করে ম্যাচ।

এই দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরের সর্বোচ্চ স্থানে থাকা দল, এই সাত দলকে নিয়ে হবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। এখান থেকে শীর্ষ চারটি দল খেলবে সেমি-ফাইনালে। 

বিশ্ব আসরগুলোয় নিয়মরক্ষার ম্যাচ অনেক বেশি হওয়ায় এবং দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামের শঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর আইসিসি সভায় এই পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেক ম্যাচের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় এবং টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে আরও উত্তেজনা নিশ্চিত করতে, দলের সংখ্যা পরিবর্তন না করে নকআউট পর্ব আরও আগে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই নিয়মে ১২ থেকে ১৪তম স্থানে থাকা তিন দলের দুটি বাদ পড়তে হবে বিশ্বকাপের একদম শুরুতেই। সেই দুটি দেশ নিশ্চিতভাবেই হবে সহযোগী সদস্য দেশগুলো থেকে। 

‘সুপার সিরিজ’ নাম দেওয়া হলেও আদতে এই ধাপকে বিশ্বকাপের অংশই মনে করবেন না অনেক। বরং এটিকেও বলা যায় এক ধরনের বাছাইপর্ব। 

কৌতুকের সুরে সামাজিক মাধ্যমে সেটিই তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার হাজারের বেশি রান করা একমাত্র ডাচ ব্যাটসম্যান ও’ডাউড। 

“তাহলে আপনি বলছেন যে, সহযোগী দলগুলোকে একটি তিন বছরব্যাপী ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে খেলতে হবে, তারপর একটি বাছাইপর্বের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, যেখান থেকে তারা আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং সবশেষে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে!”

বিশ্বকাপের ১৪ দলের মধ্যে ১০টি সরাসরিই খেলার যোগ্যতার অর্জন করবে।-দুটি পূর্ণ সদস্য আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে এবং ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ অন্য আট দল। এই র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্য ‘কাট-অফ’ তারিখ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

বাকি চারটি দল একটি বৈশ্বিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ১০ দলের এই আসরে অংশ নেবে র‍্যাঙ্কিংয়ের পরের শীর্ষ দুটি দল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট লিগ-২ থেকে আসা চারটি দল এবং বাছাইয়ের প্লে-অফ থেকে চারটি দল। 

বিশ্বকাপ ক্রিকেট লিগ-২ চলে সাধারণত তিন বছর ধরে, এবারে চক্রে যেখানে অংশ নিচ্ছে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিশ্বকাপে গিয়ে দুই ম্যাচ খেলেই থেমে যেতে হবে এখানকার দুটি দলকে।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আয়ার‌ল্যান্ডসের মতো দলগুলিকে টপকে জায়গা করে নিয়েছল নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপে তারা চমকে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশকে হারিয়ে। 

ক্রিকেটীয় ব্যাপারে যার মতামত সাধারণত একটু ভিন্ন ও গভীর হয়ে থাকে, সেই রাভিচান্দ্রান অশ্বিন অবশ্য পরিবর্তনের কারণ অনুধাবন করতে পারছেন। তবে এই দলগুলির জন্য আরও অংশগ্রহণমূলত কিছু রাখতে বললেন সাবেক এই ভারতীয় স্পিনার। 

“২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি ফরম্যাটের পরিবর্তনগুলো প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক। কিন্তু যদি চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় খেলাটির প্রসার ঘটানো, তবে উদীয়মান দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী পথ তৈরি করা প্রয়োজন।”

“নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র এবং আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলোর শুধু বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টই নয়, আরও অর্থবহ ম্যাচ প্রয়োজন (উদাহরণস্বরূপ: প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তৃতীয় দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া)। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, সম্মিলিত উন্নতিই এই খেলাটিকে অলিম্পিকসে একটি দর্শনীয় কিছুতে পরিণত করবে।”