Published : 16 Jul 2026, 10:18 PM
কঠিন সময়ে দলকে উজ্জীবিত করতে কত কিছুই তো বলতে হয় কোচদের। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিং যেমন টেনে আনলেন ২০ বছর আগে তার তেতো অভিজ্ঞতার এক ম্যাচের প্রসঙ্গ। ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নামার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস নাকি বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ১৫ রান কম করেছে।’ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল ২৬৬ রান তোলার পর ক্যালিসের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করেন ওয়াশিংটন ফ্রিডমের প্রধান কোচ পন্টিং। ম্যাচ জিতে তার দল গড়ে বিশ্বরেকর্ড।
মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম এলিমিনেটরে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে এমআই নিউ ইয়র্কের ২৬৬ রান টপকে ৬ উইকেটের জয় পায় পন্টিংয়ের দল ওয়াশিংটন ফ্রিডম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়ায় জয়ের বিশ্বরেকর্ড এটি।
এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন তিন জন। ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেন নিউ ইয়র্কের নিকোলাস পুরান। জবাবে স্টিভেন স্মিথ ও আন্দ্রিয়েস হাউসের সেঞ্চুরি এবং তাদের ২৪১ রানের রেকর্ড জুটিতে আট বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ওয়াশিংটন।
৫১ বলে ১৩২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হওয়া হাউস শোনালেন ড্রেসিং রুমে পন্টিংয়ের দলকে উজ্জীবিত করার গল্প।
“বিরতির সময় আমরা একটা মজা করেছিলাম, আমাদের কোচ রিকি দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই ৪৩৮ রানের ম্যাচের অংশ ছিলেন এবং ক্যালিস মন্তব্য করেছিলেন যে, ওরা ১৫ রান কম করেছে। তিনি (পন্টিং) এসে বললেন, ‘ওরা ১৫ রান কম করেছে, ছেলেরা।’ তার ওই কথা সবাইকে স্বস্তি দিয়েছিল। এরপর আমরা ব্যাটিংয়ে নামলাম…।”
২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১৬৪ রানের ইনিংস খেলেও পন্টিং ছিলেন পরাজিত দলে। অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান করে ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড হিসেবে এটি টিকে আছে এখনও। ম্যাচটি এখনও বিস্ময় জাগায় ক্রিকেট অনুরাগীদের।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুইশ বা আড়াইশ রানের দেখা মেলে এখন প্রায় নিয়মিতই। কিন্তু ২৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা সহজ কোনো বিষয় নয়। হাউস বললেন, তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু মেরে খেলা।
“এটা আসলে খুব সহজভাবে খেলার ব্যাপার এবং আপনাকে শুধু মেরে খেলতে হবে। তাই এই দিক থেকে ব্যাপারটা বেশ ভালো ছিল যে, এখানে কোনো কৌশল ছিল না, মূল ব্যাপার ছিল স্রেফ নিজের মতো ব্যাট চালানো আর আশা করা যে, বলটা ব্যাটে লাগবে। আমার মনে হয়, যখন ২৮ বা ২৭ বলে ২৬ রান দরকার ছিল, তখনই আমরা বলেছিলাম: ‘ঠিক আছে, এখন আমরা কিছু পরিকল্পনা শুরু করতে পারি’, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত শুধু এটাই লক্ষ্য ছিল যে, ব্যাট চালিয়ে যাওয়া। আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা বলের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পেরেছি।”
ওয়াশিংটন যখন বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামে, তার আগে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর পূর্বাভাসে, তাদের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা বলা হয়েছিল কেবল ৯.৯৬ শতাংশ। প্রথম তিন ওভারের মধ্যে সাকিব আল হাসান যখন মিচেল ওয়েন ও রাভিন্দ্রা জাদেজাকে ফিরিয়ে দেন, তখন সেই সম্ভাবনা আরও কমে দাঁড়ায় ২.৯১ শতাংশ। এরপরই স্মিথ ও হাউস খুনে ব্যাটিংয়ে পাল্টে দেন চিত্র। দুজন মিলে ছক্কা হাঁকান ২১টি।
তাদের ২৪১ রানের জুটি তৃতীয় উইকেটে বিশ্বরেকর্ড। এই জুটির গল্পও ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে শোনালেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান হাউস।
“হ্যাঁ, এটা সত্যিই স্পেশাল। আমার মনে হয়, আমরা বিষয়টাকে যতটা সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি। যখন ওভারপ্রতি ১৪-১৫ রান তাড়া করবেন, তখন ওভারপ্রতি দুটি বাউন্ডারি ও কয়েকটি সিঙ্গল পেলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। তাই সপ্তম ওভার থেকে আমরা বুঝতে পারছিলাম যে, আমাদের একটা সুযোগ থাকতে পারে এবং ১০ ওভার শেষে, আমার মনে হয় প্রয়োজনীয় রান রেট ছিল সাড়ে ১৪, তখন আমরা বললাম ঠিক আছে, এটা খুবই সম্ভব… আমি খুবই খুশি।”