Published : 16 Jul 2026, 08:04 PM
বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের সঙ্গে এয়ারবাসকেও যুক্ত করার দিকে সরকারের এগোনোর আভাস দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “আমাদের ট্যুরিজম, সিভিল এভিয়েশনকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনি দেখেছেন যে, উনি কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে ভঙ্গুর অর্থনীতি উনি ইনহেরিট করেছেন গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার থেকে, এই অর্থনীতিকে ভালো অবস্থায় নিতে হলে আমাদের যে রকম কৃচ্ছতাসাধন একদিকে করতে হবে, আবার আমাদের যা যা প্রয়োজন, সেগুলো আমাদের কিনতেও হবে।
“তো, আমাদের বোয়িংও দরকার, আমাদের এয়ারবাসও দরকার। তো দুটোই আমরা ক্রয় করব।”
গত ৩০ এপ্রিল ঢাকার একটি হোটেলে বোয়িং এর সঙ্গে ১৪ টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং এর কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই ইউরোপীয়দের চাপ বাড়ছিল; অবশেষে তাদের চেষ্টায় ইউরোপে নির্মিত ‘এয়ারবাস’ কেনার দিকেও এগোচ্ছে সরকার।
এর মধ্যে বুধ ও বৃহস্পতিবার পরপর দুদিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অন্তত দুটি বৈঠক করেন ঢাকায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা।
আগের দিন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তারা। ওই বৈঠকের পর এয়ারবাস কেনার বিষয়ে ‘আগ্রহী’ হওয়ার কথা রাষ্ট্রদূতদের জানায় সরকার।
এরপর বৃহস্পতিবার তারা একযোগে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার কথা চলছিল। বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসা মার্কিন জায়ান্ট বোয়িং না ইউরোপিয় নির্মাতা এয়ারবাস- কার পাতে যাবে, সে নিয়ে তখন থেকেই একটা টানাহেঁচড়া চলছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে এয়ারবাসের পক্ষে ঝুঁকেছিল, এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিলেন তখনকার বিমানমন্ত্রী মাহাবুব আলী।
তবে ৫ অগাস্টের পালাবদলের পর পাশার দান উল্টে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত দেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও সিয়াটলের পথেই হেঁটেছে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে সরকার।
তবে সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছেড়ে দেননি। এয়ারবাসের কর্মকর্তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রাখেন।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও যোগাযোগ চালিয়ে যান। জুন মাসেই জানা গিয়েছিল এয়ারবাস কিনতে সরকার ‘পজিটিভ’।
আগের দিনের বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈঠক করেন পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। এ সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনও উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন
অবশেষে এয়ারবাসেও 'আগ্রহ দেখালো' সরকার