Published : 17 Jul 2026, 12:20 PM
আগের ম্যাচের উইকেটেই খেলা। স্কোরও হলো প্রায় একই, ম্যাচের ফলাফলও। স্পিন মঞ্চে আবারও ধস নামল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে। তিন স্পিনারের পারফরম্যান্সে ম্যাচ জিতে নিল নিউ জিল্যান্ড। সেই তিনজনের মধ্যে উজ্জ্বলতম আবারও জেডেন লেনক্স।
পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয়টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।
গায়ানার উইকেটে টার্ন আগের দিনের চেয়ে একটু কম মিলেছে এ দিন। তবে যথারীতি ছিল মন্থর ও নিচু বাউন্সের। আগের ম্যাচে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস এবার শেষ হয় ১৪০ রানে। সেদিন ৪১ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারানো দল এবার ১৯ রানের মধ্যে হারায় শেষ ৬ উইকেট।
সেই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন কিউই স্পিনাররা। এবার তাদের প্রাপ্তি ৮ উইকেট। মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল ২টি করেই উইকেট নিয়েছেন আবার। সেদিনের ৫ উইকেট শিকারি লেনক্সের প্রাপ্তি এবার ৪টি। টানা দুই ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচ বাঁহাতি এই স্পিনার।
তিন ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে একটি রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন লেনক্স। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি স্পিনারের কীর্তিতে ছুঁয়েছেন তিনি ইশ সোধিকে। রেকর্ডটি একার করে নিতে তার সামনে আছে আরও ২ ম্যাচ।
হেরে যাওয়ার ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের প্রাপ্তি ভাইটেল লজের বোলিং। স্বীকৃত ক্রিকেটে না খেলেই এই সিরিজে অভিষেক ম্যাচে তিন উইকেট শিকার করা বাঁহাতি এই রিস্ট স্পিনার এই ম্যাচেও নেন তিনটি উইকেট।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে আবার বোলিংয়ে নামে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম পাঁচ ওভার ভালোভাবে কাটিয়ে দেওয়া ক্যারিবিয়ানরা ধাক্কা খায় ষষ্ঠ ওভারে। রান নেওয়ার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে টানা লাগায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন জন ক্যাম্পবেল।
আরেকপ্রান্তে ভালো শুরু করা আকিম ওগিস (২৭ বলে ২৬) একটু পর আউট হয়ে যান জেকব ডাফির বলে স্যান্টনারের দুর্দান্ত এক ক্যাচে।
এরপরই দৃশ্যপটে স্পিনাররা। আগের ম্যাচের মতোই আর্ম ডেলিভারিতে শেই হোপকে বোল্ড করেন লেনক্স। স্যান্টনারকে রিভার্স সুইপ খেলে উইকেট হারান শেরফেন রাদারফোর্ড।
কেসি কার্টি ও শিমরন হেটমায়ারের জুটিতে বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মেজর লিগ ক্রিকেট খেলে ফেরা হেটমায়ার তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দেওয়া হয় মূলত স্পিন সামলানোর ভাবনার। তার কিটব্যাগও তখনও যুক্তরাষ্ট্র থিকে গায়ানায় পৌঁছায়নি। দুটি ছক্কা মেরে পাল্টা আক্রমণের ইঙ্গিতও দেন তিনি। কিন্তু বড় করতে পারেননি ইনিংস।
ধসের সূচনা হয় ব্রেসওয়েলের হাত ধরে। কার্টিকে (৭৭ বলে ৪৮) ফিরিয়ে তিনি ৪৯ রানের জুটি ভাঙেন। পরের ওভারেই বিদায় করেন দেন হেটমায়ারকে (২৮ বলে ২৬)।
এরপর লেনক্স দুই ওভারের মধ্যে নিয়ে ফেলেন তিন উইকেট। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ভেঙে পড়ে যেন চোখের পলকে।
উইকেট বুঝে রান তাড়ায় ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে এগোয় কিউইরা। হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং ১১ ওভারে ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন।
লজ আক্রমণে এনে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড রেন নিকোলসকে। দারুণ স্পেলে ১৯ বছর বয়সী স্পিনার বিদায় করেন ইয়াং ও মার্ক চ্যাপম্যানকেও।
কিন্তু লক্ষ্য ছিল ছোট, তাই বিপাকে পড়েনি কিউইরা। আগের ম্যাচের মতো ঠিক ২৮ রানে আউট হন ড্যারিল মিচেল। ডিন ফক্সক্রফটকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন টম ল্যাথাম।
গায়ানায় তিন ম্যাচের পর সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ বারবাডোজে, আগামী রোববার ও মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৭.১ ওভারে ১৪০ (ক্যাম্পবেল আহত অবসর ৬, ওগিস ২৬, কার্টি ৪৮, হোপ ৮, রাদারফের্ড ৪, হেটমায়ার ২৬, পল ২৪, মোটি ০, পিয়ের ৪*, জোসেফ ৭, লজ ১*; ডাফি ৫-০-১৫-১, স্মিথ ৪-০-২২-০, স্যান্টনার ৮.১-৩-১৫-২, লেনক্স ১০-০-৫২-৪, ব্রেসওয়েল ১০-০-৩৩-২)।
নিউ জিল্যান্ড: ৩৯.৩ ওভারে ১৪১/৪ (নিকোলস ২৪, ইয়াং ২৩, চ্যাপম্যান ৭, মিচেল ২৮, ল্যাথাম ৩১*, ফক্সক্রফট ২২*; পিয়ের ১০-১-২৬-১, জোসেফ ৫-০-২০-০, মোটি ১০-০-৩৪-০, লজ ১০-০-৩৯-৩, পল ১-০-৬-০, ওগিস ৩-০-১২-০, কার্টি ০.৩-০-২-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জেডেন লেনক্স।