Published : 17 Jul 2026, 12:38 PM
তিন বছর আগে, ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে লিওনেল মেসি যখন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেন, তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এবার দেশটিতেই চলমান বিশ্বকাপে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্ব আসর শেষে লিগে মেসির ফেরার পর, তার এই জাদুর ছোঁয়ায় এমএলএস আরও বদলে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রতিযোগিতাটির কমিশনার ডন গার্বার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল আসলে বদলে যেতে শুরু করে দুই দশক আগে। সেসময় লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির সঙ্গে চুক্তি করেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম। এই লিগে যোগ দিয়ে, সেটাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মেসি। এখন বেকহ্যামেরই মালিকানাধীন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন তিনি।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এখন পর্যন্ত আসরে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেছেন তিনি। সঙ্গে চারটি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন সবার উপরে। তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বলও জিততে পারেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক।
মেসির চওড়া কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে তারা। ইংলিশদের ২-১ গোলে হারানোর পথে দলের দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন মেসি।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির এসব বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স, ক্লাবে ফেরার পর তাকে আরও বড় আকর্ষণে পরিণত করবে বলে মনে করছেন গার্বার।
“মেসি যখন বার্সেলোনায় খেলতেন, তখন আমরা লিগের কেউই সত্যিকার অর্থে বুঝিনি তিনি কী ধরনের খেলোয়াড়, আমরা শুধু ভক্ত হিসেবে তাকে দেখতাম।”
“সত্যি কথা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে ডান পায়ের একটি ক্রসে বিশ্বজুড়ে দর্শকের সামনে ম্যাচ জেতানো এবং দলকে ফাইনালে তুলে নেওয়া- তারপর আর্জেন্টিনার জার্সি খুলে এমএলএসের একটি জার্সি পরে মাঠে নামা- এমন কিছু ঘটতে পারে, আমি কখনও কল্পনাও করিনি।”
আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
শুধু মেসিই নন, এখন ফুটবল বিশ্বের আরও অনেক তারকাই যোগ দিচ্ছেন এমএলএসের ক্লাবগুলোতে। বিশ্বকাপের পর স্থানীয় প্রতিভা এবং বৈশ্বিক সুপারস্টারদের একটি মেলবন্ধন এই প্রতিযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেবে, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আর বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের একটি হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নতুন হাওয়া লাগবে বলে মনে করছেন গার্বার। গত মাসে রয়টার্সকে তিনি বলেছিলেন, ‘দা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ যুক্তরাষ্ট্রের লিগের নতুন যুগের সূচনা এনে দেবে।
এমএলএসের এই অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে অরল্যান্ডো সিটির নতুন চুক্তিবদ্ধ ফরোয়ার্ড আঁতোয়ান গ্রিজমানের আগমনে। লা লিগার ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা জানান, এমএলএসের প্রতিযোগিতার মান বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে।
“বিশ্বকাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য শিশু ফুটবল উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে এবং বল পায়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। আমরা আশা করি স্টেডিয়ামগুলোতে এমন ফুটবল উপহার দিতে পারব, যা দেখে শিশুরা নিজেরাও ফুটবল খেলতে আগ্রহী হবে।”