Published : 24 Jun 2026, 03:35 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ পেয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর তারাটিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তারাটিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় বলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারাটিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কবির হোসেনের মৃত্যু হয় বলে তার চাচা রবিন তালুকদার জানিয়েছেন।
চলতি বছরের পহেলা বৈশাখে বাইশ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠিয়ে টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে সরকারপ্রধান ১৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেন।

সেখানে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারাটিয়া গ্রামের কৃষক কবির হোসেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার শুরু হয়। বিভিন্ন পোস্টে তাকে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং তিনি প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিও ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী তাকে কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য প্রান্তিক কৃষক হিসেবে উল্লেখ করে।
কবির হোসেনের জানাজায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
মৃত্যুকালে কবির হোসেন স্ত্রী সেলি আক্তার, ছেলে সাহেদ তালুকদার ও মেয়ে কনিকা আক্তারসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, “কৃষক কবির হোসেন আমাদের সবার পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনি অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
“আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তার সব গুনাহ মাফ করে জান্নাত নসিব করেন।”
তিনি বলেন, শিগগিরই কবির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাদের পাশে থাকবেন।
জানাজায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সহসভাপতি মির ফরহাদ আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে উপস্থিতরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পুরানো নিউজ
কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষক, কার্ড পাওয়ার 'যোগ্য': তদন্ত প্রতিবেদন