Published : 17 Oct 2022, 03:46 PM
যদি চর্মরোগ বা একজিমার সমস্যা থাকে তবে মাসিক শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
যাদের মাসিকের স্বাভাবিক চক্র চলে তারা ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে দেহে নানান সংকেত পেতে থাকেন। ‘প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম’ বা ‘পিএমএস’ থেকে উদ্বেগ ও ক্ষুধা বৃদ্ধির পাশাপাশি নানান ধরনের ইঙ্গিত দেয়।
আর কারও যদি একজিমার সমস্যা থাকে, তবে সেটাও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এই বিষয়ে ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, নিউ ইয়র্কের বোর্ড নিবন্ধিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মারিশা গার্শিক বলনে, “একজিমা কখনও কখনও হরমোনের মাত্রার সঙ্গে ওঠানামা করে। মাসিকের আগের সপ্তাহে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে একজিমার প্রকোপ বাড়ে। তাই অনেকেই পিরিয়ডের আগে ত্বকে একজিমার বিস্তার খেয়াল করে থাকেন।”
মাসিক শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে একজিমা বৃদ্ধি নিয়ে করা গবেষনার ফলাফল বিভিন্ন রকম।
ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডোনিয়ার বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আইভি লি বলেন, “গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ নারীর পিরিয়ডের আগে একজিমা বৃদ্ধি পায়।”
তার মতে, একজিমা নানা কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন- মানসিক চাপ বৃদ্ধি, পিরিয়ড, হরমোনের ওঠানামা ইত্যাদি। তাই বলা যায়, একজিমার সমস্যা বৃদ্ধি ব্যক্তিভেদের ওপর নির্ভর করে।
ডা. লি বলেন, “মাসিকের আগের দিনগুলোতে একজিমা বেড়েই চললে বুঝতে হবে এটা কেবল একজিমা নয়; ‘অটোইমিউন প্রোজেস্টেরন ডার্মাটাইটিস’। আর এজন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
এটি একটি চক্রাকার, ‘অটোইমিউন’ ফুস্কুরি যা প্রোজেস্টেরন চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা মুখে খাবার ওষুধ বা প্রাকৃতিক প্রোজেস্টেরন থেকে হয়ে থাকে। এই পরিবর্তন সাধারণত পিরিয়ডের তিন থেকে সাত দিন আগে দেখা যায়, যা পিরিয়ডের আগের লক্ষণ হিসেবে পরিচিত।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, “অটোইমিউন প্রোজেস্টেরন ডার্মাটাইটিস’ বিরল হলেও, এর চিকিৎসা কম। কেননা বিশেষজ্ঞরা সব সময় এগুলোর সন্ধান করেন না।”
‘অটোইমিউন প্রজেস্টেরন ডার্মাটাইটিস’য়ের চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। কিন্তু এই সমস্যা নিয়মিত এবং পুরাতন একজিমার ক্ষেত্রে দেখা দিলে তার সরাসরি চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
“ত্বকে জ্বলুনি, সংবেদনশীলতা বা চুলকানোর সমস্যা দেখা দিলে তাতে আর্দ্রতা রক্ষাকারী পণ্য ব্যবহার করা যায়। আর গোসলের সময় গরম পানিতে গোসলা করা যাবে না,” বলেন ডা. লি।
মৃদু প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ডা গার্শিক বলেন, “একজিমা ত্বকের যত্নের পদ্ধতির ওপরে নির্ভর করে।”
প্রথমে মৃদু পরিষ্কারক দিয়ে মুখ ধুয়ে, আলতোচাপ দিয়ে মুছে নিতে হবে। এরপরে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
কারও ত্বকে একজিমার সমস্যা আগেই থাকলে বা হওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে ত্বক পরিচর্যার এই ধাপগুলো দুতিনবার অনুসরণের প্রয়োজন হয়, বলে জানান ডা. গার্শিক।
ত্বকে ভালো রাখতে এতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন
চর্মরোগ থেকে অন্য রোগের উপসর্গ