Published : 11 Jun 2026, 11:40 AM
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিতর্কিত বন্ধুত্বের জেরে এবার মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটির জেরার মুখে পড়ছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
এপস্টেইনের উচ্চপর্যায়ের বন্ধুদের নেটওয়ার্ক নিয়ে চলা দীর্ঘ অনুসন্ধানের অংশ হিসাবে বুধবার সাক্ষ্য দেবেন মার্কিন এই বিলিয়নেয়ার ও সফটওয়্যার গুরু। তবে গেটস বরাবরই দাবি করে আসছেন, তিনি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘হাউস ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম কমিটি’র এ জেরার মুখে রাজি হওয়া অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব গেটস। এ কমিটি গত কয়েক মাস ধরে এপস্টেইনের উচ্চপর্যায়ের বন্ধুদের নেটওয়ার্ক নিয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
এর আগে, কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী লেসলি গ্রফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তার ঠিক একদিন পরেই গেটসের এ সাক্ষ্য নেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু হচ্ছে।
মঙ্গলবার কমিটির চেয়ারম্যান ও কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কোমার বলেছেন, গেটসকে যে কোনো প্রশ্ন করার পথ খোলা রয়েছে।
“তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুসারে, তিনি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উদগ্রীব এমনটা আমি বলব না, তবে তিনি রাজি আছেন এবং এর বিরুদ্ধে তিনি কোনো আইনি লড়াইও করেননি। আমি তার এই মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০১১ সালে গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল।
ততদিনে ফ্লোরিডার অঙ্গরাজ্যের এক আদালতে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে যৌনকর্মী হওয়ায় প্ররোচিত করার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এপস্টেইন। সেই মামলায় ১৩ মাস কারাভোগ করার ঠিক তিন বছর পর গেটস তার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়ান।
ফেডারেল শিশু যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার কেবল কয়েক সপ্তাহ পর ২০১৯ সালের অগাস্টে কারাগারে থাকা অবস্থায় ‘আত্মহত্যা করেন’ এপস্টেইন।
২০২৫ সালের শেষদিকে এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ ও কংগ্রেস কর্তৃকক্ষ। এরপর গেটস ও এপস্টেইনের এ বন্ধুত্বের বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গেটসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ বা অন্যায়ের অভিযোগ ওঠেনি।
গেটসের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে তার ও তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে গড়া যৌথ দাতব্য সংগঠন ‘গেটস ফাউন্ডেশন’-এর মন্তব্য জানতে চেয়ে সাড়া পায়নি সিএনবিসি।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, গেটস তার এ সাক্ষ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেক গ্রিনবার্গ নামের এক ব্যক্তির সহায়তায়। গ্রিনবার্গ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তদন্ত কমিটির প্রধান পরামর্শক হিসাবে কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি গ্রিনবার্গ।
এদিকে মার্চে এক বিবৃতিতে গেটসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার এ সুযোগটিকে গেটস স্বাগত জানাচ্ছেন।
“তিনি কখনোই এপস্টেইনের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হননি বা তাতে অংশ নেননি। তবে কমিটির এ গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সমর্থন জানাতে তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি রাজি আছেন।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে গেটস ফাউন্ডেশনের এক অভ্যন্তরীণ সভায় এপসস্টেইনের সঙ্গে মেলামেশার জন্য কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গেটস। একইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার দুই নারীর সঙ্গে নিজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেছেন।
নিজের ভুল স্বীকার করে সেই সেশনে গেটস বলেছেন, “আমি অবৈধ কিছু করিনি। অবৈধ কিছু আমার চোখেও পড়েনি।”
তবে ওই অনুষ্ঠানেই গেটস স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো’ এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের তার সঙ্গে বৈঠকে নিয়ে যাওয়াটা ছিল তার ‘মস্ত বড় ভুল’।
“আমার এ ভুলের কারণে অন্য যেসব মানুষকেও এর ভেতর টেনে আনা হয়েছে, আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।”
গেটস ফাউন্ডেশন এর আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, এপস্টেইনের সঙ্গে এ দাতব্য সংগঠনটির অতীতের সব সম্পর্কের বিষয় খতিয়ে দেখতে তারা নিরপেক্ষ এক বাহ্যিক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। এই গ্রীষ্মের মধ্যেই তাদের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এ পর্যালোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি জানাবে।
এদিকে, গেটসের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট মার্চের শেষদিকে সিএনবিসি’র বেকি কুইককে বলেছেন, এপস্টেইন ফাইল সংক্রান্ত ‘পুরো বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর থেকে’ মাইক্রোসফটের এ সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে তার আর কোনো কথা হয়নি।
বাফেট বলেছেন, “আমি এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না, যেখানে আমি কোনো তথ্য জানার কারণে আমাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হতে পারে। আমার মনে হয়, বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত খুব বেশি কথা বলাটা যৌক্তিক হবে না।”
এপস্টেইনকে একজন প্রতারক হিসাবে বর্ণনা করে বাফেট বলেছেন, মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিতেন এপস্টেইন।
“পুরুষরা যৌনতা পছন্দ করবেই এবং যেমন কেউ কেউ কর ফাঁকি দিতে পছন্দ করে; আর এপস্টেইন ঠিক তাদের এসব দুর্বলতাই ধরে ফেলেছিল।”
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত গেটস ফাউন্ডেশনে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছেন বাফেট।