করোনাভাইরাস বনাম সোয়াইন ফ্লু

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে মৌসুমী রোগের প্রকোপ এমনিতেই বেশি। আর করোনাভাইরাসজনিত রোগের উপসর্গগুলো এই মৌসুমি রোগের উপসর্গের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2020, 10:07 AM
Updated : 28 March 2020, 02:21 PM

তাই দুই ধরনের সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারাটা জরুরি।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই বিষয়ে প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল বিস্তারিত।

করোনাভাইরাসের পরিচিতি

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করেছে ‘নভেল করোনাভাইরাস: সিওভিআইডি-নাইনটিন’, এর পূর্ণাঙ্গ নাম হল ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ নাইনটিন’। অনেকগুলো ভাইরাসের একটি পরিবার ‘করোনাভাইরাস’, যার আক্রমণে সাধারণ সর্দিজ্বর থেকে শুরু করে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভয়াবহ রোগ হতে পারে।

‘নভেল করোনাভাইরাস’ এই পরিবারের নব্য আবিষ্কৃত সদস্য। চীনের উহান অঞ্চল থেকে এই সংক্রমণের সুত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হতো এই ভাইরাস শুধু পশু-পাখিকেই আক্রান্ত করতে পারে। তবে বর্তমানে তা মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকহারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, করোনাভাইরাসের মৃত্যুহার নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা এখনও সম্ভব নয় এবং এই ভাইরাস ঠিক কতটা মারাত্বক সে বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। গনস্বাস্থ্য কর্মীরা এই রোগের উৎস খুঁজে বের করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ: জ্বর, কাশি, দম আটকে আসা, বমি, নাক দিয়ে পানি আসা, গলা ব্যথা ইত্যাদি হল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সাধারণ উপসর্গ।

https://www.youtube.com/watch?v=5wLA12Us8ek
 

সোয়াইন ফ্লু’য়ের সঙ্গে পার্থক্য

‘সোয়াইন ফ্লু’ এর আরেক নাম ‘এইচ ওয়ান এন ওয়ান’। যা দ্রুতগতিতে সংক্রমণশীল এক শ্বাসতন্ত্রের রোগ। মানুষের শরীরে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ ভাইরাসের সংক্রমণে এই রোগ দেখা দেয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে চারদিনের মধ্যে রোগরে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মেক্সিকোতে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে তা ৭৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সোয়াইন ফ্লু’য়ের উপসর্গ: প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, শীত অনুভূত হওয়া, শারীরিক অস্বস্তি ও দুর্বলতা হল এই রোগের সাধারণ উপসর্গ।  

করোনাভাইরাস সংক্রমণ আর ‘সোয়াইন ফ্লু’য়ের উপসর্গ অনেকটাই এক হওয়াই নিশ্চিত হতে প্রয়োজন স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

টিকা

‘সোয়াইন ফ্লু’য়ের হাত থেকে বাঁচার সবচাইতে কার্যকর পন্থা হল টিকা। বাজারে এই টিকা ‘কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ফ্লু ভ্যাকসিন’ নামে পরিচিত। অপরদিকে, যুক্তরাজ্যের গবেষকরা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই পরীক্ষা-নিরিক্ষা শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো আশার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

প্রতিরোধ

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, যারা কাশি, জ্বর ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের উচিত দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আর ভাইরাস থেকে দূরে থাকাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের এখন পর্যন্ত সবচাইতে কার্যকর উপায়।

এজন্য আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও উচিত ঘরে থাকা যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে। ‘অ্যালকোহল’ আছে এমন ‘স্যানিটাইজার’ বা পরিষ্কারক দ্রব্য সবসময় হাতের কাছে রাখতে হবে। দিনে কয়েকবার কুসুম গরম পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে শৌচাগার ব্যবহারের পর। নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য ও স্থান ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে।

‘সোয়াইন ফ্লু’ থেকে বাঁচতে প্রথমত টিকা নিতে হবে প্রতিবছর। এছাড়াও হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। যেকোনো ধরনের ‘ফ্লু’তে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে ছয় ফিট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। যারা আক্রান্ত হয়ে গেছেন তাদের উচিত জ্বর সেরে যাওয়ার পর আরও ২৪ ঘণ্টা ঘরে থাকা।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন