২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বই পড়ার অভ্যাসে কাটবে একাকিত্ব

বই পড়ার সুফল জানলে পড়া আর ছাড়বেন না।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 04:58 PM

Updated : 23 Sep 2026, 04:58 PM

ব্যস্ত প্রাত্যহিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বা অবসরে একটু বিনোদনের খোঁজে অনেকেই বইয়ের পাতায় ডুব দিতে ভালোবাসেন।

তবে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বই পড়া কেবল একটি সাধারণ শখ বা সময় কাটানোর মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মস্তিস্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত আনন্দের জন্য গল্প বা উপন্যাসের বই পড়লে তা মানুষের কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা বহুণ বাড়িয়ে দেয়। আর বার্ধক্যে মগজের ক্ষয় রুখতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন, ডিজিটাল স্ক্রিনের নোটিফিকেশন স্ক্রোল করলেই বুঝি মগজের কসরত হয়ে যায়, যা ভুল ধারণা। কাগজের বইয়ের সঙ্গে সময় কাটালে দেহের কর্টিসল বা মানসিক চাপের হরমোনের মাত্রা ধীর করে, দিনভর মেজাজ প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে।

‘কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস’-এর প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের নিঃসঙ্গতা দূর করতে এবং সহমর্মিতা বাড়াতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

জীবনযাপন-বিষয়ক পোর্টাল ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মার্কিন গবেষক লিসা মিলব্র্যান্ড, বই পড়ার বহুমুখী মনস্তাত্ত্বিক সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

জ্ঞানীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আলঝেইমার’স ঝুঁকি হ্রাস

লিসা মিলব্র্যান্ড বলেন, “যারা শৈশব থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাদের মস্তিস্কের ভাষা, জ্ঞান এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ অঞ্চলগুলোর আয়তন প্রাকৃতিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মগজ সচল রাখতে বই পড়ার চেয়ে বড় কোনো কসরত নেই।”

একাধিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক বই পড়ার অভ্যাস প্রবীণ বয়সে আলঝেইমার’স রোগের ঝুঁকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

সপ্তাহে অন্তত একবার বই পড়লে তা দীর্ঘমেয়াদে মগজের স্মৃতিভ্রম বা ‘কগনিটিভ ডিক্লাইন’ রুখে দিতে পারে।

মাত্র ৬ মিনিটে ৬৮ শতাংশ মানসিক চাপ কমায়

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বই পড়ার ক্ষমতা যেন, অলৌকিক ওষুধের মতো কাজ করে।

কেমব্রিজের করা, প্রায় ১০ হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত মনস্তাত্ত্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত যারা বই পড়েন তাদের বিষণ্ণতার মাত্রা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক কম থাকে। ঘুম বা বিশ্রামের চেয়েও দ্রুত স্নায়ুকে শান্ত করতে পারে বইয়ের পাতা।

পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তীব্র দুশ্চিন্তার মুহূর্তে মাত্র ৬ মিনিট শান্ত হয়ে কোনও বই পড়লে, শরীরের ক্ষতিকর স্ট্রেস বা চাপের হরমোন কমিয়ে মানসিক চাপ প্রায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে সক্ষম।

সহমর্মিতা

বই পড়ার আরেকটি বড় মনস্তাত্ত্বিক দিক হল, এটি মানুষের ভেতরের সহমর্মিতা ও অন্যের প্রতি উদারতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মানুষ যখন কোনও উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্রের আবেগ, কষ্ট ও জীবনের লড়াই নিজের মনের চোখ দিয়ে অবলোকন করে, তখন মস্তিস্কের ‘মিরর নিউরন’গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই ‘মিরর নিউরন’ হল মস্তিষ্কের এমন কিছু বিশেষ স্নায়ুকোষ, যা নিজে কোনো কাজ করার সময় এবং অন্য কাউকে ঠিক একই কাজ করতে দেখলে সক্রিয় হয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষের বাস্তব জীবনের ‘এম্প্যাথি’ বা সহমর্মিতার অনুভূতি ১৬ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দেয় এবং ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের প্রতি সহনশীলতা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করে।

আত্মউন্নয়ন ও জীবন পরিবর্তনের ইচ্ছা

৪ হাজার পাঠকের ওপর করা, সামাজিক জরিপে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বই পড়েন তারা বাস্তব জীবনে যেকোনো বড় ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সাহসী হন। বইয়ের চরিত্রের পরিবর্তন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঠকেরা নিজেদের জীবনের জন্য নতুন চাকরি খোঁজা, ক্ষতিকর বা অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক বর্জন করা, নতুন কোনো শখ বা খেলাধুলা বেছে নেওয়া বা নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার মতো প্রামাণ্য পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করতে পারেন।

সামাজিক একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা দূর

তরুণ প্রজন্মের মাঝে দিন দিন বাড়তে থাকা একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা দূর করতে বই এক অনন্য সুরক্ষাকবচ।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন যে, বই পড়ার সময় তারা অবচেতনে অন্য মানুষের সঙ্গে এক ধরনের গভীর আত্মিক সংযোগ অনুভব করেন এবং ৫৬ শতাংশের মতে বই পড়ার মুহূর্তে তাদের নিঃসঙ্গতার তীব্র দুঃখবোধ দূর হয়ে যায়।

এছাড়া সমমনা পাঠকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘বুক ক্লাব’ বা যৌথ পাঠচক্রের অভ্যাস গড়ে তুললে, মানুষের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে মস্তিস্ককে শান্ত রাখে।

পুরানো খবর:

ছাপা বই পড়ার উপকারিতা

পুরানো খবর:

বসার ঘর পরিষ্কারে মানসিক চাপ থাকবে দূরে

পুরানো খবর:

রাতের খাবারের পর ৩ অভ্যাসে দূরে থাকবে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি

পুরানো খবর:

একাকী জীবনেও সুখী হওয়া যায়