১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতের খাবারের পর ৩ অভ্যাসে দূরে থাকবে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি

ঘুমের আগে সোফায় গা এলিয়ে রিলস দেখা মোটেই ভালো অভ্যাস নয়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 06:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও খাটাখাটুনির পর রাতের খাবারের  পর্ব শেষ হলে অনেকেই বিছানায় শুয়ে পড়তে বা মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে থাকতে পছন্দ করেন। সাময়িকভাবে এটি আরামদায়ক মনে হলেও, অবচেতন মনে এই অভ্যাস মানসিক অবসাদ বা ক্লান্তি দূর করতে কোনো সাহায্য করে না।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, রাতের খাবারের পর মানুষ কী করছেন বা কেমন রুটিন মেনে চলছেন, তার ওপর পুরো মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরের দিনের কর্মক্ষমতা গভীরভাবে নির্ভর করে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েলসিম্পল ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, রাতের খাবারের পর মাত্র ৩টি সহজ ও বৈজ্ঞানিক অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিক হয় এবং উদ্বেগ বা মানসিক চাপ এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়।

হালকা হাঁটাচলা ও অঙ্গচালনা

রাতের খাবারের পর ভারী কোনো ব্যায়াম না করে খুব হালকা শারীরিক পরিশ্রম বা নড়াচড়া করা ভালো।

যে কারণে উপকারী: যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমসাইক’ প্রতিষ্ঠানের সুস্থতা বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রধান ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ জেসিকা ডিন বলেন, “রাতের খাবারের পর বাড়ির আশপাশে অন্তত ১০ মিনিট হাঁটা, বাগান করা কিংবা ঘরের ভেতর হালকা হাত-পা টানটান করার মতো কসরত সারাদিনের জমে থাকা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে দেয়।”

এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্কে ডোপামিনের মতো ‘ভালো বোধের’ রাসায়নিক উপাদান বাড়িয়ে দেয়, যা মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান মেমোরিয়াল হারম্যান হেলথ সিস্টেমের পুষ্টিবিদ কেলিন ট্রু-র মতে, “এই হালকা হাঁটাচলা পরিপাক প্রক্রিয়া বা হজমশক্তিকে সচল করে রাতে চমৎকার গভীর ঘুম এনে দেয়।”

মন শান্ত করার সুনির্দিষ্ট রুটিন

রাতের খাবারের পর শরীর ও মস্তিস্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে একটি নির্দিষ্ট ‘উইন্ড-ডাউন’ বা শিথিলকরণ রুটিন মেনে চলা উপকারী।

যে কারণে উপকারী: যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন হার হ্যাভেন’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জেনি বেথ ক্রোপলিন-এর মতে, “রাতের খাবারের পর ঘরের আলো কিছুটা কমিয়ে দেওয়া, মৃদু বা শান্ত কোনো সুর বা সংগীত বাজানো এবং সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন (মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি) থেকে দূরে থাকা উচিত। এটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মানসিক দুশ্চিন্তার হরমোন বা ‘কোর্টিসল’ কমিয়ে আনে।”

স্ক্রিন ছাড়া বই পড়া, ধ্যান বা মেডিটেইশন করা, কিংবা রাতের খাবারের ৬০ থেকে ৯০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করা শরীরকে জানান দেয় যে এখন বিশ্রামের সময় হয়েছে।

এই সময়ে মন সতেজ রাখতে ক্যামোমাইল, পেপারমিন্ট বা লেমন বামের মতো ভেষজ বা হারবাল চা পানের পরামর্শ দেন, জেসিকা ডিন।

‘ব্রেন ডাম্প’ বা মনের সব চিন্তা ডায়েরিতে লেখা

যাদের সারাদিন অনেক ব্যস্ততায় কাটে বা কাজের চাপ থাকে, তাদের ঘুমানোর আগে ‘ব্রেন ডাম্প’ বা মন খালি করার এই পদ্ধতি বেশ কাজে দেয়।

যে কারণে উপকারী: জেনি বেথ ক্রোপলিন ব্যাখ্যা করেন, “সারাদিনের জমে থাকা নানান চিন্তা, উদ্বেগ বা পরের দিনের কাজের তালিকাগুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকলে রাতে ঘুম আসতে চায় না।”

তাই ঘুমানোর আগে একটি ডায়েরিতে সব চিন্তা বা পরের দিনের পরিকল্পনাগুলো লিখে ফেললে মস্তিষ্ক থেকে এক ধরনের অদৃশ্য মানসিক চাপের বোঝা নেমে যায়।

এতে সকালের ঘুম থেকে ওঠার পর যে অহেতুক ভয় বা ‘প্যানিক’ তৈরি হয়, তা এক ধাক্কায় পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। আর শান্ত ও গোছানো মনে পরের দিনটি শুরু করা সম্ভব হয়।

মনে রাখতে হবে

মানসিক সুস্বাস্থ্য বা ‘পিস অব মাইন্ড’ কোনো জাদুমন্ত্রে আসে না, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

তাই রাতের খাবারের পর সোফায় অলস বসে না থেকে বা ফোনের পেছনে সময় নষ্ট না করে, অন্তত একটি বা দুটি নিয়ম, নিয়মিত মেনে চললে শরীর ও মন দীর্ঘমেয়াদে সতেজ রাখতে সাহয্য করবে।

আরও পড়ুন

নির্ঘুম রাতের সমাধান

গভীর ও শান্তিময় ঘুমের জন্য রাতে হালকা ব্যায়াম

রাতে ঘুমের সময়ে পায়ে অস্বস্তি হওয়ার কারণ