২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিস্ক তীক্ষ্ণ রাখার উপায়

মগজাস্ত্র ধারালো রাখতে চাইলে মেনে চলতে হবে মাত্র ৬টি নিয়ম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 01:40 PM

Updated : 28 Oct 2026, 01:40 PM

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিও কিছুটা কমতে শুরু করে।

মস্তিস্কের এই ক্ষয় বা ‘ডিমেনশা’ পুরোপুরি প্রতিরোধ করার কোনও জাদু বা নিশ্চিত উপায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনও আবিষ্কৃত না হলেও, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাস মস্তিস্ককে দীর্ঘকাল সতেজ ও তীক্ষ্ণ রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অন্তর্গত বোস্টনের ‘ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল’-এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ড. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “জীবনধারার ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন বয়সজনিত মস্তিস্কের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।”

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম

শারীরিক ব্যায়াম কেবল হৃদ্-রোগ রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিই কমায় না, এটি মস্তিস্কের কোষগুলোকে সচল রাখতেও সাহায্য করে।

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে ‘এপিওইফোর’ নামক বিশেষ জিন বৈশিষ্ট্য রয়েছে (যা আলঝাইমার’স  বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায়), তাদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। এটি অনিদ্রা ও বিষণ্নতা দূর করতেও কাজ করে।

ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মস্তিস্কের স্বাস্থ্য সরাসরি যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণ করলে মৃদু মানসিক অবক্ষয় এবং ডিমেনশা’র গতি  ধীর হয়ে আসে।

এই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, শিম বা মটরশুঁটি, বাদাম, জলপাই তেল এবং পরিমিত মাছ ও মুরগির মাংস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অ্যালকোহল বর্জন বা সীমিত করা

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত বা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে আলঝাইমার’স বা স্মৃতিভ্রম রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি থাকে। চিকিৎসকেরা মস্তিস্কের সুরক্ষায় যেকোনও ধরনের তামাক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম

মস্তিস্কের দৈনন্দিন কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য ঘুম জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিস্ক সারাদিনের শেখা তথ্য ও স্মৃতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার কম ঘুমান, তারা স্মৃতিশক্তি ও মানসিক দক্ষতার পরীক্ষায় অন্যান্যদের চেয়ে অনেক কম নম্বর পান।

মানসিক উদ্দীপনা বা মস্তিস্কের ব্যায়াম

মস্তিস্ককে সচল রাখতে হলে তাকে অলস বসিয়ে না রেখে নিয়মিত কাজ দিতে হবে। ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সিদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বই পড়া, লেখালেখি, শব্দছক মেলানো, দাবা বা তাস খেলা, দলগত আলোচনায় অংশ নেওয়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা

অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ মস্তিস্কের জন্য এক ধরনের সুরক্ষাকবচ। সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নিলে মনোযোগ ও স্মৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়াগুলো সক্রিয় হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

বিপরীতে, একাকিত্ব থেকে তৈরি হওয়া বিষণ্নতা মস্তিস্কের ক্ষয়কে আরও দ্রুত করে তোলে। একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ হরমোন কমাতেও সরাসরি সাহায্য করে।

পুরনো খবর:

মস্তিষ্ক তরুণ রাখার সহজ ৫টি অভ্যাস
মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে ‘মাল্টিটাস্কিং
মাত্র ২ মিনিটের চর্চায় মস্তিষ্কে ফিরতে পারে প্রশান্তি