০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংক্ষিপ্ত সামাজিকতায় একাকিত্ব কাটবে যেভাবে

দোকানে বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপরিচিত কারও সঙ্গে সামান্য কুশল বিনিময়েও মন ভালো হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 05:00 PM

Updated : 01 Oct 2026, 04:50 PM

বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনযাত্রা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং উপযুক্ত সামাজিক মেলবন্ধনের জায়গার অভাবে একাকিত্ব এক নীরব মহামারী বা ‘লোনলিনেস এপিডেমিক’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অনেকে মনে করেন, এই মানসিক একাকিত্ব দূর করতে হলে বুঝি প্রচুর বন্ধু-বান্ধব বা বড় কোনও সামাজিক বৃত্তের প্রয়োজন।

তবে গবেষণায় ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট সাইকোলজি টুডে-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মনোবিদরা জানিয়েছেন, সুদূরপ্রসারী কোনও গভীর সম্পর্ক ছাড়াই প্রতিদিনের জীবনে অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত মানুষদের সঙ্গে অত্যন্ত ছোট ও সাধারণ কিছু কথোপকথন একাকিত্ব ও একাকী থাকার মানসিক কষ্ট দূর করতে সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের রোজকার সাধারণ সামাজিক যোগাযোগকে ‘মাইক্রো সোশাল ইন্টেরেকশনস’ বা ‘ন্যূনতম সামাজিক যোগাযোগ’ বলা হয়।

নিবন্ধিত মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ফিল লেন প্রতিবেদনে বলেন, “কফি শপের কর্মীর সঙ্গে সামান্য কথা বলা, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অপরিচিত কোনও মানুষের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ে আলোচনা করা, পার্কে বা অন্য কোনও জায়গায় অপরিচিত হলেও তাদের সঙ্গে হালকা হাসিমুখ বিনিময় করার মতো ছোট ছোট ঘটনাগুলো শুনতে অতি সামান্য মনে হলেও, এগুলো মানুষের মনে এক ধরনের অদৃশ্য ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়।

২০১৪ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন’-এ প্রকাশিত, কানাডার দুই গবেষক গিলিয়ান এম. স্যান্ডস্ট্রোম এবং এলিজাবেথ ডব্লিউ. ডান-এর করা ‘স্যান্ডস্ট্রম অ্যান্ড ডান’ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে ফিল লেন জানান, আমাদের মূল বন্ধুবৃত্তের বাইরের বা প্রান্তিক স্তরের মানুষের সঙ্গে এই ধরনের সংযোগও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

একই সঙ্গে ২০২৩ সালে প্রকাশিত, জাপানি গবেষক ইতাকু ইশিগুরো’র নেতৃত্বে পরিচালিত মন ও সমাজ বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা ‘ইশিগুলো ২০২৩’-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, এই ক্ষুদ্র সামাজিক যোগাযোগ মানুষের খুশির মাত্রা বা ‘হ্যাপিনেস ইনডেক্স’ সরাসরি বাড়িয়ে দেয় এবং অবচেতন মনে কোনও একটি সামাজিক গোষ্ঠীর অংশ বা ‘বিলংগিংনেস’ তৈরির অনুভূতি জাগিয়ে একাকিত্ব দূর করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রতি ছয়জনে একজন একাকিত্বে ভুগছেন।

মনস্তত্ত্বের আদি ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৪৩ সালে বিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো তার ‘হিউম্যান মোটিভেশন’ বা চাহিদার ক্রমানুসারে দেখিয়েছেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অন্ন, বস্ত্র ও নিরাপত্তার ঠিক পরেই বড় মানসিক প্রয়োজন হল, ভালোবাসা এবং সমাজ বা পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা।

বর্তমান যুগের বিচ্ছিন্নতা কাটাতে থেরাপিস্টরা বড় কোনও পদক্ষেপের পরিবর্তে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ছোট সামাজিক যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এক ধরনের মানসিক জড়তা কাজ করতে পারে, তবে সচেতনভাবে এই দেয়াল ভেঙে একটি হাসিমুখের বিনিময় বা ছোট একটি ধন্যবাদ প্রদান শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং অবচেতন মনকে সংকেত দেয় যে সমাজটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ, যা মানসিক অবসাদ দূর করার সহজ ও কার্যকর কৌশল।

পুরানো খবর:

স্মৃতিকাতরতা যেভাবে মেজাজ ও সম্পর্ককে উন্নত করে
বয়সের সঙ্গে যে কারণে বদলে যায় বন্ধুত্ব
একা থাকলে কমতে পারে আয়ু