Published : 26 Apr 2026, 04:04 PM
প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালন করে ইউনেসকো। এ দিনটিতে অনেকেই আরও বেশি বই পড়ার লক্ষ্য ঠিক করেন।
বই পড়া শুধু শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক অভ্যাস। মনোযোগ বাড়ানো, চিন্তাভাবনা গভীর করা এবং মানসিক চাপ কমাতেও বই পড়ার বিকল্প নেই।
আর বই দিবস চলে গেলেও, বই পড়ার অভ্যাস যে গড়া যাবে না এমন কোনো কথা নেই। তবে শুরু করা সহজ হলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে যায়।
ব্যস্ততা, মোবাইলের বিভ্রান্তি বা আগ্রহ ধরে রাখতে না পারা- বই পড়া থেকে আবারও দূরে সরিয়ে ফেলতে পারে।
পড়া আনন্দের অংশ
বই পড়াকে কোনো কাজ হিসেবে না দেখে বরং নিজের জন্য পুরস্কার হিসেবে ভাবা উচিত। দিনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করার পর কিছু সময় বই পড়লে এটি আনন্দের অভ্যাসে পরিণত হয়- রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন মার্কিন লেখক মিশেল এম. পিলো।
ঘরের কাজ শেষ করার পর বা দিনের ব্যস্ততা কমে এলে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া যেতে পারে। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে পড়া মানেই স্বস্তি ও আনন্দের সময়। ফলে এটি চাপ নয়, বরং নিজের জন্য সময় হয়ে ওঠে।
অবসরে ফোন নয়, বই হাতে নেওয়া
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এই লেখক পরামর্শ দেন- ছোট ছোট সময়গুলো কাজে লাগাতে।
তিনি বলেন, “দিনের মধ্যে যখনই ১০-১৫ মিনিট সময় পাওয়া যায়, যেমন- ঘুমানোর আগে বা সকালে চা বানানোর সময়, তখন ফোনের বদলে বই হাতে নেওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
ধীরে ধীরে বই পড়া প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। বই পড়ার ছোট সময়গুলো মিলেই পরিবর্তন আসতে পারে।
নিয়মিত অভ্যাসের মধ্যে থাকলে বই পড়তে আলাদা করে সময় বের করতে হয় না।
পাঠচক্রে যুক্ত
পাঠচক্র বা বই পড়ার দল- বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন নিজের পড়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করা যায়, অন্যদিকে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।
পাঠচক্রে যুক্ত থাকলে দায়িত্ববোধও তৈরি হয়। অন্য সদস্যরা কী পড়ছেন, তারা কী ভাবছেন— এসব জানার আগ্রহ বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
এমনকি যারা আলোচনা করতে স্বচ্ছন্দ নন, তারাও একসঙ্গে বসে পড়ার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন।
প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার
মোবাইল ফোন অনেক সময় বই পড়ার পথে বাধা। তবে একই সঙ্গে এটি সহায়কও হতে পারে। বিভিন্ন বই সম্পর্কিত অ্যাপ ব্যবহার করে কতটুকু পড়েছেন, কী ধরনের বই পড়ছেন এসব সম্পর্কে জানা যায়।
এমন কিছু অ্যাপ আছে, যা বইয়ের তালিকা তৈরি, পড়ার অগ্রগতি দেখা এবং নিজের পছন্দের ধরণ বোঝার সুযোগও দেয়।
এতে পড়ার প্রতি আগ্রহ বজায় থাকে এবং লক্ষ্য পূরণও সহজ হয়।
পাঠে অনাগ্রহ এলে যা করবেন
অনেক সময় এমন হয় যে, একটি বই শুরু করার পর আর আগ্রহ থাকে না। এই অবস্থাকে পাঠ-স্থবিরতা বলা যায়।
লেখক মিশেল এম. পিলো বলেন, “এটি খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং এর জন্য নিজেকে দোষারোপ করারও প্রয়োজন নেই।”
তিনি পরামর্শ দেন, যদি কোনো বই ভালো না লাগে, তাহলে সেটি কিছুদিনের জন্য সরিয়ে রাখা যেতে পারে। সব বই সবার জন্য নয় এবং সব সময়ের জন্যও নয়।
নিজের পছন্দ ও মনের অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে বই নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া কোনো বই ২০-৩০ পৃষ্ঠা পড়ার পরও যদি আগ্রহ না জাগে, তাহলে সেটি বদলে ফেলাই ভালো। এতে পড়ার আনন্দ নষ্ট হয় না এবং নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
নিজের পছন্দ বোঝা জরুরি
কোন ধরনের বই ভালো লাগে বই পড়ার জন্য এটি জানা গুরুত্বপূর্ণ। আগে যেসব বই পড়তে ভালো লেগেছে, সেগুলোর মতো বই খুঁজে বের করা যেতে পারে। এতে নতুন বই পড়ার আগ্রহ বাড়ে।
গ্রন্থাগারের সহায়তা নেওয়াও একটি ভালো উপায়। অনেক গ্রন্থাগারে এমন ব্যবস্থা থাকে, যেখানে পাঠকের পছন্দ অনুযায়ী বইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে সঠিক বই খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে অভ্যাস
বই পড়ার অভ্যাস কোনোভাবেই একদিনে তৈরি করা সম্ভব না। এই অভ্যাস ধীরে ধীরেই গড়তে হয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে পড়লে সেটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল দেয়।
আরও পড়ুন