০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিবেশবান্ধব সিরামিক গয়নার ফ্যাশন

হাতে, কানে বা গলায় সিরামিকের গয়না হতে পারে ভিন্ন ধারার সাজের অংশ।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jun 2026, 05:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:28 PM

মাটির কোমলতা, আগুনে পোড়ার দৃঢ়তা আবার হাতে গড়া নিপুণ কারুকার্যের সমন্বয়ে তৈরি হয় সিরামিক গয়না। যা ফ্যাশনের একটি নতুন ধারাও বটে।

এটি শুধু অলংকার নয়, বরং এই গয়নায় শৈল্পিক মনন আর পরিবেশ সচেতনতার মিশেল।

ই-প্ল্যাটফর্ম ‘ঐক্য’-এর ভাসমান ছোট খোলা দোকানে সিরামিকের আলাদাধর্মী এমন গয়নার কেনা যাবে। শিল্পী, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের তৈরি ফ্যাশন পণ্য, গৃহ, খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য মিলবে এই প্ল্যাটফর্মে।

ঐক্য-র বিপণন বিভাগের কর্মী আনোয়ার বলেন, “আমার শিল্পীদের নিজের হাতেই এসব গয়না তৈরি হয়। গয়না তৈরি শেষে করা হয় হ্যান্ড পেইন্ট। ডিজাইন এক্সক্লুসিভ রাখতে এক ডিজাইন বেশি করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এই গয়না তৈরি, অন্য গয়নার থেকে বেশি সময় প্রয়োজন হয় প্রস্তুত প্রক্রিয়ার জন্য। কিছু পাইলট প্রজেক্ট বাজারে আনা হয়েছে। তবে ঐক্য-র অনলাইনে ফরমাশ দিলে ক্রেতার পছন্দ গয়না ডিজাইন করে দেওয়া হয়।”

সিরামিক গয়না আসলে কী?

সিরামিক গয়না হল, বিশেষ ধরনের মাটি বা কাঁদামাটি থেকে তৈরি গয়না, যা উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানোর মাধ্যমে শক্ত ও টেকসই করা হয়।

পরে এতে রং, নকশা এবং কখনও ‘হ্যান্ড পেইন্ট’ বা হাতে আঁকা নকশার মাধ্যমে বাড়তি সৌন্দয্য যোগ করা হয়।

“এই গয়নায় সাধারণত দুল, চুড়ি, আংটি, পেনডেন্ট, ব্রেসলেটসহ নানান ধরনের ডিজাইন তৈরি করা হয়”, বলেন এই কর্মী।

যা দিয়ে তৈরি হয় সিরামিক গয়না

সিরামিক গয়না মূলত তৈরি হয় বিশুদ্ধ মাটি, পানি এবং প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান দিয়ে।

শিল্পীরা মাটিকে বিশেষভাবে পরিশোধন করে নরম ও নমনীয় অবস্থায় আনে, যাতে এটি দিয়ে সূক্ষ্ম নকশা তৈরি করা যায়।

রং করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক রঞ্জক এবং নিরাপদ সিরামিক রং, যা পোড়ানোর পর স্থায়ী হয়ে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে গ্লেইজ ব্যবহার করা হয়। যা গয়নাকে চকচকে, মসৃণ এবং পানি প্রতিরোধী করে তোলে।

প্রস্তুত প্রক্রিয়া যেভাবে হয়

প্রথমে মাটিকে ভালোভাবে মেখে নরম করা হয়। এরপর শিল্পীরা হাতে বা ছাঁচ ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত আকার তৈরি হয়।

“এটি শুকিয়ে গেলে উচ্চ তাপমাত্রার চুল্লিতে পোড়ানো হয়, যাতে গয়না শক্ত ও টেকসই হয়”, বলেন সিরামিক ও মাটির পণ্য বিক্রি করা কারিগর আশেম মোস্তফা।

পরের ধাপ হ্যান্ড পেইন্ট। এখানে প্রতিটি গয়নায় হাতে হাতে রং ও নকশা করা হয়। শেষ ধাপে আবারও হালকা তাপে পোড়ানো হয়, যাতে রং স্থায়ী হয় এবং গয়না ব্যবহার উপযোগী হয়।

হ্যান্ড পেইন্টের বিশেষত্ব

সিরামিক গয়নার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, এর হাতে আঁকা নকশা। প্রতিটি গয়না আলাদা, কোনো দুটি নকশা এক নয়।

পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন

সিরামিক গয়না অনেকটাই পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের অংশ। এতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই। আবার তৈরিও হয় প্রাকৃতিক উপাদানে। পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবে যার দায় নেই।

একই সঙ্গে এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায়, বারবার নতুন গয়না কেনার প্রয়োজন কমায়। যা অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই এটিকে টেকসই ফ্যাশন বা ‘স্লো ফ্যাশনে’র প্রতীক বলা যায়।

কোন পোশাকের সঙ্গে মানায়

সিরামিক গয়নার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এর বহুমুখিতা। এটি বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়।

সুতি বা লিনেন পোশাকের সঙ্গে এটি দেয় নরম ও প্রাকৃতিক ‘লুক’। আবার শাড়ি বা সিল্কের সঙ্গে এটি যোগ করে শিল্পীসুলভ আভিজাত্য। এছাড়া পশ্চিমা বা ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে এটি দেয় আধুনিক ও স্টাইলিশ রূপ।

“হালকা রংয়ের পোশাক যেমন- সাদা, মাটি রং, আকাশি বা সবুজের সঙ্গে সিরামিক গয়না মানিয়ে যাবে”, বলেন ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার।

যত্ন নেওয়ার উপায়

যদিও সিরামিক গয়না টেকসই, তবে পারফিউম বা কেমিক্যাল থেকে দূরে রাখা উচিত। ব্যবহার শেষে নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে রাখা ভালো।

এটি শক্ত জায়গায় পড়ে গেলে ভেঙে যায়। তাই আলাদা বাক্স বা কাপড়ে মুড়ে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে আঠা দিয়ে সহজে গয়না জোড়াও দেওয়া সহজ।

ঐক্য-র সিরামিক চুড়ি প্রতিটি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কানের দুল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন গয়না ‘কাস্টমইজ’ করেও তৈরি করা যায়।

আরও পড়ুন

পোশাকের সাথে মিলিয়ে জুতা বাছাইয়ের সহজ টিপস

গোসলঘরে রাখা ঠিক নয় যে সৌন্দর্যপণ্য

বেবিলাইটস: চুল রাঙানোর সূক্ষ্ম কৌশল