০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বেবিলাইটস: চুল রাঙানোর সূক্ষ্ম কৌশল

যে কোনো ধরনের কেশ উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় দেখাতে সাহায্য করে ‘বেবিলাইটস’ পদ্ধতি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2025, 02:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

চুলে রংয়ের কৌশল এখন আর শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও স্বাচ্ছন্দ্যেরও প্রতিফলন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ‘হেয়ার কালার ট্রেন্ড’ এসেছে, গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবার আলোচনায় এসেছে এক পুরানো কৌশল ‘বেবিলাইটস’।

সূক্ষ্ম ও প্রাকৃতিক এই হাইলাইটিং পদ্ধতি চুলে এনে দেয় উজ্জ্বলতা ও স্বাভাবিক দীপ্তি।

বেবিলাইটস কী?

এটা আসলে সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হাইলাইটস। এগুলো চুলে এতটাই সুন্দরভাবে মিশে যায় যে, আলাদা করে চোখে পড়ে না, বরং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতার অনুভূতি দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সেলিব্রিটি কালারিস্ট মেরি কেট ও’কনর ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন— “বেবিলাইটস সাধারণ হাইলাইটসের তুলনায় অনেক সূক্ষ্ম ও পাতলা, যা চুলকে আরও স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল দেখায়।”

এ কারণে যে কোনো রংয়ের চুলেই বেবিলাইটস করা যায়। সোনালি, বাদামি বা কালো চুল— সবখানেই এ কৌশল মানিয়ে যায়।

অন্যান্য কৌশল থেকে আলাদা কোথায়?

চুলে রং করার প্রচলিত কয়েকটি কৌশল হল—

হাইলাইটস: ফয়েল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অংশে রং করা হয়, যা স্পষ্ট কনট্রাস্ট তৈরি করে।

বালায়াজ: হাত দিয়ে আঁকা হয়, ফলে রং স্বাভাবিকভাবে মিশে যায়।

বেবিলাইটস: হাইলাইটসেরই সূক্ষ্মতম রূপ।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া নিবাসী সেলুন মালিক ও কালারিস্ট আনা ব্লিচ বলেন, “অনেক সময় একসঙ্গে ফয়েল ও বালায়াজ কৌশল ব্যবহার করে চুলে বেবিলাইটস করা হয়, যাতে রং আরও প্রাকৃতিক লাগে।"

বেবিলাইটস করার প্রক্রিয়া

চুলে বেবিলাইটস করতে মূলত হালকা রং (লাইটনার) ব্যবহার করা হয়। এটি প্রয়োগ করা যায় ফয়েল দিয়েও, আবার হাতের আঁচড়েও। মূল কৌশল হল ছোট ছোট চুলের গোছায় রং দেওয়া।

আনা ব্লিচ ব্যাখ্যা করেন, “চুলে কতটা হালকা রং করতে চাই, তার ওপর নির্ভর করে পুরো মাথায় বেবিলাইটস দেওয়া যায়। আবার শুধু নির্দিষ্ট অংশেও করা যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল— কোথায় শুরু হল বা কোথায় শেষ হল তা যেন বোঝা না যায়।”

অনেক সময় হাইলাইটের পর গাঢ় টোনের ‘গ্লেইজ’ ব্যবহার করা হয়, যাতে চুলের গোড়া থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত রং আরও প্রাকৃতিক লাগে। এতে চুল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংয়ের হঠাৎ পরিবর্তন চোখে পড়ে না।

যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ

চুলে রং করার পর সেটি দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।

মেরি কেট ও’কনর বলেন, “বেবিলাইটস সাধারণত আট থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালোভাবে টিকে থাকে। তবে যেহেতু এটি চুলের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে যায়, তাই ‘টাচ-আপ’ করার সময় আরও দেরি করা যায়।”

অর্থাৎ, এটি কম ঝামেলাপূর্ণ একটি কৌশল, যাকে বলে 'লো-মেইনটেন্যান্স কালার।'

যে কারণে বেবিলাইটস জনপ্রিয় হচ্ছে

স্বাভাবিকতা: চুলে রং করলেও তা আলাদা করে চোখে পড়ে না।

বহুমুখিতা: যে কোনো রং বা ধরনের চুলে মানিয়ে যায়।

দীর্ঘস্থায়িত্ব: দ্রুত টাচ-আপের প্রয়োজন পড়ে না।

নান্দনিকতা: চুলকে আরও উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে তোলে।

আরও পড়ুন

কেশ রাঙান নিজের তৈরি রংয়ে

চুলের জন্য সেরা রং নির্বাচনের পন্থা

চুলের রং দীর্ঘস্থায়ী করতে