Published : 04 Oct 2025, 05:44 PM
ধোয়ার কাজে যতটা কম সময় ব্যয় করার ইচ্ছা থাকে সবারই।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস’–এর তথ্য অনুযায়ী, নারীরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪.৪ মিনিট সময় ব্যয় করেন কাপড় ধোয়ার পেছনে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে প্রায় আট ঘণ্টা চলে যায় শুধু কাপড় ধোয়ার কাজে। যা একেবারে পূর্ণ একদিনের সমান কাজের সময়।
তাই কাপড় ধোয়ার ফাঁকে একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগোলে সময় এবং পরিশ্রম দুটোই বাঁচানো সম্ভব।
সব পোশাক প্রতিবার ব্যবহার করার পর ধোয়া প্রয়োজন হয় না। যেমন— শরীরচর্চার পোশাক বা মোজা প্রতিবার ব্যবহারের পর ধোয়া দরকার।
তবে অনেক পোশাকই কয়েকবার ব্যবহার করা যায়, যদি সেগুলো সঠিকভাবে যত্নে রাখা হয়।
বাতাসে মেলে দেওয়া: পোশাককে একটু শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ব্যবহার করা কাপড় যদি মেঝেতে ফেলে রাখা হয় অথবা ভাঁজ করে স্তূপ করে রাখা হয়, তাহলে সেগুলোতে দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা আটকে যেতে পারে। এতে পোশাক সতেজ থাকে না।
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গৃহস্থালী-কাজ-বিষয়ক লেখক মর্গ্যান নোল এই বিষয়ে বলেন, “বরং কাপড়গুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বা র্যাকে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। হালকা দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা সহজেই বের হয়ে যাবে এবং কাপড় দীর্ঘসময় সতেজ থাকবে।”
আরও ভালো উপায় হলো, কয়েক ঘণ্টার জন্য পোশাক বাইরে রোদে বা খোলা বাতাসে মেলে রাখা। এতে স্বাভাবিকভাবেই সতেজ গন্ধ ফিরে আসবে।
বাষ্পের ব্যবহার: বাষ্প একদিকে যেমন জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে কাপড়ের ভাঁজ দূর করতে দারুণ কার্যকর।
একটি স্টিমার ব্যবহার করে পোশাক ধোয়া ছাড়াই নতুনের মতো সতেজ রাখা যায়।
স্টিমার থেকে বের হওয়া উচ্চ তাপমাত্রার বাষ্প পোশাকে জমে থাকা হালকা দুর্গন্ধ দূর করে এবং ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
তবে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে, যাতে পোশাকের কাপড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা নিজে আঘাত না পান।
হালকা স্প্রে ব্যবহার: যেভাবে বাইরে যাওয়ার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, ঠিক একইভাবে কাপড়কেও ধোয়ার ফাঁকে সতেজ করা যায়।
বাজারে পাওয়া যায় এমন ‘ফ্যাব্রিক রিফ্রেশার স্প্রে’ ব্যবহার করা বা ঘরেই তৈরি করা যায় সহজ সমাধান।
বাড়িতে স্প্রে তৈরির উপায়
একটি স্প্রে বোতলে সমপরিমাণ পানি ও ডিস্টিল্ড সাদা ভিনেগার নিতে হবে।
পছন্দমতো কয়েক ফোঁটা এসেনশল অয়েল মিশিয়ে দিতে হবে।
এই মিশ্রণ বেশিরভাগ কাপড়ের জন্য নিরাপদ। তবে আগে একটি ছোট ও কম দৃশ্যমান অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত, যাতে রং বা কাপড় নষ্ট না হয়।
স্প্রে করার পর অবশ্যই কাপড় ঝুলিয়ে শুকাতে হবে। শুকানোর আগে আলমারিতে বা ড্রয়ারে রাখলে আর্দ্রতা আটকে গিয়ে উল্টো গন্ধ তৈরি হতে পারে।
ড্রায়ারের সাহায্যে সতেজ: যেমন বাতাসে মেলে রাখলে পোশাক সতেজ হয়, তেমনি ওয়াশিং মেশিনের ড্রায়ারের ‘এয়ার ফ্লাফ’ বা ‘নো হিট সেটিং’ ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
এই মোডে পোশাককে গরম ছাড়াই হালকাভাবে ঘোরানো হয়।
মাত্র ১৫ মিনিটেই কাপড় অনেকটা সতেজ হয়ে যায়। এতে ভাঁজ কমে, দুর্গন্ধ দূর হয় এবং হালকা আর্দ্রতা চলে যায়।
এটি বিশেষ করে তাদের জন্য কার্যকর, যাদের দ্রুত কোনো পোশাক পরে বাইরে যেতে হয়।
যে কারণে ধোয়া কমানো কাপড়ের জন্য ভালো
বারবার পোশাক ধোয়া মানে শুধু সময় ও শ্রম নষ্ট নয়, বরং কাপড়ের স্থায়িত্বও কমে যায়। অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট বা সাবান ও পানির সংস্পর্শে কাপড় দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে।
তাই যেখানে ধোয়ার প্রয়োজন নেই, সেখানে কাপড়কে সতেজ রাখার সহজ কৌশলগুলো অনুসরণ করলেই যথেষ্ট।
এছাড়া ধোয়ার ফাঁকে সতেজ রাখলে—
আরও পড়ুন