২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যে কারণে ধোয়ার আগে কাপড় আলাদা করা জরুরি

কিছু নিয়ম মানলে পোশাকের স্থায়িত্ব বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2025, 03:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

অনেকেই তাড়াহুড়োর কারণে একই সঙ্গে সব রংয়ের ও সব ধরনের কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ঢেলে দেন। হালকা রংয়ের প্রিয় টি-শার্ট কিংবা সাদা পোশাককে গাঢ় রংয়ের জিন্স বা কালো মোজার সঙ্গে ধুয়ে ফেললে পরে আফসোস করতে হয়।

কাপড় হয়ে যায় মলিন, রং চটে যায়, কিংবা কোথাও কোথাও অদ্ভুত দাগ বসে যায়। ফলে কাপড়ের আয়ু কমে আসে।

পোশাক বিশেষজ্ঞরা কাপড় ধোয়ার আগে আলাদা করার গুরুত্বর কথা বলেন।

‘গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স’য়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “কাপড় ধোয়ার আগে রং, কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা অনুযায়ী আলাদা করলে শুধু কাপড় পরিষ্কার হয় না, বরং দীর্ঘদিন নতুনের মতো থাকে।”

কাপড়ের আয়ু বাড়াতে ধোয়ার আগে আলাদা করা

তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “পোশাক, রং, কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা অনুযায়ী আলাদা করলে কাপড় দীর্ঘদিন ভালো থাকে। আলাদা না করলেও কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে না। তবে যদি সময় ও সুযোগ থাকে তাহলে আলাদা করাই উচিত। বিশেষ করে ঠাণ্ডা পানিতে ধুলে কাপড় অনেক দিন নতুনের মতো টিকে থাকে।”

অর্থা পোশাক দীর্ঘদিন ঝকঝকে রাখতে ধোয়ার সময় কাপড়ের রং ও ধরন অনুযায়ী আলাদা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রং ছড়ানো ঠেকাতে আলাদা করা

“কাপড় ধোয়ার আগে আলাদা করা একটি নিশ্চিত কৌশল। বিশেষ করে গাঢ় রংয়ের কাপড় ও হালকা রংয়ের কাপড় একসঙ্গে দিলে রং ছড়িয়ে যায়। ফলে সাদা জামা বা হালকা রংয়ের কাপড় হয়ে যায় মলিন।”- বলেন এই বিশেষজ্ঞ।

যদি নীল জিন্স, কালো ডেনিম বা গাঢ় নীল শার্টের সঙ্গে হালকা টি-শার্ট একসঙ্গে ধোয়া হয়, তবে সাদা বা হালকা রংয়ের টি-শার্টে রংয়ের ছাপ বসে যায়। ফলাফল, টি-শার্ট দেখতে হয়ে যায় নোংরা ও নিস্প্রভ।

কাপড়কে মলিন হওয়া থেকে বাঁচাতে

গাঢ় রংয়ের কাপড়গুলো একসঙ্গে ধুলে অনেক সময় রং ছড়ালেও বোঝা যায় না, কারণ সবই প্রায় একই রংয়ের।

তবে এর মধ্যে যদি একটি হালকা কাপড় পড়ে যায় তাহলে সেটির ওপর রং লেগে দেখতে মলিন হয়ে যায়। তখন আর সেটি পরার মতো থাকে না।

অনেকে শেষ পর্যন্ত সেই কাপড়কে ঝাড়ন বা মুছনির কাজে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় সরাসরি ফেলে দিতেও বাধ্য হন।

যেভাবে কাপড় আলাদা করতে হয়

যত্নের লেবেল পড়া: নতুন কাপড় বা যেসব কাপড় ধোয়ার নিয়ম জানা নেই, সেগুলোর ট্যাগে থাকা যত্নের লেবেল ভালোভাবে পড়তে হবে। এতে বোঝা যাবে কোন তাপমাত্রায় ধোয়া উচিত, মেশিনে কোন ধরনের ‘ওয়াশ সাইকেল’ ব্যবহার করতে হবে, কিংবা কাপড়টি শুকানোর নিয়ম কী।

যেসব কাপড়ে শুধু ড্রাই ক্লিন লেখা থাকে, সেগুলো অবশ্যই মেশিনে ধোয়া যাবে না।

রং অনুযায়ী আলাদা করা: প্রথমে কাপড়কে রং অনুযায়ী ভাগ করতে হবে। সাদা, হালকা ধূসর, প্যাস্টেল রং— একসঙ্গে ধুতে হবে।

নীল, বাদামি, গাঢ় ধূসর, কালো, লালসহ গাঢ় রংগুলো একসঙ্গে রাখতে হবে।

কাপড়ের ধরন অনুযায়ী আলাদা করা: এরপর প্রতিটি ভাগ থেকে পোশাক আলাদা করতে হবে কাপড়ের ধরন অনুযায়ী। যেমন—

জিন্স, কটন টি-শার্ট আলাদা।

হালকা কৃত্রিম কাপড় বা অন্তর্বাস আলাদা।

তোয়ালে বা সুতি কাপড় থেকে মাইক্রোফাইবারের কাপড় বা কম্বল আলাদা করতে হবে।

বিশেষত নাজুক কাপড় মেশিনে দেওয়ার আগে জালের ব্যাগে ভরে দেওয়া ভালো। এতে কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

বেশি নোংরা কাপড় আলাদা করা: যেসব কাপড়ে কাদা লেগেছে বা তেল-চর্বি আছে, সেগুলো হালকা ময়লা কাপড়ের সঙ্গে ধোয়া উচিত নয়। এতে অন্য কাপড়েও ময়লা লেগে যায়। তাই এগুলো আলাদা করে ধোয়া প্রয়োজন।

শুকানোর সময়ও সতর্কতা: শুধু ধোয়ার সময় নয়, শুকানোর সময়ও কাপড়ের ধরন অনুযায়ী আলাদা করা দরকার।

ভারী কাপড় শুকাতে বেশি সময় লাগে, হালকা কাপড় শুকাতে কম। একসঙ্গে দিলে হালকা কাপড় অতিরিক্ত শুকিয়ে এর তন্তু নষ্ট হয়ে যায়, আর ভারী কাপড় ভিজাই থেকে যায়, ফলে দুর্গন্ধ হয়।

তাই সবসময় লেবেলে লেখা নির্দেশনা দেখে শুকাতে হবে। কিছু কাপড় অবশ্যই সমতল জায়গায় মেলে বা দড়িতে ঝুলিয়ে শুকাতে হবে।

যে কারণে আলাদা করা জরুরি

আরও পড়ুন

কাপড় ছাড়াও যা ধোয়া যায় ওয়াশিং মেশিনে

ধোয়ার ভুলে নষ্ট হচ্ছে কাপড়

কাপড় ধোয়াতে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার