Published : 31 Mar 2026, 10:47 AM
উৎসব, আনন্দ, লম্বা ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে ফিরেও মন উদাস থাকে। কাজ করতে ইচ্ছে হয় না, কোনো কোনো সময় শরীরও দুর্বল লাগে – এই অবস্থাকে মনোবিদেরা বলেন ‘পোস্ট-হলিডে ব্লুজ’।
ছুটির সময় রুটিন একেবারে বদলে যায়। দুশ্চিন্তা কম থাকে, ঘুম-খাওয়া-আড্ডার সময়সূচি অনিয়মিত হয়। আনন্দ আর স্বাধীনতার অনুভূতি প্রবল থাকে। তবে ছুটি শেষ হলে হঠাৎ সেই স্বাধীনতা চলে যায়, আবার পুরানো ব্যস্ততা ফিরে আসে। জীবনের বড় কোনো পরিবর্তন— এমনকি ইতিবাচক হলেও, মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
ছুটির পর এই আকস্মিক পরিবর্তন মনকে বিচলিত করে। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে জীবনটা যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “এই অনুভূতিকে মনোবিজ্ঞানে ‘পোস্ট-হলিডে ব্লুজ’ বা ছুটির বিষণ্ণতা বলা হয়। এটি কোনো মানসিক রোগ নয়, বরং একটি সাময়িক মানসিক অবস্থা। ছুটির আনন্দময় পরিবেশ থেকে হঠাৎ করে ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসার ধাক্কায় এমনটা হয়।”
ডা. দিনা আরও বলেন “ছুটির পর মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সঠিক অভ্যাস ও যত্নে এই সময়টাকে সহজ করে তোলা যায়। নিজেকে সময় দিন, ছুটির সুন্দর স্মৃতিগুলোকে লালন করুন এবং ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে ফিরে আসুন। দেখবেন, জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।”
‘পোস্ট-হলিডে ব্লুজ’য়ে সাধারণত দেখা যায়-
এই লক্ষণগুলো সাধারণত কয়েক দিন থেকে সপ্তাহখানেকের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।
যেভাবে কাটাবেন ছুটির বিষণ্ণতা
ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “ছুটির পর মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস এই সময়টাকে অনেক সহজ করে দিতে পারে।”
পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত জীবনযাপন: ছুটির অনিয়মিত ঘুম-খাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরিয়ে আনুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত খাবার শরীর ও মনকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
নিজের জন্য সময় রাখা: কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন। হাঁটুন, পছন্দের গান শুনুন, বই পড়ুন বা যা ভালো লাগে তা করুন। এতে মানসিক চাপ কমবে।
ধীরে ধীরে রুটিনে ফেরা: ছুটি শেষ হওয়ার পর হঠাৎ পুরো কাজের চাপ না নিতে চেষ্টা করতে হবে। প্রথম দুয়েকদিন ধীরে ধীরে কাজ শুরু করুন। এতে মানসিক চাপ কম লাগবে।
ছুটির স্মৃতি উপভোগ করা: ছুটিতে তোলা ছবি দেখুন, ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন। এতে ইতিবাচক অনুভূতি বজায় থাকে এবং মন হালকা হয়।
নতুন কিছু পরিকল্পনা করা: পরবর্তী ছোট ছুটি বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। এতে ভবিষ্যতের জন্য আগ্রহ তৈরি হয় এবং বর্তমানের শূন্যতা কমে।
কখন সতর্ক হবেন
সাধারণত এই বিষণ্ণতা কয়েক দিনের মধ্যে কেটে যায়। তবে মন খারাপ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, কাজকর্মে বড় সমস্যা তৈরি করলে, ঘুম বা খাওয়ায় সমস্যা হলে কিংবা উদ্বেগ-বিষণ্নতা বেড়ে গেলে- মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন, ডা. দিনা।
কারণ কখনও কখনও এটি অন্য কোনো মানসিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিষণ্নতা নিয়ে সাতটি অদ্ভুত তথ্য
বিষণ্নতার কারণে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা দেয়