Published : 24 Jun 2026, 05:35 PM
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে, স্বাভাবিকভাবেই একটি বড় প্রভাব বিস্তার করেছে জীবনধারা ও কেনাকাটার বাজেটে।
তবে পকেটে টান পড়েছে বলেই কি ফ্যাশন বা ট্রেন্ডি থাকা বাদ দিতে হবে? ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদমই নয়!
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ফ্যাশন দুনিয়ায় যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু চৌকস কৌশল। আর নামিদামি ব্র্যান্ডের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ না করেও নিজের ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ ধরে রাখা যায়।
নতুন সমীকরণ: 'কস্ট পার ওয়্যার'
ভোক্তারা এখন জামাকাপড় কেনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি গাণিতিক হিসাব বা 'ক্লোজেট ম্যাথ' ব্যবহার করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল গণমাধ্যম ইউএস ম্যাগাজিন-এর একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে, কোন পোশাকের দাম কত, তা বড় কথা নয়; বরং পোশাকটি কতবার পরা হচ্ছে, সেটাই আসল হিসাব।
ধরা যাক, ট্রেন্ড দেখে খুব সস্তায় একটি টি-শার্ট কিনলেন। তবে মাত্র দুবার পরার পর সেটির রং চটে গেল বা ফেঁটে গেল, তাহলে প্রতিটি পরার পেছনে খরচ অনেক বেশি হল।
এর চেয়ে যদি একটু ভালো মানের কোনো টেকসই জ্যাকেট, ব্লেজার বা টিশার্ট কেনা হয় যা তিন বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার করা পরা হল, তবে প্রতিবার পরার পেছনে খরচ হবে মাত্র কয়েক টাকা।
অর্থাৎ, সস্তা ও ট্রেন্ডি জিনিস বারবার না কিনে, একটু ভালো মানের ‘বেসিক’ পোশাকে বিনিয়োগ করাই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে আসল বুদ্ধিমত্তা।
জাদুর অনুপাত: ৮০/২০ নিয়ম
মূল্যস্ফীতির এই সময়ে পকেট বাঁচাতে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ভেরোনিকা বিয়ার্ড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভেরোনিকা সোয়ানসন বিয়ার্ড, পোশাকের আলমারি গোছানোর জন্য একটি জাদুর অনুপাত শেয়ার করেছেন,
ফোর্বস ডটকম’য়ে প্রকাশিত হওয়া প্রতিবেদনে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “বাজেটের মধ্যে ট্রেন্ডি থাকার সেরা উপায় হল, নিজের আলমারিতে ৮০ শতাংশ নিউট্রাল বা ক্লাসিক পোশাক এবং ২০ শতাংশ ট্রেন্ডি বা অ্যাকসেন্ট রংয়ের পোশাক রাখা।”
নিউট্রাল বা সাধারণ রংয়ের মধ্যে কালো, নেভি ব্লু, বেইজ, অফ-হোয়াইট প্যান্ট, শার্ট বা কুর্তি রাখা যেতে পারে, যা সহজেই যে কোনো কিছুর সঙ্গে ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ বা অদল-বদল করে পরা যায়।
আর বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে উজ্জ্বল রংর স্কার্ফ, কোনো জ্যাকেট বা কানের দুল; যা দিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা যায়।
এর ফলে অল্প কয়েকটি পোশাকেই তৈরি হবে ডজন ডজন নতুন ভাব ‘লুক’!
‘ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব’-এর ট্রেন্ড
অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন ডিজাইন পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ জ্যাঙ্কোভিচ হ্যারল্ড সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “একটি সুপরিকল্পিত ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব থাকলে, আপনাকে বারবার শপিংয়ে যেতে হবে না। অথচ আপনি প্রতিবারই একটি ভিন্ন লুকে সবার সামনে হাজির হতে পারবেন।”
ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব হল এমন একটি মিনিমালিস্ট ধারণা, যেখানে খুব সামান্য তবে মানসম্মত কিছু পোশাক (যেমন- একটি ভালো ব্লু জিন্স, ক্লাসিক হোয়াইট শার্ট, এবং ভালো মানের ব্লেজার) রাখা হয়। যা দিয়ে বছরজুড়ে হরেক রকমের মিশ্রণ তৈরি করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, “প্রতি মৌসুমে নতুন পোশাক কেনার চেয়ে পুরনোগুলোর সঙ্গে শুধু একটি বা দুটি নতুন ট্রেন্ডি অ্যাকসেসরিজ (যেমন- স্টাইলিশ বেল্ট বা জুতা) যোগ করলেই পুরো ভাব বদলে যায়।”

পুনর্বিন্যাস
নতুন পোশাক কিনতে না পারলে পুরানো পোশাকেই ‘টুইস্ট’ আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্যাশন পোর্টাল ফ্যাশন ক্যাপিটাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নতুন পোশাক না কিনে নিজের আলমারিতে থাকা পুরানো জিন্স বা কুর্তিতে লেস, এমব্রয়ডারি বা প্যাচ যোগ করে সেটিকে একদম নতুন ও ট্রেন্ডি রূপ দেওয়া সম্ভব।”
পাশাপাশি, কানাডার সিটিভি নিউজ-এর ‘বিজনেস অ্যান্ড লাইফস্টাইল’ কলামে উল্লেখ করা হয়, “থ্রিফট শপ’ মানে সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য পাওয়া যায় এমন দোকান থেকে, কম দামে কেনা বা আলমারিতে পড়ে থাকা আলগা বা ঢিলেঢালা কোনো পোশাককে একজন ভালো দর্জির কাছে নিয়ে, নিজের মাপে কাট-ছাঁট করিয়ে নিলে ‘হাই-এন্ড’ বা দামি পোশাকের মতো ‘লুক’ দেয়।
গয়না এবং অনুষঙ্গের ওপর জোর দেওয়া
পোশাক সাধারণ হলেও, কম খরচে ‘ট্রেন্ডি লুক’ পাওয়ার কৌশল হল, সঠিক অনুষঙ্গের ব্যবহার।
ফ্যাশন টাইমস ডটকম’য়ে এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, অতিরিক্ত জমকালো বা ভারী নকশার গয়না বাদ দিয়ে, হালকা তবে এলিগ্যান্ট বা মার্জিত ধাতব গয়না বেছে নেওয়া যেতে পারে।
একটি সাধারণ সাদা শার্ট আর জিন্সের সঙ্গে শুধু একটি স্টাইলিশ ব্যাগ কিংবা একটি মার্জিত বেল্ট পরলেই, ফ্যাশনেইবল দেখানো যায়।
আরও পড়ুন
ভ্রমণে কোন কাপড়ের পোশাক হবে সেরা সঙ্গী?