Published : 05 Mar 2026, 03:52 PM
রোজা রাখার কারণে অনেকেরই একটি সাধারণ অভিযোগ শোনা যায়— পেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মলত্যাগে অসুবিধা হচ্ছে, কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “রোজার সময় খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের রুটিন ও শারীরিক পরিশ্রমের পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য খুব সাধারণ হয়ে ওঠে।”
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানি কম গ্রহণ, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার, কম আঁশযুক্ত খাদ্য ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা— এসব মিলে পেটের গতি কমে যায়- মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।
তবে সামান্য সতর্কতা ও কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে রোজায় পেট ভালো রাখা সম্ভব।
কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারণ আঁশের অভাব। সেহরি ও ইফতারে আঁশজাতীয় খাবার অবশ্যই রাখতে হবে। লাউ, ঢেঁড়স, পেঁপে, আপেল, কলা, লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস, বিভিন্ন ডাল ও ছোলা— এসব খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে।
খেজুরে আঁশের পরিমাণ খুব বেশি। ইফতার ও সেহরিতে অন্তত একটি করে খেজুর খেলে মল নরম হয় এবং মলত্যাগ সহজ হয়।
পানির অভাব কোষ্ঠকাঠিন্যের আরেক বড় কারণ। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কমপক্ষে আট গ্লাস পানি অল্প অল্প করে গ্রহণ করতে হবে।
অতিরিক্ত চা, কফি বা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো প্রস্রাব বাড়িয়ে শরীর থেকে পানি বের করে দেয়।
ইফতারে ইসবগুলের ভুসি বা চিয়া বীজ পানিতে ভিজিয়ে খেলে পেট খুব ভালো থাকে। সেহরিতে খাওয়া শেষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হালকা গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে গ্রহণ করলে অন্ত্রের গতি বাড়ে।
প্রক্রিয়াজাত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে পেট বন্ধ হয়ে যায়। রান্নায় তেল কম ব্যবহার করতে হবে।
খাবার ভাজার বদলে সেদ্ধ বা ভাপানো খাবার বেছে নিলে উপকার মিলবে।
রাতে খেয়ে শুয়ে পড়া যাবে না। খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করা উপকারী।
রোজায় সকালে ব্যায়াম সম্ভব না হলেও রাতে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে অন্ত্রের গতি বাড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
নিয়মিত টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ডা. নয়ন বলেন, “একই সময়ে টয়লেটে যাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রাকৃতিক খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত শরীরচর্চা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর।”
রোজা রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ওষুধের আগে প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করতে হবে। আঁশসমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত পানি, হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত টয়লেটের অভ্যাস গড়ে তুললে রোজা সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক কাটবে।
আরও পড়ুন