খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে অসুস্থ হলে সুস্থ হতে কতদিন লাগে

অবস্থা কতটা খারাপ হবে সেটা নির্ভর করে কোন ধরনের বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত হচ্ছে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 11:53 AM
Updated : 7 Feb 2024, 11:53 AM

খাবারের বিষাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে একবার যে অসুস্থ হয় সেই বুঝে এর ব্যথা।

আর কোনোভাবেই দ্বিতীয়বার এই অভিজ্ঞতা নিতে চায় না কেউ। তাই কোন ধরনের খাবার খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি সে ব্যাপারে ধারণা থাকা ভালো।

“কতক্ষণে শরীর বিষাক্ত পদার্থ বের করতে পারবে সেটা নির্ভর করে খাবারের পরিমাণ, জীবাণুর ধরনের ওপর” – সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্টপ ফুডবর্ন ইলনেস’য়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিটজি বাম।

বেশিরভাগ সময় খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে অসুস্থ হওয়া থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

যেভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়া শুরু হয়

বিষাক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকেই খাদ্যে বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত হতে হয়। আর তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় গেলেই এই অবস্থা তৈরি হয়। যেটা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

ঘরের এরকম তাপমাত্রায় অনেকক্ষণ রেখে দেওয়া খাবার আর ভালো মতো রান্না না করা বা কাঁচা খাবার খেলে এই সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

‘ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার’য়ের তথ্যানুসারে- ই.কোলি, স্ট্যাফিলোককাস অরিয়াস ও সালমোনেলা ব্যাক্টেরিয়া ২০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে নিজেদের বংশ বৃদ্ধি করে বিপজ্জনক মাত্রায় চলে যেতে পারে।

খাদ্যে বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত হতে কতক্ষণ লাগে?

বেশিরভাগই মনে করেন খাদ্যে বিষক্রিয়া সাথে সাথেই শুরু হয়। তবে সবসময় নয়।

এই বিষয়ে নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’য়ের ‘মেডিকেল টক্সিকোলজি’ বিভাগের পরিচালক নিমা মাজলেসি বলেন, “কোন ধরনের ব্যাক্টেরিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে সেটার ওপর খাদ্যে বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা নির্ভর করে।”

কোনো কোনো ব্যাক্টেরিয়ার বংশবৃদ্ধি করতে এক থেকে দুদিন লাগে।

তিনি জানান, কেউ যদি খাবার খেয়েই দ্রুত অসু্স্থ হয়ে যায় তবে সেটা হতে পারে স্ট্যাফিলোককাস অরিয়াস। যাকে বলে ‘স্ট্যাফ ফুড পয়েজনিং’।

এই ব্যাক্টেরিয়া যে বিষ তৈরি করে তাতে যে কেউ খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ হতে পারেন।

আর লক্ষণগুলো হল পেটব্যথা, বিতৃষ্ণাবোধ ও বমি।

সেরে উঠতে কতক্ষণ লাগে?

‘স্ট্যাফ’ বিষক্রিয়ার কারণে অসুস্থ হলে সাধারণত সেরে উঠতে একদিনের বেশি সময় লাগে না। আর বেশিরভাগ খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে অসুস্থ হলে এক থেকে দুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।

“তবে সেরে উঠলেও প্রভাব থেকে যেতে পারে দুই থেকে চার সপ্তাহ”- মন্তব্য করেন ম্যানহাটনের মেডিকেল অফিসের ‘গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. প্রতিমা দিব্বা।

মাজলেসি বলেন, “কোনো কোনো খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সেরে উঠতে ১৪ দিন লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে চলতে পারে ডায়রিয়া। সাধারণভাবে বলা যায়- যত বেশি গুরুতর সময়কাল তত কম।”

তাড়াতাড়ি সেরে ওঠার কোনো পন্থা আছে কি?

ডা. দিব্বা বলেন, “কোনো একক চিকিৎসা নেই যে এটা দ্রুত সারিয়ে তুলবে। শরীরে যতক্ষণ বিষ থাকবে সেটা বের করে দিতে কাজ করে যাবে শরীর। আর সাধারণত এক্ষেত্রে সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা।

স্বস্তি পেতে আর পানিশূন্যতা রোধে প্রতিনিয়ত আর্দ্র থাকার পরামর্শ দেন মাজলেসি।

“যদি ইলেক্ট্রোলাইট সলিউশন পান করেন তবে কম চিনি দেওয়াটা বেছে নিতে হবে। কারণ চিনি ডায়রিয়ার পরিস্থিতিকে আরও বেগতিক করে দেয়”- বলেন তিনি।

এছাড়া পানিতে মিশিয়ে ফলের রসও পান করা উপকরী। আর এই সময়ে খুবই হালকা মসলা দেওয়া খাবার খেতে হবে। ভারী কোনো খাবার খাওয়া যাবে না। পেটকে বিশ্রামের সময় দিতে হবে। ডায়রিয়া বন্ধ করার ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

২৪ ঘণ্টা পর অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া শুরু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উচ্চ কার্বোহাইড্রেইট সমৃদ্ধ খাবার উপকারী, যেমন- কলা, ভাত, টোস্ট ইত্যাদি।

বিতৃষ্ণা ও বমি থাকলে অতিরিক্ত মসলাদার, দুগ্ধজাত, গ্যাস তৈরি করে ও উদ্ভিজ্জ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে- পরামর্শ দেন ডা. দিব্বা।

তিনি বলেন, “অনেকেই মনে করে এই সময় সালাদ খেলে রোগ প্রতিরোধের শক্তি বাড়বে। তবে উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেয় আর ফোলাভাব ও পেটে অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।”

যখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত

সবার শরীর এক নয়। কোনো কোনো পরিস্থিতে বিশেষ করে বয়স্ক ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

পাশাপাশি মাজলেসি আরও পরামর্শ দেন, “মাথা হালকা লাগা, ডায়রিয়ার সাথে রক্ত যাওয়া আর সপ্তাহ পার হয়ে গেলে অবস্থার উন্নতি না হলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।”

ডা. দিব্বার ভাষায়, “যদি অসুস্থতার পরিমাণ বাড়তেই থাকে আর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা্ কাজ না করে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবেই।”

আরও পড়ুন

খাদ্যের বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে

Also Read: যেসব খাবার থেকে হতে পারে বিষক্রিয়া

Also Read: ঝাল খাবার থেকে যেসব সমস্যা হতে পারে

Also Read: খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ